1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড চায় ঢাবি শিক্ষক সমিতি

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১৯০

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন তারা।

বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে যারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে দিয়েছে তারা কীভাবে পড়ালেখা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কাজ, যেকোনো অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে হয়। যে অপরাধী এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা লজ্জিত, মর্মাহত যে আমাদের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষকের প্রতি আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সবাই সংক্ষুব্ধ। সবাই ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই, ধর্ষকের দ্রুততম ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। আমরা চাই এই পিশাচের যেন দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। আমাদের দাবি হবে, সরকারের আইনি কাঠামোতে যদি কোনো ফাঁকফোকর থাকে, তাহলে সেটা যেন না থাকে। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। এই ঘটনা যেন শেষ ঘটনা হয়। আর কোনো মেয়ে যেন ধর্ষণের শিকার না হয়।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জাতির বাতিঘর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ সংস্কারের কাজ করে। কিন্তু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যখন ধর্ষিত হয় তখন জাতির কাছে প্রশ্ন থেকে যায়, এ দেশের ধর্ষকরা কি তাহলে নিরাপদ হয়ে গেছে? আমরা যে মানবিক ও উন্নত সমাজ চাচ্ছি সে সমাজে যদি নারীরা ধর্ষিত হয়, তাহলে আমরা আমাদের লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছাবো? এই ধর্ষণের জন্য আজ আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অপমানিত হতে হয়। আমরা শুধুমাত্র ধর্ষণের প্রতিবাদ হিসেবে এই অপরাজেয় বাংলায় দাঁড়াতে চাই না। সমাজ সংস্কারের জন্যই আমরা দাঁড়াতে চাই। আমরা একটি নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। যে সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের লাঞ্ছিত হবে না, নারীরা থাকবে নিরাপদ।’

তিনি আরও বলেন, গতকাল আমি জানতে পেরেছি ধর্ষণের পরে যদি ধর্ষণকারী স্বীকার করে যে সে ধর্ষণ করেছে, তাহলে তার শাস্তি হবে ১০ বছর। পরে তা কমে গিয়ে হয় পাঁচ বছর। তাই আমরা মনে করি ধর্ষণ নিয়ে সরকারের যে আইন রয়েছে সে আইন আইনের সংস্কার জরুরি। আমরা ধর্ষকের মৃত্যুেণ্ডের দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঘটনা প্রমাণ করে, দেশের প্রশাসন কতটুকু দায়িত্বজ্ঞানহীন। দেশের একটি সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী যে জায়গায় নিরাপদ নয়, সে জায়গায় মফস্বল এলাকার মেয়েরা কোন অবস্থায় আছে, তা প্রমাণিত হয়। আর রাজাকারের কোনো পার্থক্য নেই। যদি রাজাকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে ফাঁসি হয়, তাহলে ধর্ষকেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’

অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমি আমার চাকরি জীবনের ৪০ বছরে এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখিনি। আমরা মর্মাহত। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। শিক্ষার্থীর সার্বিক অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভালো, কিন্তু তাকে বারবার জেরা করা হচ্ছে, তাকে একই কথা বারবার মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে। যে কারণে ওই শিক্ষার্থী ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। তার এখন ঘুম প্রয়োজন। তবে আমরা তার সাহসিকতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। নারী, পুরুষ, অভিভাবকসহ সকলের জন্য কাউন্সিলিং করা প্রয়োজন। এই কাউন্সিলিং গঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমাদের সুন্দর আইন আছে, কিন্তু আইন সুন্দরভাবে প্রয়োগ পায় না। সেখানে আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, প্রশাসন জড়িত থাকে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষার্থীর জন্য যে সংযম ও সহমর্মিতার আচরণ করেছেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার পাশে থাকবে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের চেয়ারপারসন ড. সানজিদা আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক শরীফ উল্লাহ ভূঁইয়া, গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্র নাথ পোদ্দার, কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ, সহকারী প্রক্টর আব্দুর রহিম প্রমুখ।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart