1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার করতে চায় সরকার

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২০২

বাংলাদেশে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা সাউথ-সাউথ কোঅপারেশনের সেন্টার স্থাপন করতে চায় সরকার। এ সেন্টার স্থাপনে ঢাকাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সেন্টারটি স্থাপিত হলে বৈদেশিক সহায়তার প্রেক্ষাপটে নিত্য-নতুন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।

সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে গঠিত সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রথম সভা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ও টাস্কফোর্সের সভাপতি মনোয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে টাস্কফোর্সের সভাপতি মনোয়ার আহমেদ বাংলা২৪ বিডি নিউজকে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রম-হ্রাসমান প্রচলিত বৈদেশিক সহায়তার প্রেক্ষাপটে নিত্য-নতুন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন (এসএসসি) নামে একটি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ধরন (কোঅপারেশন মোডালিটি) বিশ্বব্যাপী দ্রুত স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিকতা লাভ করছে।

‘পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্লাটফর্ম। বাংলাদেশ এ প্লাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্লাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং ঢাকায় সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপনে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত এসএসসি টাস্কফোর্সের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ টাস্কফোর্সের কাজ সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার গঠনের প্রক্রিয়াকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়া ও ফলপ্রসূ করা।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম বিএপিএ প্লাস-৪০ সম্মেলনে বাংলাদেশে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান করার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য হলো, সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজটি বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি সাউথ-সাউথ কোঅপারেশনের চলমান কার্যক্রম বেগবান করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করছে সেটি শক্তিশালী করা।

টাস্কফোর্সের সভায় এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশনের ধারণা তুলে ধরেন, যা সমাদৃত হয়। এখন পর্যন্ত এ নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে ম্যাচ-ম্যাকিং ইভেন্টের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন দেশের ২০টি উত্তম চর্চাকে একত্রিত করে সাউথ-সাউথ ম্যাচ-ম্যাকিং নামে একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল সেন্টার ও এসডিজি ট্র্যাকারসহ আরও কিছু উত্তম চর্চা পেরু, ভুটান, ফিলিপাইন, ফিজিসহ বেশকিছু দেশে প্রতিস্থাপন ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সহায়তা করে চলেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি অন্যান্য দেশের সমর্থন বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন এসএসসি সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি যৌক্তিকতার সঙ্গে এবং জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরতে পারে।

তবে এজন্য কিছু বিষয় নির্ধারণের প্রয়োজন। যেমন- যে প্রতিষ্ঠান বা সেন্টারটি তৈরি হবে, সেটির কার্যক্রম কী হবে, সেন্টারটি পরিচালনার জন্য যে সম্পদের প্রয়োজন হবে তা সংগ্রহ ও সঞ্চালন কীভাবে হবে এবং সেটার স্থাপনের বিষয়টি বৈশ্বিক ফোরামে উপস্থাপনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কী হবে, এসব বিষয়ে মত দেন আনীর চৌধুরী।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং অনুবিভাগ প্রধান (জাতিসংঘ) সুলতানা আহরোজ জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি বিএপিএ প্লাস- ৪০ সম্মেলনে যোগ দেন। ওই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসএসসি সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন, যা সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগ দেশের প্রতিনিধির কাছে প্রশংসিত হয়।

তিনি জানান, নিউইয়র্কে উচ্চ-পর্যায়ের পলিটিক্যাল ফোরাম চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউনেস্কোর উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাতিসংঘ সদরদফতরে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনাকালে বাংলাদেশে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপনে ইউনেস্কো সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করে।

সভায় অংশ নেয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাল্টি-ল্যাটারাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুটি বড় আন্তর্জাতিক ফোরামে সাউথ সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। সুতরাং এটি আন্তর্জাতিক-পর্যায়ে নথিভুক্ত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও বড় একটি পরিকল্পনা হচ্ছে, দক্ষিণের সব পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা, যেটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি সেন্টারকে আন্তর্জাতিক করতে হলে জাতিসংঘে রেজুলেশন গ্রহণের মাধ্যমে তা পাস করাতে হবে।

সভায় ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য ২০১৩ সালে সাউথ-সাউথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৪ সালে সাউথ-সাউথ ভিজিওনারি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তদুপরি এ প্লাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং বাংলাদেশে সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপনে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাউথ-সাউথ কোঅপারেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাতিসংঘ অনুবিভাগের অধীনে সাউথ-সাউথ সেল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এসএসসি বিষয়ক কাজগুলো প্রাথমিকভাবে সম্পাদন করা হচ্ছে।

মনোয়ার আহমেদ বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন সেন্টার স্থাপন করা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইতোমধ্যে এ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। টাস্কফোর্সের কাজ হবে তা বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ধারণা, অভিজ্ঞতা ও দিক-নির্দেশনা সহায়ক হবে। সুতরাং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে তার সাথে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা যথার্থ হবে। এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করেন।

সভায় এসএসসি প্লাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ়করণে কর্ম-পরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসএসসিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্বদানকারী অবস্থানে নেয়ার জন্য পরবর্তী বছরে কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। দীর্ঘ আলোচনার পর সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেগুলো হচ্ছে- এসএসসি সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা।

এসএসসিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্বদানকারী অবস্থানে নেয়ার জন্য পরবর্তী বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২০) কর্ম-পরিকল্পনা/কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব (জাস-২) রাব্বী মিয়াকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাল্টিল্যাটারাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী, এটুআইয়ের পলিসি স্পেশালিস্ট আসাদ-উজ-জামান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-সচিব কাওসার জাহানকে এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটিকে ২০২০ সালের (জানুয়ারি -ডিসেম্বর) কর্ম-পরিকল্পনা/কার্যক্রম নির্ধারণ করে তা ২০২০ সাল শুরুর আগেই জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ইতোমধ্যে যে এসএসসি সেল গঠন করা হয়েছে এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ লজিস্টিক সার্পোট প্রদানের মাধ্যমে সেলটিকে সুবিন্যস্তকরণে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart