২৩৬ পৌরসভায় ১৯ বামদলের প্রার্থী ২৯

0
6

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সক্রিয় বামদলগুলোর অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। জোটের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া, তহবিল সঙ্কট, টিআইনএন (করদাতার সনাক্তকরণ নম্বর) নম্বরের বাধ্যবাধকতা ও প্রার্থী সঙ্কটের কারণে বামদলগুলোর করুণ চিত্র এবারের পৌর নির্বাচনে ফুটে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বামদল থেকে মেয়র পদে ১৫ জনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবর দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাজোটের ভেতরে ও বাইরে থাকা বামদলগুলো এবার সর্বসাকুল্যে ১৫ জনের বেশি প্রার্থী দিতে পারছে না।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরীক বামদলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও গণতন্ত্রী পার্টি।

১৪ দলের শরীক ৮টি বামদলের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী দিচ্ছে।

২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মাত্র সাতজন মেয়র পদে নির্বাচন করছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর কাঁটাখালী ও দূর্গাপুর, নাটোর পৌরপভা, মৌলভীবাজার পৌরসভা, বানারীপাড়া, মুলাদী পৌরসভা।

সংসদে দলীয় সাতজন সংসদ সদস্য থাকার পরও প্রার্থী সঙ্কটের বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে, অথচ সভা সমাবেশ করতে দেবে না। তাহলে নির্বাচন করব কীভাবে? ভোট করতে হলে তো মাঠে থাকতে হবে। এমপিদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। এজন্য অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আমাদের দল থেকে ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আশা করি এরা নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

তবে জাসদের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘জাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সারাদেশে ১৫ জনের বেশি হবে না।’

এদিকে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের ( এমএল) একজন প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা এই ধাপে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। তবে দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেবো।’

কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও গণতন্ত্রী পার্টি পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিতে পারছে না।

অন্যদিকে সরকারের বাইরে থাকা দ্বি-দলীয় জোট সিপিবি ও বাসদ থেকেও মাত্র পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদের জেলা নেতা নব কুমার কর্মকার সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।

দলের প্রার্থী না থাকার বিষয়ে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘আসলে আমরা সবাই তো অপ্রস্তুত। আমরা তো আর বুর্জোয়া দল নই। মেয়র নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ আর জমা দিতেই লাগে ৫০ হাজার টাকা। তাহলে নির্বাচন কীভাবে করব।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘যদি নির্বাচনের শুরুতেই অর্ধ লক্ষ টাকা লাগে তাহলে নির্বাচন করব কীভাবে। টিআইএন নম্বরের বাধ্যবাধকতাসহ নানা বিড়ম্বনার কারণে আমাদের চারজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবে।’

এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জেএসডি) পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারছে না। জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে আমরা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

রাজনীতিতে সক্রিয় ৮টি বামদলের জোট ‘গণতান্ত্রিক বামমোর্চা’ থেকে একজন মাত্র মেয়র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একমাত্র মেয়র প্রার্থী নেত্রকোণা সদর পৌরসভার সজীব সরকার রতন ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্র্টি’র নেতা। এই মোর্চা থেকে অন্য কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমাদের মোর্চায় আমরা নিবন্ধিত দল। এজন্য আমাদের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোর্চা সমর্থক বেশকিছু প্রার্থী থাকবেন।’

বামদলগুলো সঙ্কট প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নুরুল আমিন বেপারি বলেন,‘বামদলগুলোর প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন জমে উঠত। নির্বাচন কমিশন টিআইএন ও জামানতের টাকা কমিয়ে হলেও দলগুলোকে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করতে পারত। এভাবে সবকিছু অর্থনির্ভর হলে একসময় আদর্শবাদী রাজনীতি থাকবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here