আজ: বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল, ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১১:৫৪

নারায়ণগঞ্জে যুবরাজকে নিয়ে ফের আতঙ্ক

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত-সমালোচিত আজমেরী ওসমান ওরফে যুবরাজকে নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে শহরে। নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডের টর্চার সেলে (কথিত অফিস) র‌্যাবের অভিযানের পর নতুন করে সে আস্তানা ঘাড়ে শহরের খানপুরে। সেখানে বুধবার রাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা দীর্ঘ ২ ঘন্টার নিস্ফল অভিযান চালিয়েছে। আইনশৃংখলাবাহিনীর যৌথ এ অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। তারা বলছেন, আজমেরী ও তার সহযোগিরা অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল। এমনকি অভিযানে বাধাও দিয়েছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা কাউকে আটক করেনি। তারা দীর্ঘসময় অভিযান চালিয়ে নাম্বার বিহীন ২টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাহলে কেন এবং কী কারণে এমন অভিযান চালানো হল? বরং অভিযান শেষ হওয়ার পর পর আজমেরী ওসমানের সমর্থকরা শহরের মিছিল বের করে হুশিয়ারী দিয়েছে “আজমেরী ওসমানের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”। এতে শহরময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া  আজমেরী ওসমানের নামে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হলে জিহ্বা কেটে দেয়ার হুমকি দিয়ে গত  ৭ নভেম্বর শহরে মিছিল বের করে আজমেরি ওসমানের সমথকরা।
বুধবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নগরীর খানপুরে নির্মাণাধীন শাহাজাদা ভবনের নিচতলায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পাটির প্রভাবশালী এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের এক মাত্র ছেলে আজমেরী ওসমানের কথিত অফিস (আস্তানা) চারদিক থেকে ঘিরে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের সময় আজমেরী ওসমান ওই অফিসেই অবস্থান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ এবং আজমেরীর সহযোগিরা। আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার সন্ধিগ্ধ। আজমেরী ওসমানের আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের খবর দ্রুত শহরময় ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও তাদের আজমেরীর অফিসে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। অভিযান শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আজমেরী ওসমানের অনুসারিরা রাত ১০টার দিকে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং যে অফিসে অভিযান চালানো হয়েছিল তার আশপাশে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পোশাক এবং সাদা পোশাকের পুলিশ ৪টি গাড়ি নিয়ে নগরীর খানপুরে অবস্থিত নির্মাণাধীন শাহাজাদা ভবনের নিচ তলাটি ঘিরে ফেলে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ জাকারিয়া, সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মালেকের নেতৃত্বে পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই আজমেরী ওসমানের কথিত ওই অফিসের নিচ তলায় প্রবেশ করেই পুলিশ আজমেরীর ৮/১০ জন সহযোগিকে জিম্মি করে ফেলে। ওই সময় আজমেরী ওসমান তার কক্ষ থেকে বের হয়ে অভিযান সর্ম্পকে জানতে চাইলে পুলিশ তার অফিস তল্লাশীর কথা জানায়। ওই সময় আজমেরী ওসমান তল্লাশীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চায়। এনিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজমেরী ওসমানের বাকবিতন্ডা হয়। পুলিশ আজমেরীর নিষেধ উপেক্ষা করে আজমেরীর দেহ এবং অফিস তল্লাশী করে। তবে সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে র‌্যাবের ২টি জীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়।
এদিকে আজমেরী ওসমানের খানপুরের অফিসে তল্লাশীর খবর পেয়ে তার অনুসারীরা সেখানে ভীড় জমায় এবং এক পর্যায়ে তার অনুসারীরা থেমে থেমে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। ২ ঘন্টার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ অফিসের সামনে থাকা কয়েকটি মোটর সাইকেল থেকে নম্বর প্লেট বিহীন ২টি মোটর সাইকেল জব্দ করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা আজমেরী ওসমানের এক সহযোগি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ শাহাজাদা ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করেই অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ফেলে। ওই সময় এর কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে পুলিশ। তখন আজমেরী ওসমান তার অফিস থেকে বের হয়ে অভিযানের কারণ এবং প্রয়োজনীয় কাজগপত্র দেখতে চাইলে পুলিশ কিছু দেখাতে পারেনি। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা আজমেরী ওসমানের কক্ষে তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন।
এর আগে আজমেরী ওসমানের কথিত অফিস ছিল নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডে। উইনার ফ্যাশন নামে আজেমরী ওসমানের ওই অফিসটি টর্চার সেল নামে নগরবাসীর কাছে পরিচিত ছিল। সিসি ক্যামেরা দ্বারা টর্চার সেলের আশপাশের রাস্তায় পথচারী ও যানবাহন চলাচল সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হতো।
ত্বকী হত্যা মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট শহরের কলেজ রোডস্ত আল্লামা ইকবাল রোডে আজমেরী ওসমানের ওই টর্চার সেলে অভিযান চালিয়ে রক্তাক্ত জিনসের প্যান্ট, রক্তমাখা গজারির দুটি লাঠি ও বস্তায় ভর্তি নাইলনের রশি জব্দ করেন। এবং আজমেরীর গাড়ির চালকসহ ৪ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর ভ্রমরের দেওয়া জবানবন্দিতে জানা যায়, আজমেরীর নেতৃত্বে ৬ মার্চ আল্লামা ইকবাল রোডের ওই টর্চার সেলেই ত্বকীকে খুন করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল।
ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী র‌্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল হক বলেছিলেন, ‘আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতরের জন্য আমরা খুঁজছি।’ কিন্তু ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের ঘটনার পর সবকিছু উলোট-পালট হয়ে যায়। অপহরন ও হত্যাকান্ডের অভিযোগ উঠায় র‌্যাব-১১এর নারায়ণগঞ্জ ও আদমজী ক্যাম্পের সকল সদস্যকে বদলী করা হয়। যাদের মধ্যে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও ছিল। তারা থাকলে এতদিনে হয়তো ত্বকী হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়ে যেত। ওই কর্মকর্তারা বদলী হওয়ার খবরে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠে আজমেরী ওসমান। এবং সে নারায়গঞ্জে আসা-যাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে গত ক’মাস আগে আগে শহরের খানপুরে নতুন আস্তানা গড়ে তোলে আজমেরী ওসমান।
১২ হত্যাকান্ডের সঙ্গে আজমেরি ওসমানের জড়িত থাকার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের একমাত্র ছেলে আজমেরী ওসমান ওরফে যুবরাজ গত ১৮ বছরে সংঘটিত ১২টি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে সংঘটিত হয় ৯টি হত্যাকান্ড। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রণীত জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে নাম থাকা আজমেরী ওসমান গত ৭ বছরে নারায়ণগঞ্জে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হন। একের পর এক লোমহর্ষক খুন, টর্চার সেলে অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালালেও তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কোনো থানায় মামলা বা জিডি করেনি।
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, গত ৬ মার্চ শহরের কলেজ রোডের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বেই ত্বকীকে খুন করা হয়। ভ্রমর আজমেরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের এপ্রিলে শহরের আমলাপাড়ায় ১৪ টুকরা লাশ পাওয়া যায়। মামলা হলেও পুলিশ এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০১১ সালে শহরের প্রেসিডেন্ট রোডে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে জবাই করে খুন করা হয় সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক জামালকে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় মামলা হলে র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা আজমেরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গালপোড়া রঞ্জুকে গ্রেফতার করেন। পরে জামিনে ছাড়া পাওয়া গালপোড়া রঞ্জুকে আজমেরী ওসমান কসমেটিক সার্জারি করে তার মুখমন্ডলে পরিবর্তন আনেন।
২০১১ সালের জুনে শীতলক্ষ্যা নদীতে ব্যবসায়ী আশিক ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। তার মুখমন্ডল ঝলসানো ও বিকৃত এবং অন্ডকোষ থেঁতলানো ছিল। তার ভাই বাদী হয়ে আজমেরীর ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী সিজার ও সিদ্দিককে আসামি করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। আজমেরীর কথা বলে সিজার ও সিদ্দিকই আশিককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান।
এরপর খুন হন টানবাজারের সুতা ব্যবসায়ী ভুলু সাহা। তার লাশও শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও রহস্যজনক কারণে খুনিদের আজও চিহ্নিত করতে পারেনি। মূলত শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য, যেন তারা চাওয়ামাত্রই চাঁদা দিয়ে দেন সে জন্য ভুলু সাহাকে হত্যা করা হয়। এরপর মাসদাইর গাবতলী এলাকার বাসিন্দা মিঠুকে শহরের জামতলা এলাকায় প্রকাশ্যে খুন করা হয়। মিঠু গাবতলী এলাকায় আজমেরীর অনুগত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মিঠু হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন আজমেরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় খলনায়ক আদিলের ছেলে হামীম।
খুনের সাক্ষী না রাখার জন্যই ৩দিন পরে হামীমকে কক্সবাজারে নিয়ে মদের সঙ্গে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়। সাংস্কৃতিককর্মী চঞ্চলকে খুন করা হয় গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ না করে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করার অপরাধে। সর্বশেষ ত্বকী হত্যাকান্ডের পরপরই ওসমান পরিবারের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে।
শুধু খুন নয়, আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে তাঁর টর্চার সেলে ধরে এনে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তার বাবা নাসিম ওসমান, দুই চাচা সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ও বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি ও সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রশ্রয়ে আজমেরী ওসমান শহরের উত্তর চাষাঢায় একটি ও কলেজ রোডে দুটি টর্চার সেল গড়ে তোলেন। সিসি ক্যামেরা দ্বারা টর্চার সেলের আশপাশের রাস্তায় পথচারী ও যানবাহন চলাচল সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হতো।
ত্বকী হত্যা মামলা তদন্ডের অংশ হিসেবে র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট শহরের কলেজ রোডে আজমেরী ওসমানের একটি টর্চার সেলে অভিযান চালিয়ে রক্তাক্ত জিনসের প্যান্ট, রক্তমাখা গজারির দুটি লাঠি ও বস্তায় ভর্তি নাইলনের রশি জব্দ করেন। গত ১২ নভেম্বর ভ্রমরের দেওয়া জবানবন্দিতে জানা যায়, আজমেরীর নেতৃত্বে ৬ মার্চ এই টর্চার সেলেই ত্বকীকে খুন করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল।
ত্বকী হত্যা মামলার বাদী রফিউর রাব্বি বলেছেন, ভ্রমরের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে তার অফিসে ত্বকীকে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক খুন করার পরও তার বিরুদ্ধে একটিও মামলা নেই। কারণ, তাকে আসামি করে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয় না। আর এ জন্যই শামীম ওসমান বলতে সাহস পান যে তিনি নিরপরাধ। শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি করলেও তারা চাঁদাবাজ নন, জোরপূর্বক নিরীহ মানুষের ভূমি দখল করলেও তারা ভূমিদস্যু নন। খুন করলেও খুনি নন। কারণ, তাদের নামে কোনো মামলা নেই।
ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী র‌্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল হক বলেছিলেন, ‘আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতরের জন্য আমরা খুঁজছি।’ কিন্তু ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের ঘটনার পর সবকিছু উলোট-পালট হয়ে যায়। অপহরন ও হত্যাকান্ডের অভিযোগ উঠায় র‌্যাব-১১এর নারায়ণগঞ্জ ও আদমজী ক্যাম্পের সকল সদস্যকে বদলী করা হয়। যাদের মধ্যে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও ছিল। তারা থাকলে এতদিনে হয়তো ত্বকী হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়ে যেত। ওই কর্মকর্তারা বদলী হওয়ার খবরে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠে ওসমান পরিবারের সদস্যরা। এবং আজমেরী ওসমান নারায়গঞ্জে আসা-যাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে গত ৫/৬ মাস আগে শহরের খানপুরে নতুন আস্তানা গড়ে তোলে।

Share

Author: 24bdnews

5145 stories / Browse all stories

Related Stories »

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুকে আমরা »

ছবি সংবাদ »

সংগঠন সংবাদ »

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে অধিকারের আলোচনা সভা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শহরের কলেজ রোড এলাকায় অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির সমন্বয়ক…

নিউজ আর্কাইভ »

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
   1234
12131415161718
262728    
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
    123
45678910
18192021222324
25262728293031
       
  12345
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
11121314151617
252627282930 
       
 123456
28293031   
       
     12
3456789
10111213141516
24252627282930
31      
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
23242526272829
3031     
   1234
262728293031 
       
   1234
12131415161718
       
      1
3031     
29      
       
      1
16171819202122
30      
   1234
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
24252627282930
31      
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       

সবশেষ সংবাদ »

সারাদেশ »