আজ: শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শীতকাল, ২৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী, সন্ধ্যা ৭:০৫

‘বিএনপিকে তার আসল জায়গায় ফিরতে হবে’

বিশেষ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): রাজনীতির সমীকরণে নিজেদের কিছুটা ভুল হয়েছে মেনে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘বিএনপিকে তার আসল জায়গায় ফিরতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে প্রেক্ষাপটে ও যে উদ্দেশ্যে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এ রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; সেই উদ্দেশ্যের জায়গাটিতে আমাদের ফিরতে হবে। তাহলেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যতই অপচেষ্টা করুক না কেন, আমাদের (বিএনপি) জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, বিএনপি যেমন একটি বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, তেমনি সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দলও বটে। তাই কিছুটা দুর্বলতা ও দুঃসময় কাটিয়ে বিএনপি আবারও তার সঠিক জায়গায় পৌঁছাবে। এতে হতাশার কিছু নেই। আমরা হতাশও নই।

রাজধানীর আসাদ গেটের নিজের বাসায় বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘসময় সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা তার দলের বর্তমান অবস্থান ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশের মানুষ এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি ও সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের শিকার হয়ে একপ্রকার বিভীষিকাময় জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ার পরও এ অগণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে তাদের শাসনামলে মোট ৯ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে তারা এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। নতুন করে বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বিগত ৫ জানুয়ারির বিনাভোটের এ সরকার যে জনগণের সরকার নয়, তা আবারও প্রমাণ করল। এ সময় বিগত বিএনপি সরকারের এ সাবেক বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির জন্য নেওয়া কুইক রেন্টাল প্রকল্পগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে নতুন করে সরকার যে চুক্তির মাধ্যমে সেসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে, সেসব চুক্তিতে প্রকৃতপক্ষে কি আছে তা জনগণ জানতে পারেনি।

বর্তমানে দেশের মানুষ ‘ডিপ্রেশান’ সময় কাটাচ্ছে মন্তব্য করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার রাজনীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তা থেকে ফেরা তাদের নিজেদের জন্যও চরম রিস্কি হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ আজ চরম ডিপ্রেশানে আছে। তারা সরকারের চরম অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপেরও কোনো বিরোধিতা করছে না। সে সুযোগও নেই। কিন্তু সময় এভাবে যাবে না। মানুষের ক্ষোভ দিন দিন আগ্নেয়গিরির মতো ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তাছাড়া সরকারকে মনে রাখতে হবে শুধু এই উপমহাদেশে নয়, বাংলাদেশের মানুষ সারা পৃথিবীতে সব চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। তারা এভাবে বেশিদিন চুপ করে থাকবে না, থাকতে পারেও না। একদিন মানুষ ক্ষোভে জ্বলে উঠবে। সেদিন কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো পাত্তা থাকবে না।

বিএনপি বিগত নিকট অতীতে রাজনৈতিক সমীকরণ মিলাতে কিছুটা ভুল করেছে স্বীকার করে দলের এ সিনিয়র নেতা বলেন, রাজনীতি হচ্ছে সমীকরণের অংক। সমীকরণ মেলাতে একটু গড়মিল হলে তার মাসুল দিতে হয়। আমরা ভুল না হলেও সমীকরণ মেলাতে ‘হয়ত’ কিছুটা ভুল করেছি। যার কারণে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল করতে সুযোগ পেয়েছে।

তিনি তার এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারীর যে প্রহসনের ভোটে এ সরকার আজ ক্ষমতা আছে, সেই নির্বাচনে যদি ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করতেন অথবা আমরা (বিএনপি) যদি শুধু মনোনয়নপত্র জমাও দিতাম, তাহলে শেখ হাসিনা নিজেই সেই নির্বাচন থেকে সরে আসত। বিনাভোটের কোনো নির্বাচনও হত না।

তিনি আরও বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্ব থেকে দেশে যে গণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অভূতপূর্ব। নজিরবিহীন। এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল আন্দোলনগুলোর একটি। জনগণ আমাদের সেই আন্দোলনে এমনভাবে একাত্ম হয়েছিল যে কোনো হাট-বাজারে আওয়ামী লীগ অনুসারী কোনো দোকানদারও নিজেদের দোকানপাট খুলেনি। তারাও একতরফা নির্বাচনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। সরাদেশ থেকে রাজধানীতো বটেই এক জেলা থেকে আরেক জেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ এ আন্দোলন করেছে।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে যদি যুদ্ধরত সৈন্যদের সরিয়ে এনে আবার সেখানে পাঠানো হয়, তাহলে আগের অবস্থানে পৌঁছাতে তাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তেমনি আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ঢাকায় ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে যোগ দিতে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবনের রিস্ক নিয়ে ঢাকায় এল। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে তারা নিজেরাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল। আমরা (কেন্দ্র) মাঠে নামতে পারলাম না। মূলত এভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের আমরা আন্দোলনের মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলাম। যে মাঠে আর তারা ফিরতে পারেনি। এখন নিজেরাই ফেরারি হয়ে অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। এ কারণেই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহতে দেশে যে স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলন হয়েছিল, বিগত ১ জানুয়ারি থেকে টানা তিনমাস কিন্তু আমরা তেমন স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন করতে পারিনি। কারণ সারাদেশে আমাদের এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে ন্যুনতম ১০টি থেকে উপরে ৭০/৮০টি মামলা দেওয়া হয়নি। আর এসব মামলার প্রতিটিই দেওয়া হয়েছে-হত্যা, নাশকতা, গাড়ি পোড়ানোসহ মারাত্মক সব আইনি ধারায়।

তিনি জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে পথে বসাতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জঘন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আগে আমার জেলার (সিরাজগঞ্জ) নেতাকর্মীদের নামে মামলা জেলার আদালতেই বিচার চলত। কিন্তু বর্তমানে সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে এসব মামলা এখন বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালে নিয়ে গেছে। সে কারণে এখন ওই সব মামলায় হাজিরা দিতে আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে প্রতি সপ্তাহে একাধিকবার রাজশাহীতে যাতায়াত করতে হয়। আজকেও (বৃহস্পতিবার) সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাড়ে তিনশ নেতাকর্মী ১১টি বাস ভাড়া করে রাজশাহীতে মামলার হাজিরায় গেছে। তাদের আবার আগামী ১০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় হাজিরা দিতে সেখানে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ নেতাকর্মীরা যার যার এলাকা থেকে আগে এসব মামলায় হাজিরা দিতে শহরে আসত। দুপুরে দোকান থেকে দুটি আটার রুটি কিনে খেত। জামিন পেলে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে যেত। কিন্তু এখন বিভাগীয় পর্যায়ে হাজিরার জন্য এসব হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নিজের শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার মিথ্যা মামলায় হয়রানি-নির্যাতনের পাশাপাশি মানুষকে একেবারে নিঃস্ব করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যা মানুষকে দিনদিন বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। আখেরে আওয়ামী লীগকে এর খেসারত যে দিতে হবে না, তা কে বলতে পারে?

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ দলের পূনর্গঠনের বিষয়ে বলেন, কেন্দ্র দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সকলেই চেষ্টাও করছি। কিন্তু জেলার সব নেতাকর্মীরাই যখন মিথ্যা মামলায় আত্মগোপনে তখন কিভাবে এ পুনর্গঠন হবে, আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের দলের জাতীয় কাউন্সিল ও জেলাগুলোর কাউন্সিল সব কিছুই নির্ভর করছে, এ সরকার কতটুকু আমাদের রাজনৈতিক স্পেস দেবে তার উপর। আমরাতো এ স্পেস নির্ধারণ করতে পারব না। কারণ বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড মিলিট্যান্ট রাজনৈতিক দল নই যে সরকারের কাছ থেকে তা আদায় করে নেব। তাই সরকারকেই এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। তাদের বোধোদয়ের উপরই আমাদের দল পুনর্গঠন নির্ভর করছে।

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, আমাদের শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে ও চেতনায় ফিরে গিয়ে তার চর্চা করতে হবে। তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশে বিএনপি গঠন করেন তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে তার দলে দেশের অধিকাংশ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা যোগ দেন। বাংলাদেশে বিদ্ধমান সব রাজনৈতিক দলের চেয়ে বিএনপিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি। আমরা আমাদের গৌরবের এ বিষয়টিকে সেভাবে প্রচারের আলোয় আনতে পারিনি। যে কারণে আওয়ামী লীগ আমাদের চিহ্নিত করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির দোসর হিসেবে। তারা অপপ্রচার চালায় বিএনপি মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার বিরোধী। কিন্তু তাদের এ অপবাদ ঠিক নয়। আমরা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ এ অর্জন মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগের মত দলীয় বিষয় করতে চাইনি। তাই তারা এ অপপ্রচার চালিয়ে যেতে পারছে। অথচ আমরা তাদের অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দিতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, রমনার বটমূলে ছায়ানটের মাধ্যমে বাংলা বর্ষবরণ আমরাই শুরু করেছিলাম। সেখানে আমরা ভোর বেলায় গিয়ে বটগাছের বেদিতে যখন অনুষ্ঠান শুরু করতাম, তখন সেখানে গাঁজাসেবিদের তাড়িয়ে দিয়ে আমরা তা করতাম। ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এখন তাতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়। শহীদ জিয়াউর রহমান এটাকে ধরতে পেরেছিলেন। তিনি ১ বৈশাখের আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করতেন। তাইতো তিনি জাসাসের (জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা) মাধ্যমে ১২টা ১ মিনিটে বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান করাতেন। কিন্তু পরবর্তিতে কেন আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি, জানি না।

জিয়াউর রহমান রাজনীতি শিক্ষা দিতে স্কুল করেছিলেন। সেখানে বিএনপির দর্শন ও রাজনীতির আদর্শ শিক্ষা দেওয়া হত। কিন্তু কেন তা বন্ধ করে দেওয়া হল। কেন আমরা তা চালু রাখতে পারিনি, জানি না। এছাড়াও, খাল কাটা কর্মসূচি শহীদ জিয়া চালু করেছিলেন। যা ছিল আমাদের সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ। কিন্তু এই অসাধারণ কর্মসূচিটিও বারবার ক্ষমতায় আসার পর আমরা ধরে রাখতে পারিনি। এসবই আমাদের ভুল। আমাদের আবারও জিয়াউর রহমানের কাছেই ফিরে আসতে হবে। তাকে চর্চা করতে হবে। সেটাই আমাদের আসল জায়গা। সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌছানোর সত্যিকার পথ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এরপরও আমরা হতাশ নই। আগেই বলেছি, এভাবে দেশ চলতে পারে না। মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ বিএনপিকে, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ভালবাসে, পছন্দ করে। তারা দেখছে বিনাভোটের সরকার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কিভাবে বিএনপির উপর অন্যায় নিপীড়ন চালাচ্ছে। কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। দেখামাত্রই গুলি করছে। তারা ভাবছে। একদিন হঠাৎ করেই জনগণ বিস্ফোরণ ঘটাবে। সেদিন দূরে নয়।

Share

Author: 24bdnews

4813 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
18192021222324
25262728293031
       
  12345
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
11121314151617
252627282930 
       
 123456
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »