গাজীপুরে জোড়া খুন: মা-ছেলের ফাঁসি, বাবা-মেয়ের যাবজ্জীবন

0
4

গাজীপুর (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): গাজীপুরের কাপাসিয়ার স্বামী-স্ত্রী হত্যা মামলার রায়ে মা-ছেলের মৃত্যুদণ্ড এবং বাবা-মেয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।  বুধবার দুপুরে গাজীপুরের দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক ওই দণ্ডাদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সম্মানিয়া নয়াপাড়া এলাকার মো. রহমত আলী ওরফে রমুর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে মো. মোস্তফা (২৭)।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. রহমত আলী ওরফে রমুর (৫০) ও তার মেয়ে রহিমা বেগম (২৩)। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রহিমা বেগম পলাতক রয়েছেন।

গাজীপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম জানান, দণ্ডিতদের সঙ্গে একই এলাকার সুরুজ আলীর (৪২) জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর দুপুরে সুরুজ আলী বাড়ির পাশে তার জমিতে মেহগনি বাগানে গাছের পরিচর্যা করছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে দণ্ডিতরা দা, শাবল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ আলীর কাজে বাধা দেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজ আলীকে কুপিয়ে আহত করেন।

খবর পেয়ে সুরুজ আলীর স্ত্রী হনুফা বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করেন তারা। এতে সুরুজ আলী ঘটনাস্থলে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন হনুফা বেগম মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত সুরুজ আলীর ভাই শাহজাহান শেখ বাদী হয়ে ৮ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে কাপাসিয়া থানার এসআই মো. সানোয়ার জাহান ওই ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

সুরুজ আলী হত্যার ঘটনায় মামলায় আসামি মো. রহমত আলী ওরফে রমুকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক মাস সশ্রম কারাদণ্ড এবং আসামি মো. মোস্তফা ও আনোয়ারা বেগম প্রত্যেকে  মৃত্যুদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ হত্যা ঘটনায় রহিমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

হনুফা বেগম হত্যার ঘটনায় আসামি মো. মোস্তফা ও আনোয়ারা বেগম প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া আসামি মো. রহমত আলী ওরফে রমু তার মেয়ে রহিমা বেগমকে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি মো. হারিছ উদ্দিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান আকন তমিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here