1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

আগে পুনর্বাসন পরে হকার উচ্ছেদ : শামীম ওসমান

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০
  • ৬৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে মিছিল হচ্ছে, হকাররা মিছিল করছে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে। তারা শহরের ফুটপারেত বসতে চায়। পুলিশ গিয়ে আবার সেখান থেকে উঠাচ্ছেন। আমি কাউকে দায়ী করছি না। আমি হকারদের পক্ষে না। তবে আগে পূণর্বাসন করতে হবে, তার পর উঠান। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা।
শামীম ওসমান বলেন, আমার বক্তব্য পরিস্কার, আমরা যারা রাজনীতি করি মানে আওয়ামীলীগ করি। বঙ্গবন্ধু তার জীবনে প্রত্যেকটা সাবজেক্টে বলে গেছেন, এমনকি ৭ই মার্চের ভাষনেও বলে গেছেন যে কি কি বন্ধ থাকবে। গরীব মানুষের যাতে কস্ট না হয়। রিকসা চলবে, ঠ্যালা গাড়ি চলবে। অর্থাৎ ওনার (বঙ্গবন্ধু) রাজনীতি ছিল গরীব মানুষের জন্য। তার কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও সফলভাবে গরীব মানুষের জন্যই রাজনীতি করছেন। আমি পুলকিত হয়েছি, নিজেকে ধন্য মনে করেছি যে পার্লামেন্টের মিটিংয়ে ওনি (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যে ভাষায় আমাদের কথা বলেছেন, অনেকে হয়তো বুঝতে পারেননি, ওনি বলেছেন জাতির পিতার জন্য আমাদের দুই বোনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ম্যুরাল নির্মাণ করা না, বিনা কারণে ব্যয় করা না, গরীব মানুষের জন্য পারেন সরকারী কি বেসরকারীভাবে কিছু করেন। যদি আপনি পারেন কিছু করেন প্লাস সরকারেরটাও নেন। নিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেন। দুইটা মানুষকে ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তাহলেই প্রকৃতভাবে জাতির পিতার শততম জন্ম বার্ষিকী পালন সার্থক হবে। এটাই সত্য।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে বিসিক শিল্প নগরী পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবং অনুষ্ঠানের পর কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সাথে একান্ত আলাপকালে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমার বিষয়টা হচ্ছে কয়দিন পর পরই নারায়ণগঞ্জের হকার বিষয়টা নিয়ে কথা উঠে। হকার তো একটা সাবজেক্ট না। মানুষ। কি করছে? ভদ্র লোক একটা ছোট পুঁজি নিয়ে রাস্তার পাশে কাজ করে (ব্যবসা) খাচ্ছে। হয়তো কেউ এর থেকে চাঁদা নিচ্ছে। কেউ নিচ্ছে না। শুধু নারায়ণগঞ্জে আছে তা না, সারা বাংলাদেশেই হকার আছে। আর নারায়ণগঞ্জটা বাংলাদেশের বাইরে না। ঢাকা সিটির এমন কোন গলি নাই যেখানে হকার নাই বা বসে না। মেইন রোডের উপর বসে। এরআগের মেয়র উঠাতে গিয়েছিলেন। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আগে পুনর্বাসন করো, তারপর উচ্ছেদ করো।
শামীম ওসমান বলেন, আমার কথা হলো একটা, মুল পরিচয়টা কি আমি মানুষ। একটা গানও আছে “ মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারে না, ও বন্ধু”। এই গানটা একটা টার্চি গান। আমার কথা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনটা? আমি সিটি করপোরেশনকে আঘাত করার জন্য বলছি না। আমি সাপোর্ট করার জন্য বলতেছি। আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনটা?
শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘হকারকে উঠিয়ে দেওয়া বেশি জরুরী নাকি মানুষের পেটে ভাত দেওয়াটা বেশি জরুরী? যারা এটি করতে চান তাদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন, গরীব অপসারণ করা দরকার নাকি লিংক রোডের দুইপাশে ময়লা আবর্জনার স্তুূপ অপসারণ দরকার? ময়লা পুড়িয়ে যে পয়জন তৈরী হচ্ছে সেই পয়জনটাকে অপসারণ করা উচিৎ? কাকে নিধন করবেন? এই গরীব মানুষগুলোকে নিধন করবেন? নাকি রাতে বেলা মশার জন্য মানুষ ঘুমাতে পারে না। সেই মশক নিধন করবেন। কোনটা করবেন? ভাঙ্গা রাস্তাকে ঠিক করবেন? না যেই মানুষগুলি একটু কস্ট করে পুঁজি খাটিয়ে আস্তে আস্তে কোমর সোজা করে দাড়িয়ে তার বাচ্চাদের সুন্দর একটা ভবিষ্যত করার চেষ্টা করছেন তাদের কোমরটা ভেঙ্গে দিবেন? আমার প্রশ্ন এইটা।
আর আমার কথা একবারে পরিষ্কার। যে ঠিক আছে ৪-৫ হাজার পরিবার করে খাচ্ছে। ৫ হাজার পরিবার মানে ৫০ হাজার লোক খাচ্ছে। উপকৃত হচ্ছে আরো ২০-৩০ হাজার পরিবার। এখান থেকে যারা মানে রাস্তা থেকে কেনাকাটা করে। ভালো দোকান থেকে কিনতে পারে না। তারা এখান থেকে শীত বস্ত্র, ঈদের সময় কিনে, পূজার সময় কিনে, নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে। বাদ দেন তারা কি গ্যারান্টি দিবেন? যদি এই ফুটপাত কমপ্লিটলি হকারমুক্ত হয়ে যায়, তাহলে আর যানজট হবে না। এক মিনিটের জন্য নারায়ণগঞ্জে আর যানজট হবে না। যদি তাই হয় তাহলে উঠিয়ে দেন আমার আপত্তি নাই। বুঝে নিবো ভালো কিছু পেতে হলে কিছু ক্ষয় করতে হয়। সেই গ্যারান্টিটা দেক। আর না হলে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে রাজনীতি করে , বঙ্গবন্ধুর প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে , বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে কেউ যদি গরীবের পেটে লাথি মারে , তাদেরকে মাথায় রাখতে হবে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা। তার রাজনীতি গরীবের জন্য। আর আমরা তার কর্মী। আমাদের রাজনীতিও গরীবের জন্য।
তাই পরিশেষে বলবো পুনর্বাসন করেন, একটা বিকল্প ব্যবস্থা করেন। সব চেয়ে বড় জরুরী হচ্ছে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা। আর এটা মুজিববর্ষ। যার আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ বিশ্বাস, বিকেএমইএ নেতা সোহেল সারোয়ার, নিটিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, এহসানুল হাসান নিপু, আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, এমএ মান্নান প্রমুখ।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart