জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ আসামিদের

0
12

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): ব্লগার রাজিব হত্যার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানিনা মামলার সাত আসামি। আর ব্লগার রাজিব কে তাও জানেন না তারা। শুধু তাই নয়, তারা ঘটনার আগে একে অপরকে চিনতেনও না। এভাবেই আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেন।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদের মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামি ২৪ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেন।

আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে বলেন,আমাকে এ মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান হিসাবে দেখানো হয়েছে। আনসারুল্লাহ বাংলাটিম নামে কোনো দল আছে কি না তা আমি তা জানি না।

মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী বলেন, ‘চরমোনাই পীরের দলে যোগ না দেওয়ায় তাদের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব ছিল। তারা শত্রুতা করে আমাকে ধরিয়ে দেন।’

মামলার আরেক আসামি এহসান রেজা রুম্মান বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে বলে আমাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি নেওয়া হয়।’

মামলার অপর আসামি নাফির ইমতিয়াজ বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি আমাকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তারা আমাকে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আর মামলার অপর আসামিদের আমি চিনি না।’

রাজীব হত্যা মামলায় ৫৫ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন রাজীব। ওই ঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৫৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।

মামলার আট আসামি হলেন— নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০), মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রানা পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here