উৎসব উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): দুই হাজার চৌদ্দ বছর আগে মানুষকে পাপের আবর্ত থেকে মুক্তি দিতে পৃথিবীর বুকে আবির্ভাব হয় মহান যিশুখ্রিস্টের। বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথেলহেম নগরীতে একটি গোশালায় কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নেন যিশু। এ জন্মতিথিকে উপলক্ষ করে প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
পাপমুক্তি আর মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে আনন্দ-উদ্দীপনায় বর্ণিল আয়োজনে ২৫ ডিসেম্বর উদযাপিত হচ্ছে শুভ বড়দিন। এটিই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটি উপলক্ষে গির্জা ছাড়াও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি বাড়ি চলছে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মতে, যিশু ঈশ্বরের ছেলে। সারা পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতেই তার আগমন। বড়দিন উদযাপনের অংশ হিসেবে গির্জা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ অনেকের বাড়িতে ‘ক্রিসমাস ট্রি ও গোশালা’ তৈরি করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।শুক্রবার চার্চে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দিনটি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় চার্চ ফার্মগেট হলি রোজারিও চার্চে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রার্থনা।
প্রার্থনার শুরুতেই মঙ্গলবাণী পাঠের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধি এবং জগতের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে শোভাযাত্রা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ ধর্মীয় আচার আনুষ্ঠানিকতার।
সকালে প্রার্থনার শুরুতে ফাদার তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই রাতে মাতা মেরির গর্ভে এসেছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। তার মধ্যে রয়েছে সৃষ্টিকর্তার রূপ।’
তিনি বলেন, ‘দিনটি উৎসবের ও মিলনমেলার, এটি ভালোবাসার উৎসব। অন্যদের কাছে ভালোবাসা বিতরণের উৎসব।’
বড়দিন উপলক্ষে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে হলি রোজারিও চার্চ। সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি, রয়েছে প্রতীকি গোশালা। তাছাড়া প্রতিবারের মতো শিশুদের মধ্যে বড়দিনের বাড়তি আমেজ ছড়িয়ে দিতে গির্জার প্রধান ফটকেই থাকছে সান্তা ক্লজের বিশেষ উপহার।
কাকরাইলের সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল, লক্ষ্মীবাজার, বনানী, আসাদ গেট, কাফরুলসহ সারাদেশের গির্জাগুলোতে একই ধরনের সাজসজ্জা করা হয়েছে।
এ সব গির্জার নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। গির্জার বাইরে ও ভেতরে সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
এদিকে, দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বড়দিন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল সোসারগাঁও, রেডিসনসহ বিভিন্ন বড় হোটেলে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণিল অনুষ্ঠানের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here