1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

সিটি নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে বিএনপির ৪ চ্যালেঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১১৩

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে শেষ মুহূর্তের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত বিএনপি। ধানের শীষের জয়ের লক্ষ্যে নানা কৌশল ও তা বাস্তবায়নে কাজ করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, ভোটে জিততে হলে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে হবে। এগুলো হচ্ছে- ভোটের দিন প্রতিটি বুথে পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নেতাকর্মীদের মাঠে থাকা, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকা। এসব মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে ফল নিজেদের ঘরে তোলা কঠিন হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা২৪ বিডি নিউজকে বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা, ভোট আদৌ নিরপেক্ষ হবে কি না।

তিনি বলেন, ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে তারা ধানের শীষেই ভোট দেবে। ক্ষমতাসীনরাও সেটা জানে। তাই তারা চাইবে যে কোনো মূল্যে ভোটাররা যাতে কেন্দ্রমুখী না হন। ভোটারদের প্রতি আমাদের আহ্বান, তাদের অধিকার রক্ষায় তারা যেন কেন্দ্রে আসেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোলিং এজেন্ট নিয়োগ এবং কেন্দ্রে কেন্দ্রে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যাতে উপস্থিত থাকেন, সেই প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা আমাদের থাকতে দেবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে সিটি ভোটকে নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে, তা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধারা ভোটের দিনও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নির্বাচনের দিন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রতিটি বুথে দলীয় পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করা। কারণ কেন্দ্রে এজেন্ট না থাকলে ভোট কারচুপি বা অনিয়ম ঠেকানো কোনো মতে সম্ভব হবে না। এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকলে সহজে কারচুপির সুযোগ পাবে না। অনিয়মের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করা সম্ভব হবে, যা গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষকসহ বিষয়টি সবার নজরে আসবে। এতে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর একটা চাপ তৈরি হবে। এসব বিবেচনায় কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শুরু হয়েছে কাজও। দুই সিটিতে মেয়র পদের জন্য কমপক্ষে ৫০ হাজার পোলিং এজেন্টের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তারা মনে করেন, পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও এবার বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে যাদের প্রভাব রয়েছে এবং যেসব নেতাকর্মীর নামে মামলা নেই বা কম, এমনকি যারা স্বেচ্ছায় এজেন্ট হতে ইচ্ছুক তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কাউকে জোর করে পোলিং এজেন্টের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তাদের প্রশিক্ষণও। ইভিএমে কীভাবে কারচুপি সম্ভব এবং তা মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের কেন্দ্রে অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে নানা কৌশল, পরামর্শ। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে কেউ মামলা, হামলা বা গ্রেফতারের শিকার হলে দল তার পাশে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে দলীয় পদপদবি দেয়ার ক্ষেত্রেও পোলিং এজেন্টদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, পোলিং এজেন্ট নিয়োগের পাশাপাশি কেন্দ্রে নেতাকর্মী ও ভোটারদের উপস্থিতিকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে ভোটাররা সহজেই কেন্দ্রে যাবে না। ভয়ভীতিসহ নানা কারণে তাদের ভোটমুখী হওয়ার প্রবণতা কম রয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতি যত বেশি হবে, ধানের শীষের পক্ষে ভোট তত বেশি পড়বে। তাই যে কোনো মূল্যে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না আসে, সেজন্য ক্ষমতাসীনরা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সব বাধা উপেক্ষা করে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। সম্প্রতি নির্বাচন নিয়ে নেতারা নানা ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য দিলেও তা থেকে সরে এসেছেন। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অডিওবার্তায় দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এতে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন, এবার ঢাকা সিটি নির্বাচনে ব্যালটে ধানের শীষে ভোট দিয়ে অন্যায়, অসত্য ও অসুন্দরকে পরাজিত করি। ন্যায়, সত্য আর সুন্দরকে জয়ী করি। অন্ধকার দূর করে আলোর পথে চলি।’ দলটির সিনিয়র নেতা এমনকি মেয়র প্রার্থীরাও বারবার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানাচ্ছেন। কেন্দ্রে আসা ও ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়া হবে বলেও আশ্বাস দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বাংলা২৪ বিডি নিউজকে বলেন, সিটি নির্বাচনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে পোলিং এজেন্ট, কেন্দ্রে নেতাকর্মী ও ভোটারদের উপস্থিতিতে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ভোটের দিন ক্ষমতাসীনদের এবার খালি মাঠে ছেড়ে দেয়া হবে না। কেন্দ্র দখল করে যা খুশি তা-ই করবে, তা সম্ভব হবে না। সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে থাকবে। যে কোনো অনিয়ম ও কারচুপি হলে এবার একটা ঝাঁকুনি দেয়া হবে।

এছাড়া ভোটের কেন্দ্রে নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকা দলটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে বা ভোটের দিন নানা ধরনের ভয়ভীতি আসার শঙ্কা রয়েছে। এসব বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নেতাকর্মীরা কতটা উপস্থিত থাকতে পারবেন, তা নিয়ে ভাবনায় রয়েছে দলটি। কারণ অতীতে ঘোষণা দেয়ার পরও ভোটের দিন কোনো নেতাকে কেন্দ্রে দেখা যায়নি। ভোটাররাও এ নিয়ে হতাশ। দলীয় নেতাকর্মী না থাকায় সাধারণ ভোটার ও সমর্থকরা ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রে আসেনি। তবে এবার সব বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের চারপাশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান নিতে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে কমিটিও। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছে- এমন একটা বার্তা ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তারা। এতে সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিতে আসতে সাহস পাবেন। শুধু নেতাকর্মীদের উপস্থিতিই নয়, শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। থাকতে পারবে কি না, সেটাও দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ, অতীতে এমন ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জন করে বিএনপি। তবে এবার শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে বদ্ধপরিকর তারা। কারচুপি বা অনিয়ম হলে তা প্রতিহতে নেয়া হবে পদক্ষেপ।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাংলা২৪ বিডি নিউজকে বলেন, ক্ষমতাসীনরা আমাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা নির্বাচন থেকে সরব না। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। সব বাধা উপেক্ষা করে এবার তারা কেন্দ্রে আসবে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানে সহায়তা করবে।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart