দলীয় প্রতীকের ভোট বুধবার, মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

0
3

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো পৌরসভা নির্বাচনের ভোট আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ দিন সকাল ৮টা থেকে দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে। রাত ১২টার পর থেকে সব প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞারোপ করেছে নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবাবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
নির্বাচনে ২০টি রাজনৈতিক দলের ৬৬০ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে ২৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩৪ ও বিএনপির ২২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। ৯৪৫ জন।
এদিকে নির্বাচনে শৃঙ্খলা রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসার মিলিয়ে (ভিডিবি) এক লাখ ১৭ হাজার ৩০৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে টহলের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। বাকিরা মঙ্গলবার নামবেন। এ ছাড়া মাঠে থাকছে ১ হাজার ২০৪ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
টহলে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী ও অপরাধী ধরতে ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করছে আইনশৃঙ্খালা বাহিনী। পুলিশ, এপিবিন, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতিটি পৌরসভায় রয়েছে একটি করে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়- দুই হাজার ২৯ জন সন্ত্রাসী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৫৬১, বিএনপির এক হাজার ১২১ জন রয়েছে। বাকিরাও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের। তাদের ধরতেও নির্দেশ দিয়েছে ইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিপত্রে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৯ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ জন ফোর্স রাখার কথা বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে ৫ জন (অস্ত্রসহ) ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ৬ জন (অস্ত্রসহ) পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া অস্ত্রসহ আরও দুজন করে আনসার বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে র্যাবের ৮১টি টিম এবং ২২৯টি পৌরসভায় ২৭৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। যদিও প্রথম দিকে ১০২ প্লাটুন মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। মাঠ কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে বিজিবির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৬ উপকূলীয় পৌরভায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনে ৩৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এ সব ভোটকেন্দ্র বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র মেটাল ডিটেক্টর বসানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারেন তার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
এদিকে ভোটের আগমুহূর্তে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিশেষ দৃষ্টি রেখে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে বলেছে ইসি।
দুই অঞ্চলে পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে জঙ্গি হামলার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বৈঠকে জানানো হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সমাবেশ, পথসভা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচারণা
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা প্রচারণা চালাতে পারবে না। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর (সোমবার) রাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিবেন।
নির্বিঘ্ন ভোটের প্রতিশ্রুতি ইসির
পৌরসভা নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করেছি। কাজেই ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। কোনো সমস্যা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে খবর পেয়েছি, তাতে আমরা অন্তত আশাবাদী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমরা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। যারা দায়িত্বে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম হলে যেন তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেল গঠন
নির্বাচন পযবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদরকির জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব সামসুল আমল সোমবার দুপুরে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, একজন পুলিশ সুপার (এসপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির মেজর পযায়ের কর্মকর্তা এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার অথবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা।

মাঠে লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আইনশৃঙ্লা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০৪ জন সদস্য নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ৪৫ হাজার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৯ হাজার ৪১৫, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ৮ হাজার ৪২৪ জন, কোস্ট গার্ডের ২২৫ জন, আনসার ভিডিপি ৪৯ হাজার ৭২৮ জন, ব্যাটালিয়ন আনসার ৪ হাজার ৫১২ জন। এ ছাড়া নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন রোধে সহস্রাধিক নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা
২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার আগেই বহিরাগতদের (যারা ভোটার বা বাসিন্দা নন) নির্বাচনী এলাকা ত্যাগে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়- পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার নন, তাদের ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার পূর্বেই নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে হবে। যেদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অন্য এলাকার প্রভাবশালীরা থাকলে বা নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করলে বা করার চেষ্টা করতে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী দুইদিন থেকে ভোটগ্রহণের পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত অর্থাৎ নির্বাচনের দিনসহ মোট সাত দিন যাতে অস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা অস্ত্রসহ চলাফেরা না করেন কিংবা অস্ত্রবহন ও প্রদর্শন না করেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে ২৩৩ পৌরসভায় একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৭২ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মেয়র পদে ৯৪৫ জনসহ মোট ১২ হাজার প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮২টি কেন্দ্রে ৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচনের প্রার্থী, ভোটার ও ভোটকেন্দ্র
সব মিলিয়ে মেয়র পদে ৯৪৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর ৮ হাজার ৭৪৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৪৮০ জন। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে ৭ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ সব ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২১ হাজার ৭১টি। প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ৩ হাজার ৫৫৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে ১ জন করে ২১ হাজার ৭১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৪২ হাজার ১৪২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন মোট ৭১ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬০ জন। ভোট গ্রহণ করবেন ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here