আজ: শনিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল, ২৮শে জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী, সকাল ৮:০০

নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন-ভোটারদের কাঠগড়ায় ৩ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): আগামী ২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আলোচিত ৪নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে নানা জল্পপনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। কে হারবে আর কে জিতবে তা নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেষ। কিন্তু সন্ত্রাসীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তারা হলেন, ওলামালীগ নেতা আমীর হোসেন ভান্ডারী (ঠেলা গাড়ি), যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ওরফে বুইট্টা নজরুল (ঘুড়ি), এক সময়ের ক্রিকেটার আরিফুল হক হাসান (লাটিম), ব্যবসায়ি আব্দুল আজিজ (ব্যাডমিন্টন রেকেট) ও রাসেল (টিফিন ক্যারিয়ার) তবে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে ৩জনকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এখন হচ্ছে দুইজনকে নিয়ে। hasan-amir-nazrulকারণ ঘুড়ি মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওরফে বুইট্ট নজরুলের ছোট ভাই চিহ্নিত পরিবহন চাঁদাবাজ জহিরুল হোক চাঁদাবাজির সময় ১৩ সহযোগিসহ ঈদের আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। র‌্যাব বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় নজরুল ইসলামের অপর ভাই হাফ ডজন মামলার আসামী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ি মনিরুল ইসলাম মনিরও আসামী। দুই ভাইয়ের এই ঘটনায় নজরুলের নির্বাচনে ব্যাপক ভাটা পড়েছে। তাকে নিয়ে ভোটারদের মাঝে বর্তমানে তেমন কোন আগ্রহ নেই। অপর দুই প্রার্থী আব্দুল আজিজ ও রাসেলকে প্রচাররনায় তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনী মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলোচিত হচ্ছে আরিফুল হক হাসান ও আমীর ভান্ডারীর নাম। তবে আমীর ভান্ডারী পক্ষে আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেনের ছোট ভাই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ি জজ মিয়া ওরফে ছোট মিয়া মাঠে নামায় আমীরকে নিয়েও ভোটাদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, ঘুড়ি মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নজরুল ইসলাম শিমরাইলের মৃত ধনু মিয়ার ছেলে। তারা ৪ভাই ধনু মিয়ার দ্বিতীয় ঘরের সন্তান। নজরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। তবে নজরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, মাজহারুল হক, জহিরুল হক এই ৪ ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জবর দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সাত খুনের মামলার প্রধান নুর হোসেন পালিয়ে যাওয়ার পর তার সা¤্রাজ্য দখল করে নেয় ৪ ভাই। এনিয়ে জাতীয় পত্রিকায় একাধিক রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ পরিবহনে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ঈদের আগে জহিরুল হক র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। মনিরুল ইসলামও ওই চাঁদাবাজির মামলায় ১৫ নাম্বার আসামী। নজরুলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। একাধিক কিলার গ্রুপের সঙ্গে তার পরিচিতি রয়েছে। সন্ত্রাসী বুইট্টা নজরুল সাত মাডারকে পুজি করে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের সঙ্গে হাত মেলায় ফায়দা লুটার জন্য। কিন্তু নিহত নজরুলের পরিবার আর্থিক সুবিধা না পেলেও গত দেড় বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বুইট্টা নজরুল ও তার ভাইয়েরা। তাদের ব্যবসা বলতে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে জায়গা দখল করে অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসা। এখন করছে নিয়মিত মাদক ব্যবসা ও পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি। নুর হোসেনের সকল ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করে নেয় এই চার ভাই। ভাইয়ের মধ্যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হচ্ছে মনিরুল ইসলাম। সকল অপকর্মের লিড দেয় সে। অত্যন্ত চতুর এই সন্ত্রাসী বিশাল এক ক্যাডার বাহিনী নিয়ে চলাচল করে। দিনের বেলা তার তৎপরতা কম থাকলেও রাত হলেই শুরু হয় তার অপকর্মের ষোল কলা। গভীর রাত পর্যন্ত তার মাদকের জলসা ওপেন সিক্রেট। অথচ ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা-পড়া করা নজরুল ইসলাম ওরফে বুইট্ট্রা নজরুল মাদক মুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলে ভোট চাচ্ছে। যাকে বলে ভুতের মুখে রামরাম।
ঠেলাগাড়ি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আমীর হোসেন ভান্ডারীরা ৪ ভাই। তার বাকী তিনভাই হচ্ছে হাবিবুল্লাহ হবুল, নুর ইসলাম ও আলী হোসেন। তিন ভাই মার্কেট ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে থাকলেও আমীর ভান্ডারী মাদক আর নারীকে আপন করে নিয়েছে। গড়ে তুলেছে নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদার জন্য এই বাহিনী পরিবহন থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদেরও ক্ষমা করে না। মাদক ব্যবসাও চলে সমান তালে। ফলে তার এক ছেলে মোরছালিন গত বছর মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পানিতে পড়ে মারা যায় বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। কিন্তু প্রতিহিংসার বশবতি হয়ে আমীর হোসেন তার ছেলে হত্যার জন্য সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ও তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়েছে। আটি অবদা কলোনীর মাটি পর্যন্ত জানে আমীর ভান্ডারী সারারাত মাদকের আসর বসিয়ে চেলা-চামুন্ডাদের নিয়ে নেশার সাগরে হাবুডুবু খায়। ভোররাত ৪টার দিকে ঘুমাতে যায়। আর ঘুম থেকে উঠে বিকেল ৪টার দিকে। প্রতিটা দিন তার একভাবেই কাটে। এ কথা তার পরিবারের সদস্যরাও জানে। মজার বিষয় হলো সে এখন ঠিকমত কথাও বলতে পারে না। এমনকি হাটতে পারে না। দুই তিনজন সবসময় তার পাশে থাকে যাতে সে ব্যালেন্স ঠিক রাখতে পারে। তাছাড়া মনোনয়ন পত্র জমার দেয়ার সময় এবং প্রতীক বরাদ্দের সময় তার কাঁপা দেখে উপস্থিত অনেকই নানা প্রশ্ন তোলেন। এই অসুস্থ লোক কীভাবে নেতৃত্বে দিবে? তখন কেউ কেউ বলে অসুস্থ না। তিনি নেশা করতে করতে এমন হয়ে গেছেন। চিহ্নিত চোর, ছিনতাইকারী, হিরোইনচি, মাদক বিক্রেতারা হলো তার নিত্যসঙ্গী। লেখা-পড়া না জানান এই ভান্ডারীর চারপাশে কখনও ভালো একজন মানুষকে দেখা যায় না। এলাকাবাসী আরো জানায়, আটি ও অবদা এলাকার মানুষ আমীর ভান্ডারী ও তার বাহিনীর কাছে রীতিমত জিম্মি।
এদিকে তার বড় ভাই হাবিবুল্লাহ হবুল ব্যবসায়ির অন্তরালে একজন চিহ্নিত ভুমিদস্যু। সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং করার সময় জোর করে নিরিহ মানুষের লাখ লাখ টাকার জমি দখল করে নিয়েছে। একাধিক বাড়ি, মার্কেট নির্মান করতে গিয়ে নানা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। তার নানা অপকর্ম মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছে না। কারণ তার বিরুদ্ধে কথা বললে আমীরের ক্যাডার বাহিনী এগিয়ে আসে। আর হবুল নিজেই তার হাতকে শক্তিশালী করতে আমীরকে লাঠিয়াল হিসেবে গড়ে তুলেছে। হবুল বিয়ে করেছে দুইটা। মানুষের জমি দখল করাই হবুলের নেশা। এই ভুমি দস্যু বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বিএনপি নেতা, আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামীলীগ নেতা। কিন্তু মজার বিষয় হল, কোন দলেই তার কোন পদ-পদবী নেই। যাকে বলে ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার। বর্তমানে সে তার মার্কেটের বিভিন্ন ব্যবসায়িদের হুমকি-ধামকি দিয়ে তার ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন করতে বাধ্য করছে।
আমীরের নিজের এলাকার ভোটারদের বক্তব্য হচ্ছে, আমীর ভান্ডারী সব সময় মাতাল হয়ে পড়ে থাকে। দিনের বেলা ৪টার আগে কখনো সে ঘুম থেকে উঠে না। কোন কোন দিন দুইদিনেও তার ঘুম ভাঙ্গে না। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবেও সে চলাফেরা করতে পারে না। তার সহকর্মী কয়েকজন মাদক সেবক সব সময় তার চারপাশে থাকে। যাতে চলতে গিয়ে আমীর রাস্তায় পড়ে না যায়। গত ২৫ বছর ধরে নিত্যদিন মাদক সেবন করে আসছে আমীর ভান্ডারী। তার বাড়িতে নিয়মিত মাদকের জলসা বসে। জেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা ও প্রতীক বরাদ্দের দিন সাক্ষর করার সময় আমীরের হাত কাঁপা দেখে উপস্থিত অনেকেই মুখ টিপে হাসতে থাকে। তাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এই লোক কীভাবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে?
লাটিম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আরিফুল হক হাসান জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারে ছেলে। আবদুল মতিন মাস্টার ৭০’র দশকে কয়েক বছর শিমরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে কোন বেতন নেননি। এছাড়া দীর্ঘ ৯ বছর জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশপাশি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যতটুকু সম্ভব তিনি মানুষের উপকার করেছেন। কিন্তু কারো ক্ষতি করেননি। এলাকায় একজন ক্লিন রাজনৈতিক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তার দুই ছেলে এক ময়ের মধ্যে আরিফুল হক হাসান বড়। হাসানের শৈশব কাটে ঢাকার খিলগাঁওয়ে তার নানীর বাড়িতে। নানীর বাড়িতে থেকে গর্ভমেন্ট হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে। পরে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পাশাপাশি ১৯৯৪ সাল থেকে সিদ্ধেশ্বরী অমর জ্যোতি ক্রিকেট ক্লাব (দ্বিতীয় বিভাগ দল) দিয়ে খেলাধূলার জীবন শুরু হয় তার। ২০০০ সালে যাত্রাবাড়ি ক্রীড়া চক্রের (১ম বিভাগ দল) অধিনায়ক নির্বাচিত হই। পরে বিভিন্ন সময় গোপীবাগ ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা মেরিনার্স ইয়াং ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া দলের হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে অংশগ্রহন করেছে। পরে বাবার তত্ত্বাবধানে থেকে ছোট খাটো ব্যবসা শুরু করে। সর্বশেষ ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি শিমরাইল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, নুর হোসেনের সাথে হাসানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটা সত্য কথা। কিন্তু সে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, হাট ইজারা নেয়া, হাটের টাকা আত্মসাত করাসহ কোন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, এটা কেউ প্রমান দিতে পারবে না। তার এক মাত্র ছোট ভাই আতিকুল হক হাসিব একজন ক্রিকেটার। সে এবার ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছে। নুর হোসেনের সহযোগিরা কিছু পলাতক। কিছু সেভেন মার্ডারের মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে তার ক্যাশিয়ারও রয়েচ্ েঅথচ কথিত কিছু সাংবাদিক হাসানকে নুর হোসেনের অর্থ উপদেষ্টা, কেউ আবার সহযোগি বানিয়ে নিউজ করাচ্ছে। এটা দু:খজনক।
এদিকে জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ আরিফুল হক হাসানকে সমর্থন দিয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকায় মতিন মাস্টারের একটা ক্লিন ইমেজ রয়েছে। বাবার এই ইমেজ আরিফুল হক হাসানের জন্য প্লাস পয়েন্ট। এছাড়া তরুণ ভোটারদেরও পছন্দের প্রার্থী আরিফুল হক হাসান। কারণ হাসান একজন শিক্ষিক ও ক্রিকেটপ্রেমী যুবক। সে নির্বাচিত হলে এলাকায় খেলাধুলা, মাদক প্রতিরোধ ও চিত্তবিনোদনের প্রসার ঘটবে, এমনটাই আশা তরুণ ভোটারদের।

Share

Author: 24bdnews

4527 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »