‘ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে’

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জোর করে, শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু মানুষের বিচার-বুদ্ধিকে বেঁধে রাখা যায় না। মানুষ সবকিছুই দেখতে পাচ্ছেন, উপলব্ধি করছেন। আমি দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আহ্বান জানাতে চাই, আসন্ন পৌর নির্বাচনে বজ্জাত, খুনী, বদমায়েস, দাম্ভিক, ক্ষমতাদর্পী ও দাগী অপরাধীদের অপতৎপরতা অগ্রাহ্য করে নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করতে হবে। ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। সরকারি দুঃশাসনে সৃষ্ট সকল চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে দেশব্যাপী পৌর নির্বাচন ও ২০১৩ সালে ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সশব্দ পরাজয়ের গ্লানি মেটাতে গিয়ে পরবর্তীতে সকল নির্বাচনে বন্দুক, গুম, ককটেল ও বোমার ওপর নির্ভর করছে। দেশের মানুষের কাছ থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তাদের যে নির্মম পরাজয় হয়েছে সেটি তারা কখনই বিশ্বাস করতে চায় না। তাই এখন নির্বাচনগুলোয় দখলদারিত্ব বজায় রাখছে।’
রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের যে আধুনিক কনসেপ্ট, সেটিকে বিকৃত করে তারা রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলবাজি টিকিয়ে রাখছে সমাজবিরোধী গ্যাংয়ের মতো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর তাদের নিষ্ঠুর আচরণ এতবেশি তীব্রতর হয়ে উঠেছে যে, মনে হয় তারা গণতন্ত্রের ছাইভস্মও অবশিষ্ট রাখবেন না। সরকারপ্রধান ও তার সহকর্মীদের অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য, দুর্নীতি ও মানুষকে ক্ষমতার দম্ভে হেয় করার প্রবণতা অতীতের সকল মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।’
‘২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর শাসক দলের বেআইনি গুম-খুনের কর্মসূচি বর্তমানে অপহরণ, ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মহাউৎসবে পরিণত করা হয়েছে। আর এসব অপকর্ম-অপকীর্তিতে পারদর্শী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, দলের ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাছাইকৃত লোকজনদের উৎসবভাতাও দেওয়া হচ্ছে’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘এখন দেশজুড়ে চলছে এক ভয়াবহ দুর্দিন। সমালোচনাকে সহ্য করার কোনো ঐতিহ্য নেই আওয়ামী লীগের। গণতন্ত্রস্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকার ও বিরোধী মতের প্রতি জন্মান্ধ বিরোধিতা আওয়ামী লীগের। তাই যে কোনো বিরোধিতা ও সমালোচনা দমন করতে সরকার এখন ফেরাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন একটি নিষ্ক্রিয় ডাকঘরে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ অসংখ্য অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ও নিশ্চুপ থাকে। এই নতজানু ভূমিকার জন্য ছি ছি করছে মানুষ। কমিশনের এই ভূমিকার কারণেই লক্ষ্মীপুরবাসী তাহের আতঙ্কে ভুগছে। ফেনীর নিজাম হাজারীর লোকেরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দিয়ে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নড়াইলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়েরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here