1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

হত্যার শিকার যুবক ৬ বছর পর জীবিত হাজির, অব্যাহতি পেলেন নিরপরাধ ৬ জন

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৩

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা কথিত অপহরণ ও হত্যা মামলায় চার বছর পর আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ৬ জন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুুপুরে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌসের আদালত মামলার শুনানি শেষে আসামিদের অব্যাহতি দেন। মামুন নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগে এই ৬জনকে বিবাদী করে ঘটনার দুই বছর পর ২০১৬ সালে মামলা করেন মামুনের বাবা। এ ঘটনায় মাকসুদা নামে এক নারী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দেন। এরমধ্যে বিবাদীরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে জামিন পান। কিন্তু মামলার কার্যক্রম শুরুর চুড়ান্ত পর্যায়ে ৩০ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে আদালতে জীবিত হাজির হন মামুন। এ ঘটনায় আদালত মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়ার আদেশ দেন। গত ১ নভেম্বর মামলাটির ধার্য তারিখে ওই ৩ কর্মকর্তা লিখিত ভাবে আদালতের কাছে তাদের তদন্তে ভুল-ভ্রান্তির কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস ওই ৩ কর্মকর্তার লিখিত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ না করে ৫ নভেম্বর এ ব্যাপারে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন। এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন সোহেল আদালতকে লিখিত ভাবে জানান, যেহেতু যাকে অপহরণের পর খুন ও লাশ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই ভিকটিমই জীবিত ফিরে আসায় এই মামলার চার্জগঠনের কোন প্রয়োজনীয়তা বা যৌক্তিকতা নেই। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৫ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন এবং ওই তারিখে মামলার ৩ তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জলকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন।
ওদিকে মামলাটি ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন সোহেল।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা শোনার পর শুনানি শেষে আদালত আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। তিনি বলেন, ‘এই মামলায় আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে বাদী হয়রানি করেছে আসামিদের। একাধিকবার আসামিদের রিমান্ডে নিলেও তদন্ত কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তদন্ত করেনি। এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে একটি পিটিশন দিয়েছি।’ মামলা দিয়ে হয়রানি করার কারণে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন নামে এক যুবককে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ এনে ঘটনার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন নিখোঁজ মামুনের বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ করা হয়েছিল। মামলায় আসামী করা হয়েছিল, তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং মামা সাত্তার মোল্লাকে। তাদের প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করেছিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে আসামিদের রিমান্ড চাওয়ার সময়ে আর্জিতে উল্লেখ করেন, খালাতো বোন তাসলিমা ২০১৪ সালের ১০ই মে মামুনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়ে গুম করেছে। এরপর অল্প কিছুদিন মামলাটি তদন্ত করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কিন্তু আসামীদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি পুলিশ।

সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে ৬ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। সাক্ষী করা হয়েছিল ২১ জনকে।
চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১০মে তাসলিমাকে দিয়ে কৌশলে মামুনকে বাড়ি ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে মামনুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাসলিমা। কিন্তু বিয়েতে রাজী না হওয়াতে বিবাদী ৬ জন মিলে মামুনকে কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে সিএনজি চালিতা অটো রিকশা করে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তবে কোথায় কিভাবে কি অবস্থায় রাখা হয়েছে সেটা জানা যায়নি।
ওদিকে গত ২ অক্টোবর এই মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওই দিনই কথিত অপহরণ খুন ও গুমের শিকার মামুন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে স্বশরীরে এসে উপস্থিত হয়। ওই সময় আদালত ভিকটিম মামুনকে অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদের জিম্মায় দেন।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart