বিজয় দিবসে বিশেষ নিরাপত্তা

0
7

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): সুশৃঙ্খল পরিবেশে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীজুড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার ও ডিবির স্পেশাল ওয়েপনস অ্যাটাক টিম (সোয়াট) দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনে এ বাহিনীগুলোর বম্ব ও ডগ স্কোয়াডও মাঠে থাকবে।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করবেন। তাই দেশের চলমান পরিস্থিতি নজরে রেখে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপয়েন্ট বসাবে র‌্যাব। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভে বিজয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, রমনা, মৎসভবন ও হাইকোর্ট এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। লাগানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মো. মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এছাড়াও যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে টহল দিবে পুলিশ।
বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে সেখানে নেওয়া হয়েছে চার স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইসঙ্গে সাভার ও আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধমুখী সড়কগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। স্মৃতিসৌধ এলাকাকে আনা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) নাজমুল হাসান ফিরোজ জানান, বিজয় দিবস উদযাপনের বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই স্মৃতিসৌধ ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকার বাড়িগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এ এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ির বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা সংগ্রহ করা হয়েছে। সন্দেহজনক যেকোনো কিছু নজরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বিষয়ে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) মীর রেজাউল আলম জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকছে ভেন্যু কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অঞ্চল ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকছে পুলিশের চেকপোষ্ট। এছাড়াও রাজধানীর প্রতিটি জনসমাগম স্থলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নজরধারী।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় কিছু অনুষ্ঠান ছাড়াও রাজধানীর বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং করার জন্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাইরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অনুষ্ঠানগুলো শুধু মনিটরিং করাই নয়, সেগুলো সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড করাও হবে। সিসিটিভি লাগানোর কাজে পুলিশের সঙ্গে সহযোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও কাজ করবে। ঢাকার অনুষ্ঠানে থানাভিত্তিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে। যে সব অনুষ্ঠানে যত সংখ্যক ফোর্স দরকার সেখানে সেভাবেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমু জানান, বিজয় দিবসে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে জন্য র‌্যাব সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়াও র‌্যাবের বোম্ব ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here