1. admin@bangla24bdnews.com : b24bdnews :
  2. robinmzamin@gmail.com : mehrab hossain provat : mehrab hossain provat
  3. maualh4013@gmail.com : md aual hosen : Md. Aual Hosen
  4. tanvirahmedtonmoy1987@gmail.com : shuvo khan : shuvo khan
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গণহারে হত্যার রেকর্ড

ডেস্ক রিপোর্ট (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৮৭

২০১৯ সালে সর্বোচ্চ গণহারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যেকোন বছরের তুলনায় দেশটিতে এ বছর এভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এপি, ইউএসএ টুডে ও নর্থ-ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ তথ্যভাণ্ডার মোট ৪১টি গণহারে হত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে যাতে প্রাণ হারিয়েছে মোট ২১১ জন।

ম্যাস কিলিং বা গণহারে হত্যা বলতে, যে হামলার ঘটনায় হামলাকারী ব্যতীত চার বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে সেসব ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে। ২০১৯ সালে যেসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ছিল সেগুলো হচ্ছে, গত মে মাসে ভার্জিনিয়া সৈকতে হামলায় ১২ জন এবং আগস্টে এল পাসোতে হামলায় ২২ জনের মৃত্যু।

২০১৯ সালের ৪১টি ঘটনার মধ্যে ৩৩টিতে আগ্নেয়াস্ত্র জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অঙ্গরাজ্যের ভিত্তিতে দেখলে সবচেয়ে বেশি গণহারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে মোট আটটি ম্যাস কিলিং বা গণহারে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গণহারে হত্যার ঘটনা পর্যায়ক্রমে শনাক্ত করে এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। তবে ১৯৭০ এর দশকের কোন গবেষণাতেও এতো বেশি গণহারে হত্যার ঘটনা সম্বলিত কোন বছরের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ২০০৬ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গণহারে হত্যার ঘটনা ছিল ৩৮টি।

তবে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটলেও এ ধরনের হামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল ২০১৭ সালে। চলতি বছর ২১১ জনের মৃত্যু হলেও ২০১৭ সালের বিভিন্ন ঘটনায় ২২৪ জন মানুষ মারা যায়। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গুলির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল। লাস ভেগাসে হত্যা করা হয়েছিল ৫৯ জনকে।

গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গণহারে হত্যার অনেক ঘটনা সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় না। কারণ ওই সব ঘটনায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মাদক ব্যবসা বা গ্যাং সহিংসতা জড়িত থাকে এবং এগুলো জনসমক্ষে ঘটে না।

যুক্তরাষ্ট্রে মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমলেও গণহারে হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে, বলেন মিনেসোটার মেট্রোপলিটন স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞানী অধ্যাপক জেমস ডেনসলি। এপি-কে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের শতকরা হার হিসেবে এই গণহারে হত্যার ঘটনাগুলো বেশি হারে প্রাণহানির জন্য দায়ী।’

অধ্যাপক ডেনসলি বলেন, মার্কিন সমাজের ক্রোধ এবং হতাশার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনার বৃদ্ধি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধের প্রবণতা হচ্ছে ঢেউয়ের মতো করে একটার প্রভাবে আরেকটা ঘটতে থাকা। তিনি বলেন, ‘এই সময়টা হচ্ছে গণহারে গুলির ঘটনার সময়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সময় বন্দুকের মালিকানার অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং গণহারে গুলির ঘটনা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-প্রণেতাদের তেমন প্রভাবিত করেনি।

গত আগস্টে ডেটন, ওহাইয়ো এবং টেক্সাসের এল পাসোতে প্রাণঘাতী হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের অর্থবহভাবে অতীত অনুসন্ধান করে দেখার বিষয়ে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে জরুরী আলোচনা করবেন তিনি।

কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ওয়েনি লা পিয়েরের সঙ্গে লম্বা ফোনালাপের পর ওই প্রতিশ্রুতি থেকে চুপচাপ সরে আসেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে খুব কঠোরভাবে অতীত অনুসন্ধান করে দেখার ব্যবস্থা আছে। গণহারে গুলির ঘটনা এক ধরনের মানসিক সমস্যা।

নেতৃস্থানীয় বিরোধদলীয় ডেমোক্রেটরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জনসমক্ষে আহ্বান জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে, স্যান্ডি হুক স্কুলে গুলির ঘটনার ৭ম স্মরণানুষ্ঠানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নে আবারো আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

জো বাইডেনের পরিকল্পনায় আগ্নেয়াস্ত্র এবং হামলার উপযোগী অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের বন্দুক বিক্রির সময় ক্রেতাদের অতীত সম্পর্কে অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

আরেক ডেমোক্রেট মনোনয়ন প্রত্যাশী এলিজাবেথ ওয়ারেন চলতি বছরের শুরুর দিকে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন যেখানে গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৮০ ভাগ কমিয়ে আনতে নীতিমালাসহ নির্বাহী পদক্ষেপ যৌথভাবে গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়ারেন অতীত বিষয়ে কঠোর অনুসন্ধান ছাড়াও আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিলের সক্ষমতা থাকারও প্রস্তাব করেন।

ফেসবুকে আমরা

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.bangla24bdnews.com কর্তৃক সংরক্ষিত
Customized By NewsSmart