1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে

সারাহ বেগম কবরী :
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ১০৪
মুক্তিযুদ্ধের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে

১৯৭১ সালের এই মার্চেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিসংগ্রাম শুরু করে বাঙালি জাতি। ৯ মাস ধরে চলা মুক্তিসংগ্রামের বিজয় ধরা দেয় একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। তাইতো আমাদের কাছে মার্চ সংগ্রামের মাস, স্বাধীনতার মাস। আসছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের মার্চ এসেছে নতুন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ডাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করে বাঙালি ছিনিয়ে আনে বিজয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে মনে পড়ে একাত্তরের সেই দিনগুলোর কথা। দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাঙালি জাতিকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক দীর্ঘ পথ। পশ্চিম পাকিস্তানিদের চরম নিপীড়ন, শোষণ আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, যার যা কিছু আছে তা নিয়েই সংগ্রামের পথ দেখান বঙ্গবন্ধু। দরাজ কণ্ঠে হুঙ্কার দিয়ে বললেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বাঙালির পাল্টা জবাবে যুদ্ধ স্থায়ী হয় ৯ মাস। দীর্ঘ এই সংগ্রামে প্রাণ হারান ৩০ লাখ শহীদ। দুই লাখ মা-বোনের সল্ফ্ভ্রম হারানোর পাশাপাশি দেশের বিপুল ক্ষতিসাধন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাঙালি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রমনা রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ’। লাল-সবুজ পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বিজয়ী বাঙালিরা। সেই পতাকা উঁচিয়ে চলছে প্রগতির পথে বাঙালির অভিযাত্রা। এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি বা যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে অথবা স্বাধীনতার যে সূর্য উদিত হয়েছে, সেটা বলবৎ রাখতে হবে। যাতে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং বিশ্বদরবারে সর্বোচ্চ স্থান করে নিতে পারবে- সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আমরা গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম যাই। সেখান থেকে কলকাতা। তখন একজন শিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের মানুষের ওপর যেভাবে হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছিল তা থেকে যেন দেশের মানুষ রক্ষা পায় তার জন্য কাজ করেছি। কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করতে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছি। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, সেই সময়ের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক, সংগীতশিল্পী ও অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তহবিলের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছি। দেশের জন্য লড়াই করতে পেরেছিলাম বলে আমি গর্ব করি। এটাই আমার জীবনে সবচেয়ে সার্থকতার বিষয়।

মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরে পেছনে ফিরে তাকালে এর অসামান্য অর্জনগুলো গর্বে আমাদের মাথা উঁচু করে দেয়। আমরা স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পেয়েছিলাম বলেই তা আমরা সম্ভবপর করতে পেরেছি। বিভিন্ন সামাজিক সূচকে আমাদের অর্জন ঈর্ষণীয়। আমরা মধ্য আয়ের দেশের কাতারে ঢুকেছি। এসব অর্জনের পথে বাধা ও প্রতিবন্ধকতাও কম ছিল না। তা সত্ত্বেও আমাদের এ অগ্রগতি বিশ্বের চোখে এক বিস্ময়। আমরা অর্থনীতিসহ সামাজিক সূচকেও এগিয়েছি। কিন্তু আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও চলছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির গৌরবময় অতীত শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রাণশক্তি এবং স্বপ্ন দেশের বর্তমানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। তাই আমি মনে করি, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে সমানভাবে পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। আর এ ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা অনেক বলে আমি মনে করি। তাইতো শিক্ষক এবং অভিভাবক যারা আছেন তারা যেন তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে সেভাবে তৈরি করেন। যাতে করে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই পৃথিবীতে একটি উচ্চ স্থান দখল করতে পারে।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart