1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

নাসিক মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে অনশন

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৯৩
বিকাল ৫টায় অনশন ভাঙ্গান সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেয়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, গত ১১নভেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছিল হিন্দু সম্প্রতায়ের নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ এনে বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী পুরুষ।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

কর্মসূচিতে জেলা আইনজীবি সমিতি, ৭১’এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেকলীগ, মহানগর জাতীয় পার্টি, জেলা ও মহানগর জাসদ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক, চিকিৎসক, সাংবাদিক সংগঠন, নাসিকের কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করে এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন। যে কোন ধর্মীয় উপসনালয়ের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টাকে রুখে দিয়ে একযোগে প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছেন তারা।

তাদের এই দাবীর প্রতি সহমর্মিতা ও একাত্মতা প্রকাশ করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, আওয়ামীলীগের লেবাস লাগিয়ে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা করে মেয়র আইভী দলকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন আওয়ামীলীগ জনতার আর জনতার শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়র আইভীকে অবশ্যই জনতার বিচারের কাঠগোড়ায় দাড়াঁতে হবে। মন্দিরের সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে আজ মাঠে নামতে হয়েছে এটা এই সরকারের জন্য আমাদের জন্য পীড়া দায়ক।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেছেন, আমি ২৫ বছর ধরে ৩দফায় মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমি কোন হিন্দু হিসেবে না, এই শহরের এই জেলার একজন সন্তান হিসেবে এখানে এসেছি। রাজনৈতিক ও পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনকালে আমাকে কখনওই সাম্প্রদায়িকতার মুখোমুখি হতে হয়নি। আমার মৃত্যুর পর আমার মৃতদেহটির সামনেই হয়তো কোন মুসলিম ভাই বহন করবেন আর পেছনে থাকবেন হিন্দু ভাই। এটাই তো অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জ।

কিন্তু বড় কষ্ট হয় যখন দেখি আমাদের সরকার আমলে আমাদেরই দলের মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় যখন দেখি জনবিচ্ছিন্ন বামপন্থীরা এই সরকার আর জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করার দু:সাহস দেখায় আর এই মেয়র আইভী তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসেন। কর্মী-সমর্থকদের কাছে তখন লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায় আমাদের। কিন্তু এই অবস্থা চলতে দেয়া যায়না, চলতে দেয়া যাবে না। খোকন সাহা বলেন, আমি আজ এই মঞ্চে ওয়াদা করছি শুধু মন্দিরের সম্পত্তিই নয়, সে মসজিদ হোক, গীর্জা হোক কিংবা প্যাগোডা হোক, যেকোন ধর্মীয় উপসনালয়ের সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে আমি পেশাগত ও রাজনৈতিকভাবে পাশে দাড়াঁবো।

৭১’এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, যে শহরের জন্ম থেকে কবরস্থান, শ্মশান আর খ্রিস্টানদের সমাধিস্থল একসাথে সেই শহর অসাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষর বহন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দলের আর অসাম্প্রদায়িকতার লেবাস লাগিয়ে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে, মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পত্তি দখল করে তারা এই নারায়ণগঞ্জে বসবাসেরই যোগ্য না। তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে এবং অচিরেই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

জেলা আইনজীবি সমিতিরি সভাপতি এড.মহসিন মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক এবং গর্হিত কাজ। আমরা জেলা আইনজীবি সমিতি সভা করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন থেকে কোন মসজিদ, মাদ্রাসা, গীর্জা, প্যাগোডা, মন্দিসহ কোন ধর্মীয় উপসনায়ের সম্পত্তি হরণের অপচেষ্টা হলে আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা আইনজীবি সমিতি নিজস্ব উদ্যোগে ও বিনাপয়সায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনী সহায়তা প্রদান করবো।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ মিলন বলেন, একটি ক্ষুধা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টি করতেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম। আমার এখনও মনে আছে আজ থেকে প্রায় ৬বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দেয়া হয়েছিল। সেদিন শহীদ মিনারে অনুমতি নেয়ার অজুহাতে জাতির বীর সন্তানদের অনুষ্ঠান করতে দেয়নি মেয়র আইভী। চোখের পানিতে ভিজে আমরা চাষাড়া গোল চত্বরে মুখে কালো কাপড় বেধে সেই প্রতিবাদ করেছিলাম। আজ তার বিরুদ্ধে মন্দিরের সম্পত্তি আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। আমরা এই দখল চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সনাতনী ধর্মালম্বীর পাশে থেকে মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিহত করবে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমুার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার বলেন, ‘লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের নিজস্ব সম্পত্তি জিউশ পুকুরটি গিলে খেতে চাচ্ছেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও তার পরিবার। যে সকল নকল দলিল করে এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে সেইসব দলিলেই মেয়র আইভীর মা, ২ ভাই, মামা, খালাসহ তারই আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে। ভোটের সময় মেয়র আইভী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে ‘করজোরে নমস্কার’ করেন, অথচ তার পরিবারই এই মন্দিরের তথা দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। ইতিপূর্বে মেয়র আইভীর বাবা প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকাও আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে জিয়াউর রহমানের আমলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে এনে সভা করতেন। যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ যে স্কুলের পিন্সিপাল ছিলেন সেই আদর্শ স্কুলের জায়গাও তিনি দখল করে বিক্রি করেছিলেন জামায়াত নেতাদের কাছে। মেয়র আইভী ও পরিবারের এই লেবাসী ভুমিকা আমাদের কাছে অনেক আগেই উন্মোচিত’।

প্রতীকী অনশনে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাসিট্রর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন কুমার সাহা, হোসীয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীস সাহা, লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের সরোজ সাহা, মাসদাইর শ্মশান কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন কুমার সাহা, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন প্রমুখ।
অনশনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, জিউস পুকুরের মামলার বাদী গোবিন্দ ঘোষসহ জেলা উপজেলা পর্যায়ের হিন্দু নেতৃবৃন্দ।

বিকাল ৫টায় অনশন ভাঙ্গান সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেয়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, গত ১১নভেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছিল হিন্দু সম্প্রতায়ের নেতারা।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart