আজ: বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল, ২রা জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, সকাল ১০:২৮

সুন্দরবনের ৩৫০ বাঘ উধাও

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): এক সময় সুন্দরবনের ‘মানুষ খেকো বাঘ’ মারার জন্য পুরস্কার ঘোষণা হতো। সময় বদলের বাঁকে সেই বাঘ রক্ষার জন্য এখন সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারপরও প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বাঘ চিহ্নিত হয়েছে মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে।

Tiger-Reportবন বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আট বার বাঘ জরিপ হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি জরিপেই বাঘের সংখ্যা সাড়ে তিন শ’ থেকে সাড়ে চার শ’র মধ্যে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৫ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ১০৬ দেখানো হয়েছে। এর আগের ২০০৯ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা দেখানো হয় ৪৫০টি। সে হিসাবে সুন্দরবনে বাঘ কমেছে ৩৪৪টি।

২৯ জুলাই বুধবার বিশ্ব বাঘ দিবস। জাতীয়ভাবে ঢাকায় এবং আঞ্চলিকভাবে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ে দিবসটি উদ্‌যাপন হচ্ছে।

বাঘ দিবসে এ বছর বাংলাদেশের স্লোগান ‘বাঘ বাঁচলে বাঁচবে বন, রক্ষা পাবে সুন্দরবন’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মাত্র তেরটি দেশে বাঘ আছে।

তবে, সর্বশেষ ক্যামের ট্র্যাপ পদ্ধতিতে মাত্র ১০৬টি বাঘ পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাংকের স্ট্রেংদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ডলাইফ প্রটেকশন প্রজেক্টের অর্থায়নে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সহায়তায় বন বিভাগ ক্যামেরা পদ্ধতি ব্যবহার করে এই জরিপ করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ গবেষক মনিরুল হাসান খান এ বিষয়ে বলেন, ‘আগে যে সব পদ্ধতিতে বাঘ জরিপ হয়েছে সেগুলো তুলনামূলক কম গ্রহণযোগ্য। সর্বশেষ পদ্ধতিটিই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।’

দীর্ঘদিন সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন করছেন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই সরকারকে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলাম। কিন্তু সরকারি লোকজন কখনই আমলে নিতেন না। এখন সেটার ফল দেখা যাচ্ছে, সরকারই স্বীকার করছে।’

আন্তর্জাতিকভাবে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ট্রাফিক-এর সূত্র উল্লেখ করে বন বিভাগ জানিয়েছে, ২০০০-২০১২ সালের মধ্যে বাঘ থাকা ১৩টি দেশে ৬৫৪টি চামড়া, দেহাবশেষ ও হাড় জব্দ হয়েছে। তার ভিত্তিতে উল্লিখিত সময়ে ১৪ শ’রও বেশী বাঘ মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।

বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে বলেন, ‘বাঘ রক্ষার ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে সরকার। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে এখনো সক্ষমতা অর্জন হয়নি। সেই চেষ্টাই এখন আমরা করছি।’

বনের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ তৃণভূজী প্রাণীদের শিকার করে বনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রাণী হিসেবে কাজ করে।

সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী, ‘বাঘ শিকারী বা হত্যাকারী জামিন অযোগ্য হবেন এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা ১ (এক) লাখ থেকে ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি অপরাধ দমন ইউনিট করেছে। তপন কুমার দে এই ইউনিটেরও পরিচালক। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ২৮ থেকে ৩০টির মতো বাঘ সংক্রান্ত মামলা আছে। কিন্তু কোনোটিতেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়নি। এর জন্য আলাদা একটি আদালত থাকলে ভাল হতো।’

২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত টাইগার সামিটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। ওই সামিটের প্রথম ঘোষণাটিই ছিল— ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে।

বাংলাদেশের বন বিভাগ ও জাতিসংঘের সহায়তায় চালানো ২০০৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার শ’। কিন্তু সর্বশেষ হওয়া জরিপে দেখা যাচ্ছে বাঘের সংখ্যা এক শ’র কিছু বেশী। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— জরিপ পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা সমস্যার কারণে এই পার্থক্য হয়েছে।

সর্বশেষ জরিপ পরিচালনায় নেতৃত্বদানকারী ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবীর  বলেন, ‘বাঘ জরিপের জন্য আমাদের অনুসরণ করা পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে বেশ গ্রহণযোগ্য। তারপরও জেনেটিক স্যাম্পল কালেকশন করে জরিপ করতে পারলে সেটা আরও গ্রহণযোগ্য হয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এ রকম জরিপ হতে পারে।’

সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা কম-বেশী চার হাজার ধারণা করা হয়। যে তেরটি দেশে বাঘ রয়েছে, সেগুলো হল— বাংলাদেশ, ভারত, রাশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান ও নেপাল। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত গত দুই বছরে চার শ’র মতো বাঘ বৃদ্ধিতে (৫৫টি এলাকায় মোট প্রায় সতের শ’) সক্ষম হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনূস আলী বলেন, ‘কোনো প্রক্রিয়াতেই বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এখনকার যে পরিসংখ্যানটি পাওয়া গেছে, সেটিও আরও খতিয়ে দেখা হবে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণ এখনো পাওয়া যায়নি। পশুগণনা মানুষ গণনার মতো নয়, তাই কিছু পার্থক্য থাকেই।’

গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভের (জিটিআই) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে ১৯০০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ১ লাখের মতো। বর্তমানে বাঘের সংখ্যা কম-বেশী চার হাজার। বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা চলমান থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত চল্লিশ বছরে সুন্দরনের বাঘ জরিপে দেখা গেছে, ১৯৭৫ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৩৫০, ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫, ১৯৮৪ সালে ৪৫০, ১৯৯২ সালে ৩৫৯, ১৯৯৩ সালে ৩৬২, ২০০৪ সালে ৪৪০, ২০০৯ সালে ৪৫০ ও চলতি বছরের জরিপে বলা হয়েছে ১০৬টি বাঘের অস্তিত্বের কথা।

– See more at: http://www.thereport24.com/article/117480/index.html#sthash.yjtwuFk5.dpuf

Share

Author: 24bdnews

4543 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »