নারায়ণগঞ্জে বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন, অন্যথায় কঠোর কর্মসুচী

0
5

 নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জে বাসের অযৌক্তিক বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষন ফোরাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবী পুরন না হলে কঠোর কর্মসুচি দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ২০০১ সালে এই সংগঠনের আন্দোলনের মুখে বাস মালিকরা ভাড়া কমাতে বাধ্য হয়েছিল। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাতটি দীর্ঘদিন ধরেই এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে গোষ্ঠী বিশেষ তাদের একচেটিয়া মুনাফার জন্যে সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি ও রেল খাতকে দীর্ঘদিন অকার্যকর করে রেখেছে। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটিসহ নারায়ণগঞ্জবাসীর আন্দোলনের মুখে এখানে বিআরটিসি এসি বাস চালু ও রেলের মান কিছুটা উন্নিত হলে যাত্রী সাধারণের দূর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়। যদিও নন এসি বিআরটিসি বাস এখানে চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরেও স্বার্থান্বেষী ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে আপোষ রফা করে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তা আর চালু করেনি। আর এই সুযোগেই বেসরকারী বাস মালিক কর্তৃপক্ষ এখানে তাদের ইচ্ছেমত ভাড়া বৃদ্ধি করে বছরের পর বছর জনগণকে জিম্মি করে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট  এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, জেলা ওয়াকার্স পাটির  সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, গনসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগ ২০১১ সালের ১৮ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানান, ঢাকা মহানগরীর পার্শবর্তী জেলা (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) আরটিসি কর্তৃক ইস্যুকৃত রুটপারমিটধারী বাস ও মিনিবাসের উভয় ক্ষেত্রে ভাড়ার হার হবে ১.৪৫ টাকা। পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগ প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ০.০৫ (পাঁচ) পয়সা বৃদ্ধি করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। অর্থাৎ ধার্যকৃত ভাড়া দাড়াঁয় ১.৫০ টাকা। তখন নারায়ণগঞ্জে জনগণের আন্দোলনের ফলে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ ৩০ টাকাকে দুই দফায় কমিয়ে প্রথমে ২৮ টাকা ও পরে ২৭ টাকায় নির্ধারণ করে। যদিও তখন এই ভাড়া ছিল সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশী। এর ৬ মাস যেতে না যেতেই আবার তারা তেলের দাম বৃদ্ধির অযুহাতে দেখিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ভাড়া ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩০ টাকায় উন্নিত করে। অথচ ডিসেম্বর ২০১১ তে তেলের দাম বৃদ্ধির সময় সরকার পরিবহনের ভাড়া বাড়বে না বলে ঘোষনা দেয় এবং পূর্বের ভাড়াই বহাল রাখতে নির্দেশ প্রদান করেন।
অপরদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত বাসের অধিকাংশই সিএনজি চালিত। তার পরেও এখানে পরিবহন মালিকরা তাদের ইচ্ছে মতো ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার চালু হলে ফ্লাইওভার টোল যাত্রী প্রতি ৫ টাকা যোগ করে বাস মালিকরা ৩৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে। অথচ ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব পূর্বের চেয়ে দেড় কিলোমিটার কমে এসেছে। সরকারের নিধারিত হারে তখন যেখানে ভাড়া হয় ২৮.২৫ টাকা। সেখনে বছরের পর বছর ভাড়া নিয়েছে ৩৫ টাকা। যাত্রী প্রতি ৬.২৫ টাকা বেশী ভাড়া আদায় করেছে। দৈনিক দুইবার যাওয়া আসায় ১২.৫০ টাকা। মাসে ২৬দিন হিসেবে একজন যাত্রীর কাছ থেকে বছরে ৩ হাজার ৯০০ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছে বাস মালিকরা।
অপরদিকে ৪০ জন যাত্রী বহনকারী প্রতিটি বাস একবার যাতায়াত করে অর্থাৎ এক ট্রিপে আদায় করেছে (৬.২৫৪০=২৫০২=৫০০) ৫০০ টাকা, দৈনিক  ৬ ট্রিপে (৫০০৬=৩০০০) ৩০০০ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুট দৈনিক ৫ শতাধিক বাস চলাচল করে। সে হিসেবে দৈনিক অতিরিক্ত আদায় ১৫ লাখ টাকা, বছরে (১৫০০০০০৩৬৫=৫৪,৭৫,০০০০০) ৫৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এই টাকায় এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল বা অডিটোরিয়ামের মতো জন-প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যেতো।
এখন সড়ক বিভাগ প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নতুন করে ০.১০ (দশ পয়সা) বৃদ্ধি করেছে। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় বর্ধিত নির্ধারিত ভাড়া ১.৬০ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৫.৫ কিলোমিটারে ফ্লাইওভার টোলসহ মোট ভাড়া (১৫.৫১.৬০=২৪.৮০+৫=২৯.৮) ২৯.৮০ টাকা। অথচ বাস মালিকরা অযৌক্তিক ভাবে ভাড়া বর্ধিত করে ৩৮ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে এতদিনের লুটপাটের অংক আরও বৃদ্ধি করা। আমরা নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাই এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)’র চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা প্রশাসককে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here