৩ ঘণ্টার চেষ্টায় ডেকো এক্সেসরিজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

0
14

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ডেকো এক্সেসরিজ লিমিটেড কারখানায় লাগা আগুন প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এনেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কারখানাটির পলি ইউনিটের চারতলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেমিক্যালের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে সাভার, ধামরাই ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।

আগুন লাগার ঘটনায় কারখানার রাতের শিফটে কাজ করা শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারখানা থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় এবং আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন অন্তত ১০ শ্রমিক। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় জামাল ক্লিনিকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় ঢাকা থেকে আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। পরবর্তীতে সাতটি ইউটিটের চেষ্টায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে কেমিক্যালের গোডাউনে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অন্যদিকে আগুন লাগার পর পরই স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কারখানার ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও কর্তৃপক্ষের লোকজন ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়াসহ ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের আচরণ রহস্যজনক হওয়ায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিভে যাওয়ার পর মাত্র কয়েকজন সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, সকালে কেমিক্যালের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় কুণ্ডলী আকারের ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। কারখানার ভেতরে থাকা শতাধিক শ্রমিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত বের হতে গিয়ে এবং আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মোজাম্মেল হক জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন কর্মীরা। কারখানার একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য ছিল।

তিনি আরও জানান, পানিস্বল্পতার কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া কারখানার আশপাশে কোনো জলাশয় ছিল না। পরে ঢাকা থেকে আরও তিনটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলতে না পারলেও প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে কারখানার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রেজা মো. শিহাব উদ্দনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পরই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা যাবে। তবে বেশকিছু কেমিক্যাল ও পলিমার পুড়ে গেছে, যা হিসাব না করে বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে সকাল ৮টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এনভয় গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার নিচতলার গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই কারখানার নিজস্ব কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here