‘১৯৫ পাকিস্তানি সেনার বিচারের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে’

0
11

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): একাত্তরে গণহত্যার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই করা সম্ভব বলে মনে করেন, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিচারের বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।
শনিবার সময় টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ সব অপরাধেই অভিযুক্ত ছিলেন বাংলাদশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার মূল হোতা পাকিস্তানের ১৯৫ জন সেনা কর্মকর্তা। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তির আওতায় এই যুদ্ধাপরাধীদের তুলে দেয়া হয় পাকিস্তানের হাতে। তবে শর্ত ছিল পাকিস্তান তাদের বিচার করবে।
পাকিস্তান এ শর্ত তো মানেনি বরং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর নেতাদের বিচার কার্যক্রমের শুরু থেকেই বিচারকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় এসেছে গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ১৯৫ জনকে বিচারের মুখোমুখি করার।
প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি যতক্ষণ আমাদের দেশে আইন হিসেবে সংসদে পাস সেটি আমার আইন নয়। যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করা হচ্ছে সেটি আমার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।’
চুক্তি হলেও বাংলাদেশেই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্ভব বলে এরই মধ্যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাবেক আইনমন্ত্রীও একমত আদালতের এ মতামতের সাথে।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘১৯৫ জন যে যুদ্ধাপরাধী ছিল তাদের ছেড়ে দেয়ার সময় বলা হয়েছিল যে পাকিস্তান তাদের বিচার করবে। কিন্তু তারা সেটা করেনাই। তাদেরকে এখনও আমাদের ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে। কারণ আমাদের ট্রাইব্যুনালের আইন অত্যন্ত পরিষ্কার।’
১৯৫ জনের অনুপস্থিতিতেই বিচার করে পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দেয়া উচিত অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন এই সাবেক মন্ত্রী।
আর মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মফিদুল হক মনে করেন, চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জনের বিচারের জন্য পাকিস্তানকে চাপ দেয়ার পাশাপাশি তাদের বিচারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বাংলাদেশকেই।
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘বিশ্ব সমাজকে নিয়ে আমাদের এই দাবিটা তুলতে হবে পাকিস্তানের কাছে। আর মানবসভ্যতার কাছে সেটা তুলে ধরতে হবে যে কি ঘটেছিল একাত্তরে এবং যারা এর জন্য দায়ী তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে না।’
এছাড়া একাত্তরে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও পাকিস্তানকে বিচারের সম্মুখীন করতে বাংলাদেশকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরামর্শ তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here