আজ: বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল, ২রা জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী, সকাল ১০:৩৮

বিচার হয় না, খুনিরা আশকারা পায়

 হাবিবুর রহমান স্বপন (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): কলম আর চলে না। দেশ থেকে মনুষ্যত্ব, মানবতা বিদায় নিয়েছে। হত্যা-খুন, বর্বরতার খবর প্রতিদিন সংবাদপত্রে এবং টেলিভিশনে দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছি। কোন বিষয় নিয়ে লিখবো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না পুরো এক সপ্তাহ ধরে। 

প্রতিদিনই নৃশংস খুনের খবর আসছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। ঢাকা, সিলেট, খুলনা, পাবনা, যশোর, মাগুড়া, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম সকল এলাকা থেকে একই ধরনের নৃশংসতার খবর আসছে। সিলেটে কিশোর রাজনকে হত্যা করা হয় সড়কের পাশে একটি খুঁটিতে বেঁধে। সড়ক দিয়ে কত লোক যাতায়াত করলো, কেউ বাঁধা দিল না। পুলিশ জেনেও প্রতিকার করলো না। আসামী দিব্বি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল। 

রাকিব নামের কিশোর খুলনার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতো। সে মালিককে বলেছিল, কাজ করবে না। অর্থাৎ সে হয়তো বেশি পারিশ্রমিকে অন্য কোথাও কাজ করার কথা ভেবেছে। প্রতাপশালী মালিক তাকে হত্যা করলো নৃশংসভাবে। গরু চুরির অভিযোগ এনে রাজধানীর মস্তুল গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে পানিতে ডুবিয়ে ১৫ বছরের কিশোর নাজিমকে হত্যা করার একটি খবর টেলিভিশনে দেখার পরদিনই দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে একজন মুক্তমনা ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করার খবর পড়লাম সংবাদপত্রে। বরগুনায় মাছ চুরির অভিযোগে ঘের মালিক মিরাজ উদ্দিনের হাতে নৃশংসভাবে কিশোর রবিউলের খুনের খবরও পড়লাম|

পিতৃক্রোড়ে এবং মাতৃ জঠরের শিশুও নিরাপদ না। দু’দলের গুলির শিকার মায়ের পেটের শিশু। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সে জানলো মানুষ কতটা অসহিষ্ণু-বর্বর। এক দিনের শিশুকে ১৪ তলার ওপর থেকে ছুরে ফেলে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিদিনই এমন খুনের খবর সংবাদপত্রের পাতাজুড়ে। শরৎচন্দ্রের একটি লেখায় পড়েছিলাম, ‘মানুষের মৃত্যু আমাকে আঘাত করে না, কিন্তু মনুষ্যত্বের মৃত্যুকে আমি সইতে পারি না’। আমরা কি মনুষ্যত্বের শিক্ষা পাচ্ছি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন’। তিনি আরও বলেছেন, ‘পাপ পুণ্য, উত্থান-পতনের মধ্য দিয়া আমাদের মনুষ্যত্ব উত্তরোত্তর পরিস্ফুট হইয়া থাকে’।

একজন মানুষের কাছে তার একমাত্র পথপ্রদর্শক হচ্ছে তার বিবেক, তার মরণোত্তর খ্যাতির একমাত্র ধর্ম হচ্ছে তার সততা এবং তার আচরণের আন্তরিকতা। বিবেক মারা গেছে। সততা বিদায় নিয়েছে। ধর্ম আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। ধর্মের নামে চলছে অধর্ম। বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলির কথাটাই তা হলে সত্য! তিনি বলেছেন, ‘মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই অকৃতজ্ঞ, অবিশ্বাসী, ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদী ও স্বার্থান্বেষী হতে চায়।’

খুন হচ্ছে মানুষ কিন্তু খুনের বিচার হচ্ছে না। বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা, তারা খুনের রক্তের নোনা স্বাদ নিচ্ছেন। পুলিশ, ডাক্তারসহ অন্যান্যরা রক্তের স্বাদ নিচ্ছেন! আইন শৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন। খুনির টাকায় অনেকের পকেট ভারী হচ্ছে। গাড়ি-বাড়ি হচ্ছে। বিলাসী জীবন-যাপন করছেন। সন্তানদের বিদেশে পড়াচ্ছেন। একজন পুলিশ অফিসারের চালচলন দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সমন্বয় নেই। ময়না তদন্ত (পোস্ট মর্টেম) সার্টিফিকেট দিয়ে চিকিৎসক অর্থ আয় করছেন। কসাইও যেন ফেল তার কাছে। আইনজীবী তার পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে আছে। মামলার তারিখ পড়ছে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলছে মামলা। খুনিরা দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। একের পর এক খুন করছে। মামলার সাক্ষী আদালতের বারান্দা পর্যন্তও যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা খুনির সঙ্গে আপোষ করে কোনো রকমে মুখ বুঁজে অসহায় হয়ে বসবাস করছে। হায়রে অবস্থা! 

গত এক দশকে পাবনা শহরে খুন হয়েছে ৬৭ জন। ঈশ্বরদী শহরে খুন হয়েছে ২১ জন। এটি শুধু দু’টি শহরের হিসাব। জেলা জজের বাড়ির অদূরে পাবনা পুরাতন পলিটেকনিকের পশ্চিম পাশের সড়কে দিনের বেলা প্রকাশ্যে খুনি ছুরিকাঘাত করে এক যুবককে। খুন করে বীর দর্পে ছুরির রক্ত ঘাসে মুছে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে চলে গেলেও গত ৪ বছরে সেই খুনি গ্রেফতার হয়নি। গত বছর এক যুবককে ১৫ আগস্ট পাবনায় শোক মিছিল থেকে ধরে নিয়ে শহরের সোনাপট্টিতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এখনও দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায় দু’বছর আগে পাবনা জজকোর্টের পশ্চিম-দক্ষিণ কোন বরাবর পুলিশ লাইন মাঠের দক্ষিণ দিকে স্টেশন ক্লাবের কাছে গ্যাদামনিকে দিনে দুপুরে খুন করা হয় কুপিয়ে। সেই মামলারও কোনো সুরাহা হয়নি। 

শহরের রবিউল মার্কেটে এক সেলুন কর্মচারীকে কুপিয়ে খুন করা হয় বিকাল বেলা। শহরের বর্তমান স্কুটার স্ট্যান্ড বা পুরাতন ঘোড়া স্ট্যান্ডে ২৯ মে ২০১৩-এর সন্ধ্যায় এক যুবকের পেটের মধ্যে চোখা রড ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাবনা নিউ মার্কেটের পূর্ব দিকের সড়কে মিলন নামের এক যুবককে বিএনপি’র মিছিল থেকে ধরে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্কয়ারের একজন কর্মকর্তা নিহত হন টিবি হাসপাতালসংলগ্ন একটি বাসায়। হাজীর হাটে রিপন নামের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই মামলার সাক্ষী পুলিশের হয়রানীর শিকার। শোনা যায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাবনার এক গড ফাদার। 

কৃষ্ণপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মফিজুল ইসলাম মাফুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মাফু ছিলেন যুবলীগ নেতা। এর ক’দিন পরেই কাশিপুর বাজারের কাছে এক যুবককে প্রকাশ্যে খুন করা হয়। দক্ষিণ রাঘবপুরের মিলনকে নৃশংসভাবে খুন করা হয় ২০১৩-এর ৮ জানুয়ারি। ২৯ মার্চ এডরুক লিমিটেডের এক কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে। এডওয়ার্ড কলেজের প্রধান গেইটের সামনে বিকাল বেলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় কাইল্যা ফরিদকে। কুটিপাড়ার মেহেদী হাসানকে কুপিয়ে হত্যা করে খুনীরা ২০১৩-এর ৫ মে। কুটিপাড়া চামড়া গুদামের নিকট ছেলে সুমনকে না পেয়ে ২০১৩-এর ১২ মার্চ পিতা মোস্তফাকে হত্যা করে কয়েক খুনি। আওয়ামী লীগ হামিদ মাস্টারের বাড়িতে তারই পিস্তলের গুলিতে এডওয়ার্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের ছাত্র মাসুদ নিহত হয়। শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা অসিত কুমার ভদ্র ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট খুন হন। তার মৃতদেহ পাওয়া যায় শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি বিলের মধ্যে।

পাবনা পৌরসভার কমিশনার মোহাম্মদ কাওসার ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে পৌরসভার সামনে খুন হন। জেলা প্রশাসকের দপ্তর এবং জেলা জজের বাসার অদূরে প্রকাশ্যে এই খুন হয় দুপুর বেলা। খুনিরা গুলি করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ভাবে পাবনা শহরে দিনের বেলা অনেকগুলো খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র শহরের দক্ষিণ দিকের কাচারিপাড়া সংলগ্ন মলপাড়াতেই ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ১ আগস্ট সাইকেল চুরির অভিযোগ এনে তুলসি নামের এক ধাঙ্গোর যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে শহরের প্রভাবশালী একটি পরিবারের কয়েকজন মিলে। মাত্র ক’দিন আগে শহরের মেরিল বাই পাস রোডে ফুরকান হাজীকে রাত ৮ টায় বাজারের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েকজন। কোনো খুনেরই সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার হয়নি। জানা গেছে কয়েকটি হত্যার বিচার চলছে। আরো জানা গেছে বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টাকা দিয়ে মামলা উঠিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। সাক্ষীর অভাবে অনেক মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। দিন-তারিখ পড়ছে। মামলা জটের সৃষ্টি হচ্ছে আদালতে।

প্রভাবশালীরা খুন করে। খুনের পর সমাজের অপর সুবিধাভোগীরা প্রভাবশালীদের পক্ষাবলম্বন করে, শালিসের নামে মামলা ধামাচাপা দেয়। এতে লাভবান হয় পুলিশ, ময়না তদন্তকারি ডাক্তার, শালিসের মধ্যস্থতাকারি দালাল, তদন্তকারি পুলিশ অফিসারসহ অনেকেই। 

দেশে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার উপায় নেই। ঘটনাগুলো ঘটছে অনেকগুলো কারণে। ঘটনা ঘটছে কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করছে না। দাঁড়িয়ে দেখছে, মোবাইল ফোনে ছবি উঠাচ্ছে। তার কারণ সবাই নিজের নিজের ভাবনা ভাবছে। পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। আমরা এখন চলছি সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। অস্থিরতা অসহিষ্ণুতার জন্ম দিচ্ছে। মানুষ ধৈর্যহীন হয়ে পড়ছে। অসহিষ্ণুতার কারণে বিড়ম্বনা ক্রমশ বাড়ছেই।

পরিস্থিতি দেখে মানে হচ্ছে কারও নৃশংসতা অন্যের আনন্দের খোরাকে পরিণত হচ্ছে। রাজনকে যখন নির্যাতন করা হয় তখন সেখানে দাঁড়ানো দর্শকদের অনেকেই হেসেছে। রাজন যখন তৃষ্ণায় ছটফট করছিলো তখন তাকে নির্যাতনকারীরা ঘাম পান করতে বলছিল। কেউবা তখন মুঠোফোনে ছবি ওঠাচ্ছিল। আবার রাকিবের গুহ্যদ্বারে যখন পাম্প মেশিনের পাইপ দিয়ে বাতাস দেয়া হয় তখনও সেখানকার দর্শক নারী-পুরুষ কৌতুক করেছে। রাকিব তখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল এবং বলছিল, ‘মামা আমি আর পারছি না। আমাকে মারবেন না’। সেই ব্যাঙের গল্পের মতো। শিশুরা ঢিল ছুড়ে আনন্দ করছে, আর ওদিকে ঢিলের আঘাতে ব্যাঙ মরছে। মৃতপ্রায় ব্যাঙ বলছে, ‘তোমাদের আনন্দ আমাদের মৃত্যুর কারণ।’

আমরা জানি, নিষ্ঠুর লোক সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে অপছন্দের। এরপরও সেই অপছন্দের কাজেই যেন উৎসাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ক্রমশই লোপ পাচ্ছে। বর্বরতার ধরন দেখে বলা যায় মনুষ্যত্ব নাই মানুষের। পশুত্বের প্রতিফলন সুস্পষ্ট তার কাজে-কর্মে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখে আঁতকে উঠতে হয়। ১ মে থেকে ৩০ আগস্ট সারাদেশে ১১ শতাধিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত তিন মাসে খুন হয়েছে ১৭৭ জন। যাদের বেশিরভাগই শিশু। শতাধিক শিশু অপহরণের শিকার হয়েছে।

পাবনা জেলার বিভিন্ন থানায় শিশু ও নারী হত্যার কয়েক’শ মামলা রয়েছে। যেগুলোর চার্জশিট দেয়া হয়নি। বহু মামলার তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। বাবংবার তদন্তকারি কর্মকর্তার পরিবর্তন হওয়ায় মামলা তামাদী হয়ে যাওয়ার অবস্থা। ১৫ বছর ধরে বিচারাধীন খুনের মামলার সংখ্যা আড়াইশ। ১০ বছর ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় আটশ। 

মামলায় দীর্ঘ সময় লাগার কারণে সাক্ষ্য মিলছে না। এ ছাড়া  মামলাটি যে পুলিশ অফিসার রেকর্ড করেছিলেন তিনিও অনেক বিষয় ভুলে যান, যে কারণে মামলায় বাদী পক্ষ ভালো ফল পান না। এ ছাড়া মামলার আলামতও যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হওয়ায় মামলা দুর্বল হয়ে পড়ছে। খুন বা হত্যা প্রমাণের জন্য আলামত অন্যতম একটি অনুষঙ্গ। এ ভাবেই খুনি পার পেয়ে যায়। এতে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। খুন, রাহাজানি ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক অস্থিরতার কারণগুলো কী এবং তা নিরসনের জন্য কী করণীয় তা এখনই আমাদের ভেবে দেখতে হবে। অন্যথায় ক্রমশই সকল কিছু আয়ত্বের বাইরে চলে যাবে। তখন হবে ভয়াবহ বিপর্যয়। 

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

Share

Author: 24bdnews

4543 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
21222324252627
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »