প্রার্থী যাচাইয়ে আওয়ামী লীগ

0
10

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): পৌরসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চোখ রাখছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকারি দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল। প্রথমবারের মতো দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে
অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে জয়লাভের জন্য ইতিমধ্যে ছক কষতে শুরু করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠপর্যায়ে চলছে জরিপ। যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কিভাবে বেশি সংখ্যক ইউনিয়নর পরিষদে জয়লাভ করা যায় সে চিন্তাভাবনা নিয়ে এগুচ্ছেন নেতারা। এক্ষেত্রে বিগত পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল আশাবাদী করে তুলেছে তাদের। যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, ইউপি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। কেবল কেন্দ্র ও তৃণমূলে আলোচনা ও প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারা। দলীয় সূত্র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী মহল এবং তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো নির্দেশনা না দিলেও মৌখিকভাবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে পৌঁছে যাচ্ছে নির্বাচনী বার্তা। সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও মাঠে নেমে পড়েছেন। পার করছেন ব্যস্ত সময়। নিজ নিজ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা এরই মধ্যে তৃণমূল নেতাদের মৌখিক বার্তা ও দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা ও উপজেলা নেতারা বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি করছেন। কোন্দল ও সংঘাত এড়িয়ে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করে একক প্রার্থী বাছাই করা যায় তা নিয়ে কেন্দ্র ও তৃণমূলে চলছে আলোচনা। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। তবে, পৌরসভা নির্বাচনের মতো তৃণমূল মতামতের ভিত্তিতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই হবে- এমন ধারণা দিলেও এত বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন দলটির নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তারা বলছেন, এক্ষেত্রে তৃণমূলকে আরও বেশি দায়িত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতে পারে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একক প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুপারিশসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন তারা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কাজ শুরু হবে। তবে, ইতিমধ্যে তৃণমূলে নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা ও দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগ ও আমার নির্বাচনী (জয়পুরহাট) এলাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলেছি। তারাও মাঠে কাজ শুরু করেছেন। একক প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া কেন্দ্রের জন্য একটু কঠিন হবে। এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে তৃণমূলকে আরও বেশি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হতে পারে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভে দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল এখন উজ্জীবিত। নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসও এখন তুঙ্গে। তবে, একক প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে হানাহানি ও সংঘাতের বিষয়টি মাথায় রেখে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান নেতারা। তাদের ধারণা, এই নির্বাচনেও দল মনোনীত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয়লাভে সক্ষম হবেন।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক ও পরিচয়ে ইউপি নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে কিছুদিন ধরেই সরকারি দলের কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। নেতারা মনে করেন, এত বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীক ও পরিচয়ে তৃণমূলে কোন্দল, সংঘাত ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক আলোচনা শেষে দলীয় প্রতীকেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা আলাপকালে ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলে সংঘাত ও সংঘর্ষের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পৌর নির্বাচনে কিছু এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় প্রতীকে এত বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের পরে কোন্দল, হানাহানি ও সংঘাতের মতো সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে এখনও অনেক ধরনের আলোচনা চলছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা যেহেতু হয়নি তাই এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াসহ চূড়ান্তভাবে আমাদের কোনো প্রস্তুতি এখনও শুরু হয়নি।
এদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না পেলেও কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্যও তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কয়েকজন নেতা। ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মানবজমিনকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কেন্দ্র থেকে মৌখিক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগ, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে একক প্রার্থী বাছাই করার জন্য কেন্দ্র থেকে দিকনির্দেশনা পেয়েছি। একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সেভাবেই আমরা কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আমেজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও আমাদের কাছে আসছেন। যোগাযোগ রাখছেন। আমরাও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা করছি। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রব মুন্সী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে এমনিতেই নির্বাচনী আমেজ থাকে। এই এলাকার গ্রামগঞ্জে ইতিমধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না পেলেও আমাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার বেলাল বলেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনাও পেয়েছি। কেন্দ্র থেকে জেলা বা উপজেলা নেতৃবৃন্দ লিখিত ও সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না পেলেও একক প্রার্থী বাছাইয়ে পৌরসভা নির্বাচনের মতোই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে- এমন আভাস দিয়েছেন জেলার শীর্ষ নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here