রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দখলবাজিতে রাজধানীর পার্ক-মাঠ

0
11

বিশেষ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): রাজধানীর নির্ধারিত পার্ক ও খেলার মাঠগুলো দখল ও সংস্কারের নামে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। দখলের হাত থেকে এ সব পার্ক-মাঠ উদ্ধার করতে পারছে না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ সব স্থাপনা দখল করে ধুন্ধুমার ব্যবসা করছে প্রভাবশালীরা।

একই অবস্থা অভিজাত এলাকার পার্কগুলোর। সেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই সিটি করপোরেশনের। স্থানীয় হাউজিং সোসাইটিগুলো এ সব পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধও আরোপ করছে। দখল হওয়া এ সব পার্ক ও মাঠ আইনী জটিলতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং দুর্নীতির কারণে দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ছুটিছাটায় বা ঈদের ছুটিতে এগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলা করতে ও ঘুরতে পারে না শিশুরা।

রাজধানীতে মোট ৫৪টি পার্ক ও ২৫টি খেলার মাঠ রয়েছে দুই সিটি করপোরেশনের। ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার পর উত্তর সিটির ভাগে পড়েছে ২৯টি পার্ক ও ১৫টি খেলার মাঠ। অন্যদিকে দক্ষিণের অংশে রয়েছে ২৫টি পার্ক ও ১০টি মাঠ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বেশ কয়েকটি পার্কের কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। যাওবা আছে, তাতে পার্ক বা মাঠকে আলাদাভাবে বোঝার বা চিহ্নিত করার উপায় নেই। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ১২টি পার্কের অবস্থাই বেশ খারাপ। এগুলোর মধ্যে কারওয়ানবাজার শিশু পার্ক, বাংলামোটর মাঠ পার্ক, তালতলা পার্ক, শ্যামলী ওভারব্রিজ পার্ক, ইকবাল রোড পার্ক, ইকবাল রোড মাঠ পার্ক, লালমাটিয়া ডি-ব্লক পার্ক, জাকির হোসেন রোড পার্ক, মুক্তাঙ্গন পার্ক, মতিঝিল বিআরটিসি কার্যালয়ের সামনের পার্ক।

মোহাম্মদপুর পার্কে পরিবহন কোম্পানির দখলবাজি : জাকির হোসেন রোড পার্কটি দখল করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির অফিস। এখানে বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানও। মাঠের এক পাশ দখল করে রয়েছে নির্মাণাধীন ভবনের ময়লা আবর্জনা।

হাজারীবাগ পার্কে দোকান : হাজারীবাগ শিশু পার্কের পুরোটাই প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। পার্কের মধ্যে অবৈধ দোকানও বসানো হয়েছে ওই প্রভাবশালী মহলটির ছত্রছায়ায়। দিনের বেলা পার্কটি নগরবাসীর জন্য নিরাপদ হলেও রাতে সেখানে আনাগোনা শুরু হয় মাদকাসক্ত ও ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মীদের। ফলে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে এই পার্কে।

মুক্তাঙ্গন রেন্ট-এ-কারের দখলে : কাগজে কলমে মুক্তাঙ্গন পার্ক থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। মুক্তাঙ্গনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। পুরো প্রাঙ্গণ দখল করে রাখা হয় ট্যাক্সিক্যাব ভাড়ায় খাটানো গাড়ি। পান্থকুঞ্জ পার্কটির সামনের ফুটপাত দখল করে রয়েছে ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী আর ভেতরে গড়ে উঠেছে ফাস্টফুড ও চায়ের দোকান। রাতে পার্কটি মাদকাসক্তদের দখলে চলে যায়। বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা এমনভাবে পার্কটিকে ঘিরে রেখেছে যে এটির প্রধান প্রবেশ পথটিও খুঁজতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়।

দিনেও অনিরাপদ ফার্মগেট পার্ক : নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অনুপযোগী বলে ধরা হয় ফার্মগেট পার্কটিকে। দিনে-রাত প্রায় সব সময়ই মাদকাসক্তদের দখলে থাকে পার্কটি। দিনের বেলায় এটিতে প্রকাশ্যেই চলে মাদক সেবন। পার্কের একটি অংশে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াসার পাম্প ও সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট। ভেতরে বসানো হয়েছে চা, পান সিগারেটের দোকান।

আজিমপুর পার্কে মোটরগ্যারেজ পান-বিড়ির দোকান : আজিমপুর পার্কটিকে শিশু পার্ক বলা হলেও চা, পান-বিড়ির দোকানিদের দখলে এর বেশিরভাগ জায়গা। পার্কটির সীমানা ঘিরে গড়ে উঠেছে রিকশার গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ।

শ্যামলীতে জনপ্রতিনিধির পার্ক : শ্যামলী রিং রোডের সমবায় বাজার (সাবেক বিডিআর বাজার) সংলগ্ন মাঠটি এখন পরিচিত স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির মাঠ হিসেবে। মাঠের এক পাশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি যুব সংগঠনের ক্লাব। সামনের অংশে রয়েছে অস্থায়ী বিভিন্ন পণ্যের দোকান। বছরের একটা বড় সময় এই মাঠটি বরাদ্দ দেওয়া হয় মেলা আয়োজনের জন্য। তবে এ সব মেলা আয়োজনে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

মতিঝিলের পার্ক ময়লার ভাগাড় : মতিঝিলের বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের সামনের পার্কটি ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পার্কটির উত্তর পাশে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আঞ্চলিক অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষিণ পাশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বিশ্রামাগার। পূর্বপাশে রয়েছে সিটি করপোরেশনের গণশৌচাগার। পার্কটির মধ্যে রয়েছে একাধিক খাবার হোটেল, চা-সিগারেটের দোকান। পার্কটির মধ্যে কংক্রিটের বেঞ্চগুলো বসার উপযোগী নেই। যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা আবর্জনা। দখলবাজির কারণে পার্কটিতে ঢোকার পথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন।

খিলগাঁওয়ের পার্কঘিরে ছিন্নমূল মানুষের বাসা : রাজধানীর খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতাল সংলগ্ন পার্কটির মধ্যে খুপরিঘর তৈরি করে থাকেন ছিন্নমূল অনেক পরিবার। আর রাতে এ সব ঘরে নানা অপরাধমূলক কাজ হয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অভিজাত এলাকায় পার্কে ‘ঢোকা নিষেধ’ : উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত গুলশান-বনানী-বারীধারার মতো অভিজাত এলাকার পার্কগুলো অবৈধ দখল না হলেও সর্বসাধারণের ব্যবহারে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। বারীধারা ৫ নম্বর রোডের পার্কটি অত্যন্ত মনোরম হলেও প্রধান ফটকে ঝুলছে ব্যবহার বিধি সম্বলিত সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডটিতে পার্কের মধ্যে প্রবেশের সময় নির্ধারণসহ বারীধারা আবাসিক এলাকা সোসাইটির সদস্য ছাড়া অন্যদের প্রবেশের রয়েছে নিষেধজ্ঞা। পার্কটির সামনে বসানো হয়েছে সোসাইটির নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী।

একই অবস্থা গুলশান দুই নম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনের পার্কটিরও। এই পার্কটিতেও সাধারণ মানুষের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকার পার্কগুলোর এমন বিধি-নিষেধ সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিজ নিজ হাউজিং সোসাইটিগুলোর এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ তাদের উদ্যোগের কারণে পার্কগুলো মনোরম রয়েছে। সেখানে অবৈধ দখল নেই। আর প্রবেশের বিধিনিষেধ থাকাটাও দরকার। যখন-তখন এ সব উন্মুক্ত জায়গায় সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়াটাও ঠিক না। কারণ রাতে এখানে কেউ ঘুরতে ঢুকবে না। রাতে কেউ ঢুকলে, যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যেই তারা এখানে প্রবেশ করবে।’

তবে অভিজাত এলাকাগুলো এমন দখলদারিত্বের বিরোধিতা করে ওয়ার্ল্ড ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের এ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা মাহরুফ রহমান  বলেন, ‘খেলার মাঠ ও পার্ক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গুলশান-বনানী-বারীধারার পার্কগুলো ওইখানকার বাসিন্দারা ছাড়া কোনো দিনমজুরও প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি ওই সব এলাকায় বাসা-বাড়ির কাজে নিয়োজিত গৃহকর্মীদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এটা তো গণতান্ত্রিক কোনো কাজ হতে পারে না। আপনি ধনী কি গরিব সেটার জন্য নগরের প্রদত্ত সেবা থেকে কেন বঞ্চিত হবেন?’

ধানমণ্ডি খেলার মাঠ ও কলাবাগান মাঠের হালচাল : ধানমণ্ডি খেলার মাঠ ও কলাবাগান মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দু’টি ক্রীড়া সংগঠনের কাছে। পরবর্তীকালে এই মাঠ দু’টি সংস্কারের নামে তাদের অধীনে চলে যায়। মাঠ দু’টিতে কোনো ধরনের স্থাপনা সিটি করপোরেশন বা অন্যকোনো সংগঠনের বসানোর এখতিয়ার আছে কিনা তা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), স্থাপত্য ইনস্টিটিউট ও বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। সংগঠনগুলোর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী বন্ধ রাখা হয় মাঠ দু’টিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ।

দুই সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৫৪টি পার্ক ও ২৫ মাঠের মধ্যে অধিকাংশের প্রকৃত মালিক গণপূর্ত বিভাগ ও রাজউক। বিশেষ করে গণপূর্তের অধীনে ঢাকার আবাসিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে পার্ক ও মাঠের প্রকৃত মালিক গণপূর্ত বিভাগ এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনকে। বিশেষ করে তাজমহল রোড পার্ক ও খেলার মাঠ, জাকির হোসেন রোড পার্ক, ধানমণ্ডি খেলার মাঠ, উত্তরা ই-ব্লক মাঠ ও পার্কসহ প্রায় ২৭টি পার্কের মালিক গণপূর্ত বিভাগ।

সিটি করপোরেশনের মাঠ ও পার্ক দখল হয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরিবেশবিদেরা মনে করছেন আইনী জটিলতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্থবিরতাকে। তাদের অনেকেই মনে করছেন ঢাকার কোনো সম্পত্তি কার তা আজও অনেকেই জানে না। কাগজে-কলমে হিসাব থাকলেও প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেই দুই সিটি কর্তৃপক্ষের।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘একটি আদর্শ নগরের বাসিন্দাদের জন্য ওই নগরের আয়তনের ১০ শতাংশ খোলা ময়দান ও পার্ক প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে রাজধানী ঢাকার জন্য রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। যাও আছে তার অধিকাংশই অবৈধ দখলের ফলে কমে যাচ্ছে। এতে নিকট ভবিষ্যতে রাজধানীতে পার্ক বা খেলার মাঠের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

ইকবাল হাবিব আরও বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে প্রায় ৫৪টি পার্ক ও ২৫ খেলার মাঠ। এগুলোর মধ্যে ৪৭টি পার্কের প্রকৃত মালিক সিটি করপোরেশন বলে দাবি করে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম। ৫৪টি মধ্যে অধিকাংশ পার্কের মালিক গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে এ সব পার্ক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছু অবৈধ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অধিকাংশ মাঠ চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারদের হাতে।’

এ ব্যাপারে পরিবেশ আন্দোলন বাংলাদেশের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে তা করপোরেশন দু’টি জানে না। বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে যেগুলোর মালিকানা দ্বন্দ্বের সুযোগে প্রভাবশালী মহল দখল করে নিচ্ছে।’

আবু নাসের খান আরও বলেন, ‘ধানমণ্ডি লেক ও লেক সংলগ্ন পার্কের মালিকানার বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে রয়েছে পার্কটি। বিশেষ করে লেকের প্রকৃত মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড হলেও লেক সংলগ্ন পার্কের মালিক গণপূর্ত বিভাগ। তবে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনকে। কিন্তু সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতার জন্য অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগে যোগযোগ করা হলে, তারা পার্ক ও মাঠের তালিকা দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, পার্ক ও মাঠগুলোর আয়তন ঠিক আছে কিনা তা-ও জানাতে পারছেন না তারা।

সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ  বলেন, ‘আমি এই পদে আসার পর অনেক কষ্টে সম্পত্তির একটি তালিকা সংগ্রহ করেছি। এই তালিকা দেখলেই বুঝা যাবে সিটি করপোরেশনের কয়টি পার্ক ও মাঠ রয়েছে।’ তবে তালিকা অনুযায়ী এ সব মাঠ ও পার্কের অস্তিত্ব আছে কিনা সে সম্পর্কে জানেন না এই কর্মকর্তা।

মো. খালিদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জোনাল সার্ভেয়ার আছেন। উনারা অভিযোগের ভিত্তিতে স্ব-স্ব অঞ্চলে জরিপ করে অবৈধ দখল সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগে প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীকালে এ সব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করপোরেশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

ধানমণ্ডি লেক ও পার্ক সম্পর্কে সম্পত্তি বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধানমণ্ডি লেক ও পার্কটি আমাদের (দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) কিনা তা আমার জানা নেই।’

নাম না প্রকাশ করা শর্তে সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘ধানমণ্ডি লেকটি ২০০৪ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে লেকটি চলে যায় রাজনৈতিক দলের দখলদারিত্বে। ফলে রাজধানীর অন্যতম এই লেকটি থেকে কোনো আয় আসছে না সিটি করপোরেশনের। মালিকানা গণপূর্ত বিভাগের হলেও লেকটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনকে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here