থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান দিনে করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান সন্ধ্যার পরে না করে দিনের বেলায় করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ওই দিন সবাইকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আনন্দ করতে কোনো বাধা নেই। তবে তা রাতে না করাই ভাল। সব সময় একভাবে আনন্দ করতে হবে এমন নয়। দিনের বেলায়ও তো আনন্দ করা যায়।’
সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী কযেকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিককে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তথ্য দেওয়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
আলোচনায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্র সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনে অফিসে থাকা একজন মন্ত্রী জানান, প্রথমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারে বড় করে থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনের বিষয়টি তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, অস্ত্র ও গোলা-বারুদসহ জঙ্গি গ্রেফতারের বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। বেশিরভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর মিরপুর-১ এর ‘এ’ ব্লকের একটি ভবনে সন্দেহভাজন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর আস্তানায় যৌথ অভিযান চালায় র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দারা। অভিযানে জেএমবির সক্রিয় সদস্যসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ১৬টি হাতে তৈরি গ্রেনেড ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এর পরের দিন ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল সৈয়দপুর গ্রামে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বোমা বহনকারী যুবক মারা যায়।
রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন জঙ্গি সংগঠনের দুই সদস্য নিহত হয়।
তথ্য দেওয়া অপর একজন মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ নিয়ে চক্রান্তকারীদের অভাব নেই। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা ছক নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।’
সবাইকে সতর্ক থাকা ও পরিস্থিতি বুঝে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেন, ‘অনেক চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, রায় কার্যকর করতে হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব দায়িত্ব শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একার না, সবাইকেই যার যার অবস্থান থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে হবে। অবহেলা করা যাবে না। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here