বিএনপি পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

0
9

বিশেষ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): ঈদের পর দল পুনর্গঠন করা হবে’— বিএনপি প্রধানের এমন ঘোষণা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তবে দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যে বিএনপির পুনর্গঠন সম্পন্ন হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, কারাগারে আটক নেতাকর্মীরা মুক্তি পেলে পুনর্গঠন দৃশ্যমান হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঈদ গেল সবে মাত্র তিন সপ্তাহ হল। আশা করি, অক্টোবরের মধ্যেই দল পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যারা বাইরে আছেন তাদের নিয়েই দল পুনর্গঠনে হাত দেবেন নেত্রী।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা কিছু নেতাকর্মী জেলে রাখবেন। এর মধ্যেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’

দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান  বলেন, ‘দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নেতাকর্মীরা মুক্তি পেলে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মুক্ত করে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮ জুলাই ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই ঈদের পর দল পুনর্গঠনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী জেলে আছেন, গুম হয়েছেন। সুতরাং এখন আমাদের রি-অর্গানাইজ হতে হবে। দল পুনর্গঠনের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাব।’

তবে সদ্য কারামুক্ত এক শীর্ষনেতা বলেন, ‘এই মুহূর্তে দল পুনর্গঠনের মতো অবস্থায় নেই। সরকারের দমন-পীড়নের কারণে আমরা কোথাও একসঙ্গে বসার সুযোগ পাচ্ছি না। তা ছাড়া নেতাকর্মীদের জেলে রেখে কাদের দিয়ে দল পুনর্গঠন করব আমরা? আলোচনা করার জন্য একটা হল ভাড়া নেওয়ার দরকার, সেখানেও সরকার প্রশাসনের লোক দিয়ে ভরে দিবে। তাহলে আমাদের দাঁড়ানোর জায়গাটা কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘চাইলেই তো আমরা দল পুনর্গঠন করতে পারছি না। আজকে পুলিশ দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের যে অবস্থায় রেখেছে আওয়ামী লীগ যদি এ অবস্থায় থাকত তাহলে তাদের খুঁজেই পাওয়া যেত না।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নেতাকর্মীদের মুক্তির পরই দল পুনর্গঠন করা হবে। এর মধ্যে নেতাকর্মীদের মুক্তির ব্যাপারে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো পথ সামনে খোলা নেই। অগণতান্ত্রিক সরকার বিএনপিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছে। তা সফল হবে না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।

বিএনপির আইনজীবী ও দলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘নেতাকর্মীদের মুক্তির ব্যাপারে আইনি তৎপরতা অব্যাহত আছে। আমরা একটা মামলার জামিন করাচ্ছি, আবার আরেকটি মামলা দিয়ে রিমান্ড চাচ্ছে। এভাবেই চলছে।’

বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী কারাগারে অন্তরীণ আছেন বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিনে মুক্তি পেয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও জমিনে মুক্তি পেয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় প্রায় এক বছর যাবত কারাগারে রয়েছেন তিনি। কারাগারে অন্তরীণ আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া কারাগারে আছেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু ও রুহুল কবির রিজভী।

কারাগারে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তাদের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বাবর ব্যাপক আলোচিত চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নান, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জিকে গউস কারা অন্তরীণ আছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনিও আছেন কারাগারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here