চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ- ছাত্রলীগ সংঘর্ষ:দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

0
7

 চুয়াডাঙ্গা(বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে এএসপিসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বৃহস্পতিবার রাতে খালিদ ও আসাদ নামে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ থানায় পৌঁছিয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৮০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের সাতগাড়ী মোড় এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা খালিদ ও আসাদ নামে দুই জনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জো: অনিক জানায়, দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের বিষয়টি জানতে থানায় ও ডিবি কার্যালয়ে গেলে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ করে।
এ ঘটনার কিছুক্ষন পর দুই নেতার সন্ধানের দাবিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় অন্তত ৬টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে পুলিশের এএসপি, ৪ কনস্টেবল ও ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোলাইমান হক জো: ছেলুন এমপি থানায় ছুঁটে যান। সেখানে তিনি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে গুলি করার মতো কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো তা জানতে চান।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ আমাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে। এর পিছনে বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। পুলিশের গুলি ও রাবার বুলেটে ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
এদিকে, উদ্ভৃত পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, শান্ত চুয়াডাঙ্গাকে অশান্ত করতে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগ-পুলিশের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনারও বর্ণনা দেন।
তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গাতে যারা পেশাদার সন্ত্রাসী পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। অথচ আমার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। সম্প্রতি সময়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের বেশ কিছু কাজ বির্তকের সৃষ্টি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান জানান, ঘটনায় সরকারী কাজে বাঁধাদান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জো: অনিকসহ এজাহারনামীয় ৩০জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৭০/৮০ জনকে আসামী করা হয়েছে। যার মামলা নং -৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here