1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

করোনার ধাক্কায় টাকা ছুঁইছে রুপিকে

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০
  • ১৬৩ জন সংবাদটি পড়েছেন

# রুপির ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন
# টাকার মান অবমূল্যায়নের পরামর্শ
# সমস্যায় পড়বে রফতানি বাণিজ্য

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপির রেকর্ড মূল্যপতন হয়েছে। এতে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ডলারের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে টাকার মান।

রুপির নিম্নমুখী ধারায় চলতি সপ্তাহে রেকর্ড দরপতন হয়। মঙ্গলবার একটা পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম নেমে দাঁড়িয়েছিল ১১০ টাকায়। অতীতে কোনো সময় এতো কম দামে রুপি পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিকভাবে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সংক্রমণের হার নয় বরং ‘বিচ্ছিন্ন’ ও ‘অবরুদ্ধ’ করার নীতিই বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলার ও টাকার বিপরীতে রুপির মান অবমূল্যায়ন হয়েছে।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক মার্কিন ডলারে বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৮৫ রুপি। এখন এক ডলারে পাওয়া যাবে ৭৫.৮৫ রুপি। চলতি সপ্তাহে মঙ্গলবার(২৪ মার্চ) এটি এক পর্যায়ে প্রতি ডলার ৭৭ দশমিক ৩৩ রুপিতে নেমেছিল। যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দর।

ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রাও শক্তিশালী হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) একটা পর্যায়ে ১১০ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ১০০ রুপিতে মিলেছে ৯০ টাকা।

আর ২৬ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১১ পয়সা।টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এযাবৎকালের সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৮ সালে অক্টোবরে রুপিতে মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১৩ পয়সা।

এদিকে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান দাড়িয়েছে ৮৪ টাকা ০৮ পয়সা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে। তবে সাধারণ মানুষ, যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের প্রায় ৮৮ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভারতে রফাতনি রেমিট্যান্স কমে গেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে রুপির মান অবমূল্যায়ন হয়েছে। তবে রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে।

তবে ভরতে ডলারের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের রফতানিকারকরা কিছুটা সমস্যায় পড়বেন। তাই বাংলাদেশেরও টাকার মান নির্ণয়ে চিন্তা করা উচিত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা২৪ বিডি নিউজকে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভালো সময় এখন যাচ্ছে না। ভরতের অবস্থাও একই। তাদের রফতানি, রেমিট্যান্স কমেছে। অন্যদিকে চাহিদা অনেক বেড়েছে। এতে তাদের আয় কমে গেছে। ফলে তাদের কারেন্সি ডিভ্যালুয়েশন (মুদ্রার অবমূল্যায়ন) করেছে। তাই রুপির দাম কমে গেছে।

রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হলে আমাদের খুব বেশি লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্য আমদানি-রফতানিতে তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা কিছুটা লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে। কিন্তু করোনার কারণে ভ্রমণ বন্ধ তাই এ সুবিধাও কাছে লাগবে না।

তবে ভরতে মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় দেশ থেকে যারা ভারতে পণ্য রফতানি করেন তারা কিছুটা সমস্যায় পড়বেন। কারণ রফতানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, ফলে তাদের চাহিদা কমবে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় টাকার মান অবমূল্যায়ন পরামর্শ দিয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, সময় এসেছে টাকার মান অবমূল্যায়ন করার। কারণ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইন্ডিয়ার মুদ্রার মান কমেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার মান কৃত্রিমভাবে ধরে রাখছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন চিন্তা করা উচিত কিছুটা হলেও এটি কমানো। তা না হলে রফতানি চ্যালেঞ্জে পড়বে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার প্রভাবে দেশের পোশাক কারখানায় একের পর এক ক্রয় আদেশ স্থগিত করছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। ফলে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত ৯৫৪টি পোশাক কারখানার আট কোটি ২২ লাখ ৯১ হাজারটি ক্রয় আদেশ স্থগিত করেছে। যার আর্থিক পরিমাণ দুই দশমকি ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব কারখানায় ১৯ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও বহুবিধ পতনের মধ্য দিয়ে চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকের পরও এ অবস্থা চলতে থাকলে গভীরতর মন্দায় প্রবেশ করবে বৈশ্বিক অর্থনীতি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র চীনে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এ ভাইরাসের প্রভাবে যে ক্ষতির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদন বলছে, ফেব্রুয়ারিতে চীনের উৎপাদন ও সেবা খাতে রেকর্ড পতন হয়। গাড়ি বিক্রি কমে যায় রেকর্ড ৮০ শতাংশ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির রফতানির পতন হয় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ অবস্থায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পতন হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমন হলে তা হবে ১৯৯২ সালে প্রান্তিক অনুযায়ী পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরুর পর চীনের প্রথম আর্থিক সংকোচন।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart