যশোর ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

0
5

 যশোর,চাঁপাইনবাবগঞ্জ(বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): যশোরে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর হাটে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মিলন নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মিলন (২২) সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর হাটের আবদুস সালামের ছেলে।
ওদিকে যশোর উপজেলার রহমতপুরে ও অভয়নগর উপজেলার রানাগাতি শ্মশানাঘাট এলাকায় ২টি কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। যশোর সদর উপজেলার রহমতপুরে বুধবার ভোর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ওয়ান শুটারগান এক রাউন্ড গুলি, কয়েকটি গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে।
যশোর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল খায়ের জানান, একদল ডাকাত যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের রহমতপুর মোড়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবর পেয়ে রহমতপুরে গিয়ে তারা সড়কে ওপর গাছের গুঁড়ি দেখতে পান। আবুল খায়ের দাবি করেন, পুলিশের গাড়ি দেখে ডাকাতরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এসময় পুলিশ ও পালটা গুলি ছোড়ে। গুলিতে এক ডাকাত লুটিয়ে পড়ে ও অন্যরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ডাকাতকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের নাম-ঠিকানা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি থানার ওসি শিকদার আক্কাছ আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি, তিনটি গাছিদা, গাছ কাটার করাত ও ৪০ হাত লম্বা দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন
, ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে আহত হন এসআই তোফায়েল আহমেদ, কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম ও রাসেল। তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
অপর দিকে, যশোরের অভয়নগর দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপর মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় বিদ্যুৎ কুমার রায় নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতের দিকে অভয়নগরের রানাগাতি শ্মশান ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন ঘটনাটি সাজানো।
অভয়নগর থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, নিহত বিদ্যুৎ অভয়নগর এলাকার চরমপন্থি গ্রুপ তুরা-নসো বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরকসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। ওসি বলেন, ভোর রাতের দিকে স্থানীয় জিয়া বাহিনীর সঙ্গে তুরা-নসো বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তুরা-নসো বাহিনীর প্রধান বিদ্যুৎকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও গুলির তিনটি খোসা উদ্ধার করে।
র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাস্পের কমান্ডার এএসপি অলক বিশ্বাস জানান, বুধবার রাত আড়াই টার দিকে র‌্যাবের একটি টহল দল চকআলমপুর এলাকায় পৌছলে র‌্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এসময় র‌্যাব সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা রামচন্দ্রপুর হাট এলাকায় একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এবং সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, র‌্যাবের গুলিতে, নাকি সন্ত্রাসীদের গুলিতে মিলন নিহত হয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারেনি র‌্যাব কর্মকর্তা। মিলনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তবে, মিলনের মা ফিরোজা বেগম জানায়, মিলন ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। মিলনকে ১৩ দিন আগে ঢাকার মিরপুর থেকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যায়। বুধবার সকালে স্থানীয়দের কাছে জানতে পারে মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। সে কৃষ্ণগেবিন্দপুর কলেজের ছাত্র ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here