1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শতবর্ষী ইসাহাক আলী মাস্টার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরল ভালোবাসা

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

মো. আলী মর্তুজা খসরু

আওয়ামী লীগের একাদশ জাতীয় সম্মেলনে একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সবার নজরে আসে! একজন শতবর্ষী মুজিব আদর্শের কর্মী লাঠি ভর দিয়ে দাওয়াতপত্র হাতে করে ডেলিগেট কার্ড গলায় ঝুলিয়ে নুয়ে পড়া শরীরে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে হেঁটে যাচ্ছেন সম্মেলন স্থানের দিকে। কোন দিকে তার কোন খেয়াল নেই। উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে দেখা! আওয়ামী লীগের সংগঠনের নতুন নেতৃত্বে কারা কারা আসছেন তা দেখার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ যেন টেকসই উন্নয়নের কারিগরদের সামনে থেকে দেখার এক অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে হেঁটে চলা।

একজন মানুষ দেশের সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকেও, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও যে একজন তৃণমূলের কর্মীর কথা এত আবেগ, আগ্রহ, ধৈর্য নিয়ে শুনেন তা সত্যিই বিরল। আজকাল তো ভালো শ্রোতাই পাওয়া যায় না। সবাই শুধু বলতে চায়। ভুলে যাই যে কান দুইটা কিন্তু মুখ একটা। যাই হোক, জননেত্রী অনেক আগ্রহ নিয়ে আমার শ্রদ্ধেয় আব্বার জীবনের গল্প শুনলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আব্বার স্মৃতিচারণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত করেছে।আব্বা নেত্রীকে দলের প্রতি ভালোবাসার গল্প শোনান 

দেশরত্ন শেখ হাসিনার আহ্বানে সেই ইসাহাক আলী মাস্টার, আমার পিতা গত ৩০ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। নেত্রী জানেন এবং অনুধাবন করেন যে তৃণমূলের যারা নেতাকর্মী আছে তারাই আসলে তাদের আবেগ, অনুভূতি, ভালবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কর্ম দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আগলে রেখেছে, শক্ত পিলার হিসেবে দলকে টিকিয়ে রেখেছে। এই দলের সুযোগ্য কর্ণধার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাই একমাত্র তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনের ভাষা বোঝেন! উনি জানেন এসব কর্মীদের আসলে খুব বেশি প্রত্যাশা থাকে না। তারা একটু ভালোবাসা চায়, চায় একটু সম্মান ।

কুষ্টিয়া ৩ আসনের মাননীয় সাংসদ জননেতা জনাব মাহবুবু-উল আলম হানিফ ভাইয়ের আন্তরিকতায় গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টা ত্বরান্বিত হয়। যাই হোক, সন্ধ্যার পরে সমস্ত ফরমালিটিজ সম্পন্ন করে আমার আব্বার সাথে আমি, আমার স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাসহ গণভবনে প্রবেশ করি। আমার মেয়ে সে তো খুবই উৎফুল্ল সে হাসিনা দিদাকে কাছ থেকে দেখবে , হ্যান্ডশেক করবে, হাসিনা দিদার (সে “হাসিনা দিদা” বলে ডাকতে পছন্দ করে) বাড়ি গিয়েছিল সেই গল্প করবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

লবিতে যখন আব্বাকে দেখে সবাই কাছে এগিয়ে আসছিল, তার গল্প শোনার জন্য, বুকে বুক মেলানোর জন্য বিষয়গুলো আমাকে দারুণ ভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে। সবাই যখন বলছিল আপনি তো সেই ইসাহাক আলী মাস্টার যার যৌবন থেকে আজ অবধি সমস্ত সময়ই কেটেছে আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে, দলের প্রতি একাগ্র থেকে জনমানুষের কল্যাণে কাজ করে। উনার অভিব্যক্তি ছিল খুবই অনুসরণীয়। দল কে ভালবাসতে হবে, সেই ভালোবাসা মানুষকে দিতে হবে। মানুষের ভালবাসায় টিকে থাকবে দল, দেশ।

এরপরে মাহবুব উল আলম হানিফ ভাই আমাদের ডেকে নিয়ে ভিতরের রুমে বসতে বলেন। যাই হোক, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদেরকে আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করা হয়। গণভবনে আপ্যায়িত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল !

কিছুক্ষণ পরে রুমে আসেন আওয়ামী রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তিরা। সাংসদ আমির হোসেন আমু , এডভোকেট সাহারা খাতুন, তারপরে আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ অনেকেই। কাদের ভাই রুমে ঢোকা মাত্রই এক দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়। আব্বা এবং কাদের ভাই তাদের দুজনের কথোপকথন ছিল খুবই মজার এবং উৎসাহব্যঞ্জক! নেতার একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে যে রাজনীতি আসলে ত্যাগের বিষয়, সময়ের বিষয়, সহিষ্ণুতার সাথে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে তাহলে একসময় না একসময় দলে তার মূল্যায়ন হবেই।

এ কথা শোনা মাত্রই ২০১৭ সালের আমার একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল। ২০১৭ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যখন জয় লাভ করতে পারি নাই তখন আব্বা একটা কথাই আমাকে বলেছিলেন “আজ তুমি হয়তো কারণবশত জয়ী হতে পারো নাই কিন্তু সম্মেলনে হাজার হাজার মানুষ তোমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে এর থেকে বড় প্রাপ্তি, বড় জয়, আর কী হতে পারে”। আসলেই তো তাই। একজন রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, বড় জয় তো জনগণের ভালোবাসা সেটা তো আমি ঠিকই পেয়েছি।

যাই হোক, নেতাদের সাথে কাটানো সময়টা ছিল খুবই চমৎকার। আমার মেয়ে সে তো সব জায়গাতেই সব সময় নিজের মতো করে থাকতে পছন্দ করে। তাই সে উৎসুক হয়ে এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছিল পরে দেখি এসএসএফ এর একজন সদস্য ওকে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে এ বিষয়টা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। কিছুক্ষণ পরেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আব্বাকে মাননীয় নেত্রীর নির্দিষ্ট কক্ষে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল কাদের, মাহবুবু উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাহারা খাতুন, সালমান এফ রহমান, বাহাউদ্দিন নাসিম, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ অনেকেই।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসলেই যে বিশ্বনেত্রী, মানবতার নেত্রী তা সর্বজন সমাদৃত। একজন মানুষ দেশের সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকেও, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও যে একজন তৃণমূলের কর্মীর কথা এত আবেগ, আগ্রহ, ধৈর্য নিয়ে শুনেন তা সত্যিই বিরল। আজকাল তো ভালো শ্রোতাই পাওয়া যায় না। সবাই শুধু বলতে চায়। ভুলে যাই যে কান দুইটা কিন্তু মুখ একটা। যাই হোক, জননেত্রী অনেক আগ্রহ নিয়ে আমার শ্রদ্ধেয় আব্বার জীবনের গল্প শুনলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আব্বার স্মৃতিচারণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত করেছে।আব্বা নেত্রীকে দলের প্রতি ভালোবাসার গল্প শোনান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে একটি সুন্দর, আন্তরিক পরিবেশ বিরাজমান ছিল। সবাই যেন আব্বার কথোপকথন শুনে নিজেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে আমার মেয়ে নেত্রীর কাছে গিয়ে বলল হাসিনা দিদা তোমাকে দেখতে এসেছি। নেত্রী আমার মেয়েকে কাছে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেন। সব মিলিয়ে একটা সুখকর সময় আমরা অতিবাহিত করি। পরে প্রিয় নেত্রীকে সালাম করে বের হয়ে আসার সময় নেত্রী আমাকে বললেন তোমার আব্বার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড গুলো সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করে বই আকারে প্রকাশ করো। এমন নিবেদিত প্রাণ রাজনৈতিক কর্মীর অবদান সবার জানা প্রয়োজন যাতে করে সবাই প্রকৃত অর্থেই কিভাবে দলকে ভালবাসতে হয়, দলের প্রতি অনুগত থাকতে হয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয় তা উপলব্ধি করতে পারে এবং এখান থেকে তারা অনুপ্রাণিত হতে পারে। প্রিয় নেত্রীকে কথা দিয়ে এসেছি ইনশাআল্লাহ এই কাজটি আমি করবো । পরে নেত্রীর রুমের বাইরে এসে দেখা হয় শেখ হেলাল ভাইয়ের সঙ্গে। আব্বা উনার হাতে হাত রেখে কী কী যেন গল্প করলেন তা ঠিক শুনতে পাই নাই। শেখ হেলাল ভাই অবশ্য আব্বাকে আলিঙ্গন করতে ভোলেন নাই।

যাইহোক, সাক্ষাৎ শেষে যখন বের হলাম তখন গণভবনের গেটে দেখা হয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তাদেরকে দেখে ভালো লেগেছে। না তরুণেরা নষ্ট হয়ে যায় নাই, বিপথে যায় নাই! তরুণরা প্রবীণদের শ্রদ্ধা করতে জানে। প্রবীণদের কাছ থেকে শিখতে চায়, প্রবীণদের দেখানো পথে হাঁটতে চায়। জয় এবং লেখক আব্বাকে সালাম দিয়ে বুকে আলিঙ্গন করে দোয়া চায়। আসলে তরুণরা যখন প্রবীণদের সম্মান করে, তাদের আশীর্বাদ কামনা করে তখন বুঝা যায় যে তরুণ সমাজ সঠিক পথেই আছে। প্রবীণদের আশীর্বাদে তরুণদের সঠিক কর্মস্পৃহায় এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।

গণভবনে ঢোকার সময় যেহেতু মোবাইল বন্ধ ছিল তাই মোবাইল চালু করার সাথে সাথেই অনেকগুলো মিসড কল এলার্ট পেলাম। কল ব্যাক করার পরেই সবাই জানতে চাচ্ছিল আব্বা বা আমরা নেত্রীর কাছে কী চেয়েছি। চিরাচরিতভাবে নিজের জন্য আব্বার কোনো প্রত্যাশা নেই। তার ইচ্ছা আমাদের এলাকায় যেহেতু বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার নামে কোন প্রতিষ্ঠান নাই তাই এখানে বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার নামে একটা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। এই ইচ্ছাটা তিনি নেত্রীকে পোষণ করেছেন। নেত্রী বলেছেন হবে সব হবে। আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জননেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ ভাইয়ের মাধ্যমে আব্বার এই ইচ্ছাটা পূরণ হবে। আব্বার আরেকটি ইচ্ছা আমরা যেন বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ বুকে ধারণ করে আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারি।

পরের দিন যখন আমরা জননেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ ভাইয়ের অফিসে যাই তখন তার একটা কথা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। উনি বলছেন যে বাবাজি আপনি শুধু নেত্রীর জন্য, আমাদের জন্য, দলের জন্য দোয়া করবেন যাতে করে আপনার সমস্ত স্বপ্ন, ইচ্ছা আমরা একে একে পূরণ করতে পারি। বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ উন্নত বাংলাদেশে রূপান্তর করতে মানবতার মা শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা এবং সুস্থ থাকা অতীব জরুরি। এবং তা হবে দেশের মানুষের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে সমস্ত পিলার আছে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক, দেশের মানুষ ভালো থাকুক। সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন আর আমি যেন বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে বাবার মত মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি। সকল স্তরে রাজনীতি হোক জনগণের জন্য। মুজিববর্ষে এই হোক আমাদের সকলের চলার পথের মন্ত্র। জয় হোক রাজনীতিবিদের, জয় হোক জনগণের! জয় বাংলা!

লেখক : শিক্ষানবিস আইনজীবী, কুষ্টিয়া জজ কোর্ট। প্রতিষ্ঠাতা, ইসাহাক আলী ফাউন্ডেশন ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারশিপ(প্রস্তাবিত)। সাবেক সভাপতি, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ।

ফেসবুকে আমরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart