1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

বাজেট ও শিক্ষার ভবিষ্যত ভাবনা

মুহাম্মদ মাসুম খান (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ১১৯
বাংলাদেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১কোটি ৭৩ লক্ষ।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৩৬০১ টি। প্রতি বিদ্যালয়ে গড়ে ২৭৩ জন শিক্ষার্থী পড়ে।  একটি বিদ্যালয়ে কি ২৭৩ শিক্ষার্থী পড়ানো যায় না? তাহলে আর কেন নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগবে?  আর নতুন বিদ্যালয় থাকা মানে কি অপচয় নয়? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমানে যে অবকাঠামো তাতে কি ২৭৩ জন শিক্ষার্থী পড়ানো যায় না? মাধ্যমিক পর্যায়ে এদেশে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে গড়ে  ৫০০ শিক্ষার্থী করে পড়লে মোট  ২৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়। দেশে মোট প্রায় ৩৯ হাজার এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক লেবেলে ৫০০ জনের চেয়ে অধিক শিক্ষার্থী পড়ানোর মতো অবকাঠামো অনেক প্রতিষ্ঠানেই আছে।
দেশে শিক্ষিত, মেধাবী বেকার অনেক, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের  বেকারত্ব দুর করা যায়। তা না করে এতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকতে  নতুন স্কুল গড়ে তোলা, শিক্ষা  বাণিজ্যের সুযোগ করে দেয়া অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে আমি মনে করি।  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়গুলি গুরুত্বসহ ভেবে দেখা উচিত। নতুবা এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চরম অবক্ষয়ে পতিত হবে। প্রতিনয়ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হবে। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়  অপরিকল্পিতভাবে চলতে  থাকলে সমৃদ্ধ জাতি কখনোই গড়ে উঠবে না।
বিশ্বের অধিকাংশ  উন্নত দেশে  ১২ বছরের  মাধ্যমিক শিক্ষা পুরোপুরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামুলক। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের  শারীরিক  মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক, বিকাশের জন্য যাবতীয়  খাবার, চিকিৎসা, ক্রীড়া-বিনোদন, শিক্ষা উপকরন  সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেসব ধনী দেশের জনগনের সন্তানদের সরকার বিনামুল্যে শিক্ষা দেয়। অথচ আমাদের দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করাতে দরিদ্র জনগনকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়। বড়ই বিচিত্র।সরকার তখন রাজনীতিক এবং মানবিক বিবেচনায় জাতীয়করন বা এমপিও ভুক্ত করতে বাধ্য হন।
এ বছরেও ১০৪ টি  প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী এস,এস,সি পাশ করেনি। বহু প্রতিষ্ঠান আছে যেখান থেকে দুই,এক জন হয়ত পাশ করেছে।শত শত প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলিতে  কাম্য শিক্ষার্থী এবং পাশের হার নাই। এগুলি কেন জরিপ করে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? ৩৯ হাজার এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে কেন আরো ৭০০০ প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির  আশায় বসে আছে। ৫০০ শিক্ষার্থী একটি স্কুলে পড়ালে দেশে স্কুল প্রয়োজন ২৫০০০। কিন্তু দেশে স্কুল আছে ৩৯ হাজারের বেশি। আজকে করোনার কারনে তিন মাস ধরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারিরা পূর্ন  বেতন, বাড়ি ভাড়া পেয়ে ঘরে থেকে জীবন যাপন করতে পারছেন। অথচ বেসরকারি এবং এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ভোগান্তির অন্যতম কারণ একই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার গড়ে উঠা কিন্ডারগার্টেন এবং ব্যক্তিমালিকাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলি। প্রতিটি স্কুলে নূন্যতম অথবা ন্যয্যতা অনুযায়ি শিক্ষার্থী  থাকলে এমপিও ভুক্ত স্কুলগুলির আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকতো না।  অন্যদিকে ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বিপুল পরিমান টিউশন ফি নিয়ে শিক্ষকদের নাম মাত্র বেতন দেয়া সত্বেও করোনার মহামারির জন্য প্রণোদনা চাচ্ছে।
এদিকে সাম্রাজ্যবাদী, বানিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠা স্কুলগুলির কর্তৃপক্ষ কোটি টাকার মুনাফা করা সত্বেও তাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে সরকারের প্রণোদনা চাচ্ছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা মান সম্মত হলে একটা দেশের পরবর্তি পর্যায়ের শিক্ষার মান এমনিতেই বজায় থাকে। তাছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা যথার্থ হলে জীবন ধারনের জন্য সবার উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন হয় না। সফল কর্ম জীবনে প্রবেশের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষাই যথেষ্ট।উন্নত বিশ্বে তাই হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষা নীতি অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা ৮ বছর ব্যাপী এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ১২ বছর ব্যাপী করার নির্দেশনা রয়েছে যা আন্তর্জাতিক মান সম্মত।
প্রাথমিক শিক্ষায় ৫ম শ্রেনির পর সমাপানী পরীক্ষা একেবারেই,শিশু শিক্ষা ও বিকাশ বিরোধি,  অপ্রয়োজনীয়। এতো কম বয়সে পাবলিক পরীক্ষা বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই অগ্রহনযোগ্য, অনুচিত।পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি বাদ দিয়ে শিক্ষা নীতির আলোকে  স্কুল – শ্রেনি কার্যক্রম এবং মূল্যায়ন ভিত্তিক যথার্থ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা জাতির জন্য অতীব জরুরী। আর এসব  সম্ভব  মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক এবং জাতীয়করন করে। করোনা মহামারিতে শিক্ষার চরম দৈন্যতা দুরীকরনে, ভবিষ্যতে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করনে, দরিদ্র জনগনের ধারগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌছে দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করন করতেই হবে।সেটা যত  দ্রুত সম্ভব করা যায় ততই জাতির জন্য কল্যানময়। সরকারের অর্থের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনি পর্যন্ত প্রায় সোয়া কোটি শিক্ষার্থীদের থেকে বছরে ২০০০ কোটি আয় হবে শুধু ২০ টাকা বেতন আর ১০০০ টাকা বার্ষিক সেশন ফি নিলে। অথচ এখন  সরকার মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ৯৭% শিক্ষার্থী থেকে একটি টাকা ও পাচ্ছে না। যত্রতত্র গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে, শিক্ষা বানিজ্য বন্ধ করে সকল এম,পি,ও ভুক্ত স্কুলে কাম্য ও ন্যয্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নিশ্চিত করে জাতীয়করন করে দেয়া হউক। চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিকে কঠোর জবাবদিহিতায় আনা হউক।কেবল তাহলেই ভবিষ্যতে এদেশ হবে বিশ্বের সেরা, বিশ্বের বিস্ময় স্বপ্নের দেশ,সমৃদ্ধ এবং শান্তিময়, সোনার বাংলাদেশ।
মুহাম্মদ মাসুম খান
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য
স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart