ঈদে বাড়ি ফেরা : ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

0
8

 ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নাড়ীর টানে গ্রামমুখী মানুষ। তাই ফাঁকা হতে শুরু করেছে কর্মব্যস্ত ঢাকার পথ-ঘাট। গ্রামমুখী মানুষের স্রোত এখন রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালের দিকে। তবে তাদের গতি আটকে যাচ্ছে সড়কে-মহাসড়কে। রাস্তায় তীব্র যানজটে বাস যেন চলতেই চায় না। অন্যদিকে রেল ও লঞ্চের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। সিট না পেয়ে রেল বা লঞ্চের ছাদে গন্তব্যে ফেরার চিরচেনা দুর্ভোগে যোগ হয়েছে বৃষ্টি।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ঢাকা থেকে গ্রামে ছুটছেন মানুষ। অনেকে স্ত্রী-সন্তানদের আগেই বাড়ি পাঠিয়েছেন। বুধবার ছিল সরকারি-বেসরকারি অফিসের শেষ দিন। এদিন সকালে কোনো মতে হাজিরা দিয়েই অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে ছুটেছেন গ্রামের দিকে। অনেকে আবার অফিস শেষ করে সোজা রওনা দিয়েছেন বাস, লঞ্চ বা রেল স্টেশনের দিকে। কর্মব্যস্ত ঢাকা ছেড়ে মানুষের স্রোত গিয়ে ঠেকেছে এসব টার্মিনালে।

প্রতিবারের মতোই ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাই চিরচেনা যানজটের নগরীতে নীরবতা নেমে আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পাল্টে যাচ্ছে ঢাকার রাস্তাঘাটের চিত্র। ঈদের কয়েকদিন রাস্তায় গাড়ির তীব্র হর্ণ বা অসহনীয় যানজট চোখে পড়বে না ঢাকাবাসীদের। অলি-গলি, মূল রাস্তা-সবখানেই শুনশান নীরবতা বিরাজ করবে সপ্তাহখানেক।

রাজধানীর কমলাপুর ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বুধবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল গ্রামমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সিট পাওয়ার জন্য অনেকেই রাত কাটিয়েছেন টার্মিনালে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঘরমুখী যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে হেঁটে যাচ্ছেন টার্মিনালের দিকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। মানুষের ঢলে আপনাআপনিই চলে যাচ্ছেন ঘাটের দিকে।

লঞ্চ টার্মিনালে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈকত হাসান  বলেন, ‘আমার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে। আমার সঙ্গে আরেকজন আছেন। তাই ৩০০০ টাকায় কেবিন নিয়েছি। দেখি এখন ভালভাবে বাড়ি যেতে পারলেই হয়।’

বরিশালের গৌরনদীর যাত্রী সিকদার জোবেদ আলী বলেন, ‘একদিন আগেই ছুটি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছি। ঈদের খুশিতে কয়েকটি দিন বেশি পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাই।’

এদিকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষকে সারিবদ্ধ হয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে ছাদেই উঠে পড়ছেন অনেকে।

রেল বা লঞ্চে যারা যাচ্ছেন অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় জীবনের ঝুঁকি থাকছে বরাবরই। তবে এ দুটি যানবাহনের ক্ষেত্রে যানজটের ভোগান্তি পোহাতে না হলেও যারা সড়ক পথে তথা বাসে করে গ্রামে ফিরছেন তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে বিকেল চারটার দিকে বাসে উঠেছেন দ্য রিপোর্টের প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। তিনি সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে টেলিফোনে জানান, এখন তিনি গাজীপুর পাইপাসে (চৌরাস্তার আগে) আটকে আছেন দীর্ঘ সময় ধরে। সামনেও তীব্র যানজট। গাড়ি আর নড়ছে না।

আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুমুখী মহাসড়কে তীব্র যানজট রয়েছে। বরং বিকেল থেকে যানজটের মাত্রা আরও বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঈদে ঘরমুখো মানুষ আটকে আছেন রাস্তায়। এতে শিশু ও নারীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে যারা ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন-বৃষ্টির কারণে তাদের দুর্ভোগের সীমা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here