লম্পট পরিমলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
2

আদালত প্রতিবেদক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক লম্পট পরিমল জয়ধরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমদ বুধবার দুপুর ২টায় এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যা বলা হয়

আসামি পরিমল জয়ধর, পিতা ক্ষিতিশ জয়ধর, সাং-লাটেঙ্গা, থানা-কোটালীপাড়া, জেলা-গোপালগঞ্জ, বর্তমানে বাসা নং-৭, রোড নং-২৬, সেক্টর-৭, থানা-উত্তরা, ডিএমপি, ঢাকাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অপরাধে দোষীসাব্যস্ত করা হলো। তাকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হলো।

The code of Criminal Procedure, 1898-এর ৩৫-এ ধারার বিধান মতে পরিমলের এ মামলায় ইতিপূর্বেকার হাজতবাস তার সাজা থেকে বাদ যাবে।

জরিমানার টাকা ধর্ষিতা পাবেন

অর্থদণ্ডের টাকা মামলার ভিকটিম পাবে। ঢাকা জেলার কালেক্টরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী অর্থদণ্ডের টাকা বিধি মোতাবেক আদায়পূর্বক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

রায় ঘোষণার পর যা বললেন পরিমল

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত পরিমল বলেন, ‘আমি ২৯তম বিসিএস-এ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে টিকেছিলাম। এ রায় দিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করা হলো। আসামিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। আমি নির্দোষ।’

রায় ঘোষণার আগে পরিমলকে কারাগার থেকে আদালত হাজির করা হয়।

১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার রায়ের জন্য ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলায় মোট ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ৫ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

৬ জুলাই ঢাকার কেরাণীগঞ্জে স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে পরিমলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবে খোদা অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমান ও অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

২০১২ সালের ৭ মার্চ পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here