1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ছাড়া অভিযানে গিয়ে রোষানলে ম্যাজিস্ট্রেট

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৬৫৮

নিজেকে জাহির করতে পুলিশ ছাড়াই নগরের একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালাতে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজা মাসুম গোলাম প্রধান। হুমকি ধমকি দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ছাড়া পান এই ম্যাজিস্ট্রেট। জনতার রোষানল থেকে ছাড়া পেয়ে এর ঝাল মেটান স্থানীয় এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের উপর। রাগ মেটাতে দুইশ টাকার পরিবর্তে ওই শিক্ষককে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। কিন্তু করোনা দুর্যোগে অনেকটা অসহায় হয়েই ওই শিক্ষক স্থানীয় অভিভাবকদের অনুরোধে কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে চৌধুরীবাড়ি এলাকায় জ্ঞানের আলো নামে একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালান রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধান। তিনি দুটি রুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখে ছবি তোলেন। খবর পেয়ে কোচিং সেন্টারের মালিক সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সাইফুল ইসলাম, তার চার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম জীবন, মো: নুর নবী, মো: মেহেদী হাসান, আব্দুল রশিদকে নিয়ে যেতে চাইলে কারণ জানতে বাড়ির মালিক বয়স্ক আব্দুল ওহাব মোল্লা। পরে তাকেসহ ৬জনকে গাড়িয়ে তুলে নেওয়া হয়। এরপর রসুলবাগ এলাকায় গিয়ে তাদের গাড়িতে রেখে মাদবর বাড়িতে ভাড়ায় পরিচালিত এটি কোচিং সেন্টারে যান এসিল্যান্ড গোলাম মাসুম। ওই সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হয়। কোচিং সেন্টার থেকে শিক্ষকদের নিয়ে যেতে চাইলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে। শুরু হয় হৈ চৈ হট্টোগোল। পুলিশ ছাড়া এসিল্যান্ডের উপস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় লোকজনের ভীড় বাড়ে। পরে এসিল্যান্ড নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন এবং এক পর্যায়ে হুমকি ধমকি দিলে স্থানীয় মুরুব্বিদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোবারক হোসেন অপুকেও নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলে নিজ কার্যালয়ে যান এসিল্যান্ড। সেখানে নিজ অফিসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জ্ঞানের আলো কোচিং সেন্টারকে ৭ হাজার টাকা ও এটি কোচিং সেন্টারকে ৫ টাকা জরিমানা করেন এসিল্যান্ড গোলাম মাসুম প্রধান।
জ্ঞানের আলো কোচিং সেন্টারের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, আমি তো আর ইচ্ছে করে কোচিং সেন্টার খুলিনি। অভিভাবকদের ইচ্ছায় খোলা হয়েছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া একেবারেই ছেড়ে দিয়েছে। নভেম্বরে যদি পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয় তাহলে তো তারা কিছু লিখতে পারবে না পরীক্ষার খাতায়। অভিভাবকদের অনুরোধে ৫ম ও ৮ম শ্রেণির অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং শুরু করা হয়েছিল। তাছাড়া গত সাড়ে ৩ মাস স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক সংকটে পড়ে অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছি আমরা। সেখানে ৭ হাজার জরিমানা ”মড়ার উপর খাড়ার ঘা” আমার জন্য। আমাকে বলে ৭ হাজার টাকা দিতে হবে না হয় ৬ মাসের জেল। কোন কথা বলা যাবে না। পরে নিরুপায় হয়ে এসিল্যান্ড অফিসে বসেই ৮/১০ কে ফোন করে তাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
সাইফুল দু:খ করে বলেন, আমরা তো শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের টিচিং দিচ্ছিলাম। তাও পেটের তাগিদে। কিন্তু চুরি-ডাকাতি তো করিনি। যেভাবে আমাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মনে হচ্ছিল আমরা চোর-ডাকাত। আমাদের কোন কথাই শুনতে চাননি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব। ভ্রাম্যমান আদালত তো ঘটনাস্থলে অপরাধের বিচার করে রায় দেয়। কিন্তু অফিসে নিয়ে জরিমানা করে এটা বুঝলাম না। তাছাড়া করোনা সংক্রমনের প্রথম দিকে লকডাউন অবস্থায় সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক নারায়ণগঞ্জের কলেজ রোডে ৩টি কোচিং সেন্টারকে ২শ’ টাকা করে জরিমানা করে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে আমাকে ৭ হাজার জরিমানার কারণ কি?
এদিকে এটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোবারক হোসেন অপু জানান, কোচিং সেন্টারে ঢুকে আমাকে সব কিছু বন্ধ করতে বলে। এবং তার সঙ্গে যেতে বলে। এসময় আমার আত্মীয়-স্বজন, বাড়িওয়ালাসহ এলাকার ২০ থেকে ২৫জন জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। কারণ আমরা প্রায় সময় শুনি ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব, সেনা সদস্য পরিচয়দানকারী প্রতারকদের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। তাই গাড়ি ও পুলিশ না থাকায় প্রথমে আমরা বুঝতে পারনি তিনি ম্যাজিস্ট্রেট। হৈ চৈয়ের মধ্যে এক পর্যায়ে তিনি লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেন আপনারা সরেন যেতে দিন। না হলে ‘ওর জীবনটা নস্ট করে দিবো। তখন সবাই ভয় পেয়ে যায়। পরে আমাকে নিয়ে গাড়ি তোলে। অফিসে নিয়ে অনেক কথা বলে। এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। না দিলে ৬ মাসের জেল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজা মাসুম গোলাম প্রধান বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি চেয়েছি তার যে অপরাধ করেছে অন্যরা যেন সেটি করতে না পারে। এজন্য আমি তাদের একটু বেশি জরিমানা করেছি। একই অপরাধে তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইউএনও নাহিদা বারিক মাত্র ২শ’ টাকা করে জরিমানা করেছিলেন জানালে তিনি বলেন, একেক জনের ম্যান্টালিটি একেক রকম। যদি জরিমানার পরিমান বেশি হয়ে থাকে তাহলে তারা আপীল করতে পারে। কিন্তু পুলিশ ছাড়া ঘটনাস্থলে না যাওয়া সর্ম্পকে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart