সাত খুন : নূর হোসেনের মুক্তি দাবীতে শোডাউন

0
12

 নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের মুক্তি দাবীতে আদালতপাড়া ও ঢাকা – নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শত শত এলাকাবাসী শোডাউন করেছে। তারা নূর হোসেনের মুক্তির দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। অপরদিকে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সমর্থকরা অতীতের প্রতিটি তারিখে আদালত পাড়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও আজ তারা ছিল নিরব। র‌্যাবকর্মকর্তাসহ ২৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা মামলাটির বিচার কাজ শুরু করার জন্য জজকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশোক কুমার দত্ত এ আদেশ প্রদান করেন। অপর নিহত সিনিয়র এডভোকেট চন্দন সরকারের মামলার শুনানী শেষে র‌্যাবের ৩ কর্মকর্তাসহ ১৩ জন আসামীর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। জেলা ও দায়ার জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ আদেশ দেন। আদালত মামলার পরবর্তি শুনানী দিন ধার্য্য করেছেন আগামী ১১ জানুয়ারী। আইনশৃঙ্খলা বিাহিনী আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চিত্র
সোমবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামীকে পৃথক ৩টি প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। আসামীদের প্রথমে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশোক কুমার দত্তের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমেই পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ওই সময় বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য আসামীদের পক্ষে যাচ্ছে। তাই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রতি বাদি তথা আমাদের কোন আস্থা নেই। রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রসিকিউশনের কোন আইনজীবী এই মামলা পরিচালনা করলে বাদি ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। তখন বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এ দাবি করতে পারেন না। এটা আপনার এখতিয়ারে নেই। ওই সময় বিচারক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি উত্তেজিত না হয়ে যা বলার তা আস্তে বলুন। ওই সময় বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আপনাদের উত্তেজনা আর প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে আপনারা আসামী নূর হোসেনের পক্ষে কাজ করছেন।
জজ কোর্টের দৃশ্য
জজ কোর্টে আসামীদের নেবার পর বিচারক এজলাসে উঠার আগে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সঙ্গে র‌্যাব-১১’র সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক উপ অধিনায়ক আরিফ হোসেন এবং এমএম রানার সঙ্গে হাসি ঠাট্টা করতে দেখা যায়। ওই সময় বারের বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীকে কাঠ গড়ায় দাঁড়ানো নূর হোসেন ও তারেক সাঈদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে আদালত ৭ খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচারের জন্য গ্রহণ করেন। পরে বিচারক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। এরপর তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ এবং র‌্যাব-১১’র সাবেক ১৩ সদস্যের জন্য জামিন প্রার্থণা করা হয়। তারেক সাঈদ মোহাম্মদের জন্য ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন জামিন প্রার্থণা করেন। তাদের সহায়তা করেন, ঢাকা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার, অ্যাডভোকেট মৌসুমী বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুল সালাম এবং অ্যাডভোকেট হাসনা। অপর দিকে র‌্যাব-১১’র অপর ১২ সদস্যের জামিন প্রার্থণা করে ঢাকা বারের একজন আইনজীবী আবেদন করলেও তিনি ওকালতনামায় তার পুরো নাম না লিখে শুধু মাত্র অনুস্বাক্ষর করেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবীর চরিত্র হননের চেষ্টা
এদিকে মামলার কার্যক্রম শেষে আদালত থেকে আসামীদের নিয়ে যাবার জন্য পৃথক ৩টি প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময় বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সামনে গিয়ে বলতে থাকেন যে, ‘ আপনি নির্বাচনের সময় (বারের নির্বাচন) সাখাওয়াতকে যে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন তা সাংবাদিকদের বলেন, ওই সময় কিছুটা সময় নিরব থেকে নূর হোসেন বলেন, হ্যাঁ অনেক টাকা দিয়েছি।’
মামলায় যে ২৩ আসামী উপস্থিত ছিলেন
সোমবার আদালতে উপস্থিত করা হয় মামলার প্রধান আসামী কারাবন্দি নূর হোসেন, র‌্যাব-১১’র সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক উপ অধিনায়বক আরিফ হোসেন ও এমএম রানাকে। বাকী আসামীরা হলেন, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরজিও-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া ও বিল্লাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়ব, কনসটেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্ণেন্দু বালা, ল্যান্স কর্পোরাল রহুল আমীন, এএসআই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনসটেবল আবুল হাসান, সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর, মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সহযোগি মোস্তফা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী এবং আবুল বাশার।
যাদের জামিনের আবেদন করা হয়
এদিকে গতকাল র‌্যাব-১১’র সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ মোট ১৩ র‌্যাব সদস্যের জামিন আবেদন করা হয়। যাদের জামিন প্রার্থণা করা হয় তারা হলেন-তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর, কনসটেবল আবুল হাসান, সৈনিক নুরুজ্জামান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার নাসির উদ্দিন ও এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, সিপাহী আবু তৈয়ব, এসআই পুর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান, কনসটেবল শিহাব উদ্দিন।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা আসামীদের জামিনের আবেদনের বিরোধীতা করেছি। আদালত আগামী বছরের ১১ জানুয়ারী একটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, একটি মামলার অভিযোগপত্র গঠনের জন্য আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বিউটির দায়ের করা মামলা বিচারের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here