1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১৪ অপরাহ্ন

পুঠিয়ায় শ্রমিক নেতা হত্যা মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৪৩

শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার বাদীর মূল এজাহার গ্রহণ না করে মনগড়া এজাহার তৈরিতে অভিযুক্ত হয়েছেন রাজশাহীর পুঠিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিলউদ্দিন আহমেদ। থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। যা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ১৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, দণ্ডবিধির ওই দুটি ধারার অপরাধ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের তফসিলভুক্ত। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, শ্রমিক নেতা নুরুল হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এক শিশু। রাজশাহীর পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। কিন্তু শিশু আইনের ৮১ ধারা অনুযায়ী শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী কোনো ছবি বা তথ্য গণমাধ্যমে বা ইন্টারনেটে প্রচার করা যাবে না। যা দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়। এ বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার দেয়া ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয় বলে মনে করে হাইকোর্ট।

পুঠিয়ার ওই হত্যা মামলার এজাহার বদলে দেয়ার অভিযোগে নিহতের মেয়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কয়েক দফা নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অমিত তালুকদার।

আদালত বলেন, এ ঘটনায় একজন শিশুর জবানবন্দি প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে রাজশাহীর পুলিশ প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং আইনভঙ্গ করেছেন। তাই শিশু আইন সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইজিপিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ওই হত্যার ঘটনার পর এক শিশুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ওই শিশুর দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, শিশুকে অনৈতিক আচরণে বাধ্য করায় নুরুল ইসলামকে হত্যা করে। যদিও ওই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিল তার পরিবার। তারা বলছে, মূল আসামিদের বাঁচাতে ও ঘটনা ভিন্নখাতে নিতেই এই শিশুকে আটক করা হয়েছে।

অপর নির্দেশনায় হাইকোর্ট পুঠিয়া থানায় গত ১১ জুন দায়ের হওয়া ওই হত্যা মামলা (নুরুল ইসলাম) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মামলাটি তদন্ত তদারকিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আদালত প্রত্যাশা করে। রায়ে বলা হয়, তদন্তকালে মূল এজাহারের (নিহত ব্যক্তির মেয়ে) বর্ণনা, বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিবেচনায় নেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়া হলো।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রায়ে আদালত বলেন, সাময়িক বরখাস্ত ওসি সাকিলউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমান মামলার সংবাদদাতা (বাদী), তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি, এমনকি তার শাশুড়িও বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করে প্রতিকার চেয়ে আইজিপি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সাকিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইজিপিকে নির্দেশ দেয়া হলো।

ওই মামলায় আটক এক শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। রায়ে আদালত বলেছেন, পুলিশ সুপারের পক্ষে দাখিল করা হলফনামা পড়ে ওই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা উদ্ধার সম্ভব হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেলও এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। গ্রেফতার আলোচ্য ক্ষেত্রে একজন শিশুর তর্কিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে রাজশাহীর পুলিশ প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। শিশুর জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশ করার বিষয় সম্পর্কে বিভাগীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঘটনা ও এজাহার
পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে গত ১১ জুন নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, হত্যার ঘটনায় তার মেয়ে নিগার ওইদিনই পুঠিয়া থানায় আবদুর রহমান পটলসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করেন। সাকিল উদ্দিন তাকে এজাহার সংশোধন করতে বলেন।

বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, পুঠিয়া থানার তৎকালীন ওসি আটজনকে অভিযুক্ত করে গত ১১ জুন বাদীর দাখিল করা এজাহারটি গ্রহণ না করে পরবর্তী সময়ে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে জব্দ তালিকা, সুরতহাল প্রতিবেদনসহ কিছু সাদা কাগজের ওপর সই করিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সই করা ওই সাদা কাগজে এজাহার টাইপ করে তা রেকর্ডভুক্ত করা হয়। বাদী কর্তৃক থানায় দাখিল করা এজাহারের বর্ণনার সঙ্গে দায়ের করা এজাহারের বর্ণনার মধ্যে অসঙ্গতি বিদ্যমান। সর্বোপরি এজাহারে আসামি কলামে ‘অজ্ঞাত’ উল্লেখ করা হয়েছে; যদিও বাদীর এজাহারে আটজনের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, যে এজাহার নথিভুক্ত হয়েছে, তা রিট আবেদনকারীর (নিগার) নয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গত ১৮ জুলাই লিখিত আবেদন করে ফল না পেয়ে নিগার ওই রিট করেন।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart