আজ: সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল, ৪ঠা সফর, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ৮:১৯

শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির ধাঁচে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে-শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের অনিয়ম দূর করতে পিএসসি (সরকারি কর্ম কমিশন) ধাঁচের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

1433010246_90175সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৫’-এর প্রথম দিনের দ্বিতীয় কার্য অধিবেশন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এতে সভাপতিত্ব করেন।

মাঠপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ডিসিরা কিছু বলেছেন কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে তারা কোনো প্রশ্ন তোলেননি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়।’

‘এখন দেখতে পাচ্ছি এর মাধ্যমেও ঘুষ নেওয়ার সুযোগ আছে। এ জন্য আমরা পিএসসি (সরকারি কর্ম কমিশন) ধাঁচের একটি প্রতিষ্ঠান এনটিসিই (ব্যাখ্যা দেননি) গড়ে তুলছি, যেখানে আমরা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য পরীক্ষা নিয়ে বাছাই করব। স্কুলগুলোকে আমরা একটা সময় দেব, তার আগেই তারা জানতে পারবে কোন শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। সেই হিসাবে তারা শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা দেবেন। এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে শিক্ষকরা ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে যোগ দেবেন’- বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এতে বাছাই করার বিষয়টি কিন্তু আর ওখানে থাকছে না। তাই দুর্নীতির মাধ্যমে বা বিশেষ এলাকায় বিশেষ ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বন্ধ হবে বলে আমরা আশা করতে পারি।’

তবে কবে থেকে শিক্ষক নিয়োগের এ পদ্ধতি চালু হবে তা জানাননি শিক্ষামন্ত্রী। যদিও গত বছর ডিসি সম্মেলনেও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির আদলে একটি কমিশন গঠন করা হবে।

ডিসিরা অনেক সমস্যার কথা, পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক নতুন বিষয় শুরু করেছি, সেগুলোতে নানা জায়গায় আরও নজর দেওয়া ও উন্নত করার জন্য বলেছেন তারা (ডিসিরা)।’

পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন হবে

ডিসিরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাড়ানো, আরও কার্যকরী করতে শিক্ষকদের ট্রেনিং উন্নত করার কথা বলেছেন বলেও জানান নাহিদ।

পরীক্ষার সময় ক্লাস হয় না বলে ডিসিরা আলাদা পরীক্ষার হল করার প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এত অর্থ নেই যে আলাদা পরীক্ষার হল বানাবো। আমরা তাদের সঙ্গে একমত। আমরাও এ রকম চাই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’

‘বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি রেখে কবে আমরা হল বানাবো, এটা অনেক সময়সাপেক্ষ। তাদের বলেছি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে, এটা আমাদের চিন্তা। তবে অনেক বাধা আছে। যখন নতুন কিছু করতে যাই অভিভাবকরা বাধা দেয়। পরীক্ষা আমরা মাসের পর মাস চালিয়ে যাব, এটাও ঠিক না’- বলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেই জেনেছিলাম কিছু কিছু স্কুল পরীক্ষার সময় এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষার সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের বলে দেয়। এ বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে। এরা শিক্ষকদের কলঙ্ক, আমরা এদের রেহাই দেব না।’

শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তারা কী ভূমিকা নেবেন আমরা তাও বলে দিয়ে এসেছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসিদের সহায়তা চাইলেন মন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিদর্শন ব্যবস্থা খবুই দুর্বল, নেই বললেই চলে। আমরা চাই জেলা প্রশাসকরা আমাদের সহযোগিতা করবেন। পরিদর্শন, তদারকি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন আমাদের সহযোগিতা করা হয়, এ আহ্বান জানিয়েছি। তারা আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সব জেলায় একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রয়েছেন। তাকে যেন এ কাজের সঙ্গে সার্বিকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়, সেটাও আমরা বলেছি।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘তারা (ডিসি) বলতে চেষ্টা করেছেন আমাদের নতুন কাজগুলো নানা ধরনের নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে, সেগুলো যেন আমরা সুরাহা করতে পারি। আমরা ভাল মানুষ তৈরি চেষ্টা করছি, এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়। আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।’

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান উন্নত করতে ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সবাই আমাদের সাহায্য করবেন। কোন জায়গায় কোন ব্যত্যয় আছে। আমাদের তো সীমাবদ্ধতাও আছে। কোথায় শিক্ষক, কোথায় ট্রেনিংয়ের অভাব আছে- সমস্যাগুলো তারা তুলে ধরেছেন। সেগুলোর বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দিতে বলেছেন।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি আমাদের সীমাবদ্ধ সাধ্যের মধ্যে রাষ্ট্র যে অর্থ আমাদের বরাদ্দ দেয়, সে অর্থ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়। শুধু স্কুলে ছাত্র ৯৭-৯৮ শতাংশ উপস্থিত করেছি এটাই যথেষ্ট নয়, স্কুলে অর্জনটা কী হল সে বিষয়টা যেন আমরা সবাই মিলে লক্ষ্য রাখি, সেটিার বিষয়ে আমরা তাদের (ডিসিদের) সহযোগিতা কামনা করেছি।’

৩৬ ছিটমহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার সুপারিশ

সভায় উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ৩৬টি ছিটমহলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। এ বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মেজবাহ উল আলম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Share

Author: 24bdnews

4662 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
11121314151617
252627282930 
       
 123456
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »