1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

ডিএসইও বলল ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড দিতে

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১৩৭

মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক ডিলারদের স্বল্প সুদে সিকিউরড ঋণের ব্যবস্থা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে ১০ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল গঠনের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এর আগে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত অক্টোবরে সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থের জোগান চাওয়া হয়।

শেয়ারবাজার চাঙা করতে স্বল্প সুদে মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের পক্ষ থেকে এ অর্থ চাওয়া হলেও এতদিন ডিএসই এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে। তবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে ডিএসই আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের পক্ষে অবস্থান নিল।

এ বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে বলা হয়েছে, বাজারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক ডিলারদের স্বল্প সুদে সিকিউরড ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ বিষয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, আমরা সে প্রস্তাবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। এ অর্থ একটি নির্দিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র শেয়ার ক্রয় এবং বিক্রয়ে বিনিয়োগ করা যাবে এবং যেখান থেকে শুধু মুনাফা উত্তোলন করা যাবে।

১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিএসইর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে-গ্রামীণফোন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন, বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন, অডিট রিপোর্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা, সরকার ও বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনা, টি-বন্ডের লেনদেন চালু করা, ডিএসই ও পুঁজিবাজারের লেনদেনের ওপর কর কমানো এবং আইসিবি ও অন্যান্য সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবির পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছে ডিএসই।

গ্রামীণফোন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বন্দ্বের নিরসন

ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশে বড় মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির দ্বন্দের কারণে বাজারে প্রভাব পড়ছে। গ্রামীণফোনের শেয়ার পুঁজিবাজার মূলধনের একটি বড় অংশ ধারণ করছে। এ বিষয়টি নিস্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজিবাজারে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত নিস্পত্তি পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবে।

বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণ

বর্তমানে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে কিন্তু তাদের খুব অল্প সংখ্যক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে। এ লক্ষ্যে সরকার ওই সকল কোম্পানিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে সহযোগিতা করতে পারে।

পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা

ডিএসই বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ঋণ মওকুফের নীতি সঠিক বাস্তবায়ন এবং ঋণ খেলাপিদের যথাযথ আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের একটি বড় বাধা হচ্ছে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। বড় এবং ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে আনার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ লক্ষ্যে সরকার পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার অফলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, সাধারণ বীমা ও জীবন বীমার মতো লাভজনক কোম্পানি ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের অফলোডের ব্যবস্থা করা।

টি-বন্ডের লেনদেন চালু

ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্ল্যাটফর্মে চালু করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রস্তাবনা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে টি-বন্ডকে এক্সচেঞ্জের প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে বলেছে ডিএসই।

অডিট রিপোর্টের স্বচ্ছতা

ডিএসই বলেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে হিসাববিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্বচ্ছ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঠিক দিকনির্দেশনার দায়িত্বও পেশাগত হিসাববিদদের। ফলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিরীক্ষকদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার ওপর জোর প্রদানসহ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্টের সঠিক প্রয়োগ, নিরীক্ষকদের কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলা, নিরীক্ষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সঠিক অডিট ফি প্রদানের মাধ্যমে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আইসিবি ও অন্যান্য সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি

আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বর্তমান বাজার মূলধন বিবেচনায় পুঁজিবাজারে যথার্থ সাপোর্ট নিশ্চিত করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তাছাড়া আইসিবির পাশাপাশি বিডিবিএলকেও সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনে সাপোর্ট প্রদানের স্বার্থে পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ ও তা যথাযথ বিনিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন মনে করে ডিএসই।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ

ডিএসই বলেছে, লার্জ প্রাইভেট অ্যান্ড পাবলিক প্রজেক্ট, বিশেষায়িত খাত যেমন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন, এলএনজি টারমিনাল স্থাপন এবং বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, যেখানে বড় ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে এবং লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, ওই সকল কোম্পানিগুলোর শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে অফলোড করে সাধারণ জনগণকে ওই সকল কোম্পানির মালিকানায় সম্পৃক্ত করা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এই অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ নিশ্চিত হবে।

অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি

দীর্ঘদিন নেতিবাচক অবস্থার কারণে বর্তমান অবস্থায় বিনিয়োকারীদের বিনিয়োগ সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তাই বাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা, যা বাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। এ প্রসঙ্গে বাজার মধ্যস্থ্যতাকারীদের পক্ষ থেকে বাজারে অর্থের সরবরাহের বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বলে আমরা অবহিত। আমরা মনে করি, এ বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে বাজারে অর্থের যোগান বাড়বে এবং গতিশীলতা ইতিবাচক ধারায় যাবে।

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি প্রতিনিধি ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এ কমিটি পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart