সাতখুন: নুর হোসেনের মুক্তির দাবিতে হাজারো মানুষ রাজপথে

0
3

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): সেভেন মাডারের দুটি মামলার প্রধান আসামী নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেনের মুক্তির দাবীতে তার সমর্থক ও এলাকাবাসী ব্যাপক শো-ডাউন করেছে। তাদের সঙ্গে নুর হোসেনের স্বজনরাও উপস্থিত ছিল। সোমবার মামলার নির্ধারিত তারিখে ২১ আসামীর সঙ্গে নুর হোসেনকেও নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করা হয়। নুর হোসেনকে আদালতে আনার খবরে সকাল ৭টা থেকে আদালতের বাইরে নুর হোসেনের সমর্থক ও এলাকাবাসী তার মুক্তির দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেয়। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারীর কারণে তারা আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে আদালতের সামনে থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয় তারা। তবে নুর হোসেনকে আদালতে হাজির করার পর আদালত প্রাঙ্গনে প্রবেশে পুলিশি নিরাপত্তা শিথিল করা হলে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে নুর হোসেনের অনেক সমর্থক আদালত পাড়ায় ঢুকে পড়ে। তবে তারা কোন প্রকার বিশৃংখলা করেনি বলে জানিয়েছেন কোর্ট পুলিশের একাধিক সদস্য। নুর হোসেনের মুক্তির দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়া বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড শোভা পায়।
মুক্তির মিছিলে অংশ নেয়া এলাকাবাসী আব্দুল কাইয়ুম, আসাব উদ্দিন, রতন মোল্লা, পরিবহন নেতা রতন মিয়া, ফরহাদ মিয়া, সবুজসহ অনেকে বলেন, নুর হোসেন সম্পূর্ন নির্দোষ। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাতখুনের সঙ্গে জাড়ানো হয়েছে। শুধুমাত্র নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ থাকার কারণে নুর হোসেনকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ বিশ^াস করে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নুর হোসেন খালাস পেয়ে তাদের মাঝে ফিরে আসবে। তার উপর এলাকার হাজার হাজার মানুষে দোয়া আছে। সে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে দাখিল করা চার্জশিটের কোথাও প্রমান হয়নি নুর হোসেন এই হত্যাকান্ড করিয়েছে। তাই আমরা নুর হোসেনের মুক্তি দাবি করছি।
তারা আরো বলেন, নজরুলের সঙ্গে নুর হোসেনের রাজনৈতিক বিরোধ থাকার কারণে যদি নুর হোসেন সাতখুনের আসামী হয়। তাহলে নজরুলের শ^শুর শহীদ চেয়ারম্যানকেও আসামী করা উচিৎ। কারণ শহীদ চেয়ারম্যান নজরুলকে শায়েস্থা করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছিল। নজরুলকে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে সে এলাকায় মানববন্ধনও করে। নজরুল নিহত হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত জামাই-শ^শুরের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিল না। নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করিয়েছে শহীদ চেয়ারম্যান। শহীদ চেয়ারম্যানের মেয়ের জামাই হুমায়ন বাদী হয়ে নজরুলের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দাখিল করে। শহীদ চেয়ারম্যানের ছেলে শফিকুল ইসলাম তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এর কাছে নজরুলের একটি অডিও ক্যাসেট জমা দেয়। সেখানে সে বলে নজরুল তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছে। নজরুলকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়। এবং নজরুলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চেয়ে শফিকুল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডিও করেছিল। কিন্তু নজরুল নিহত হওয়ার পর বাপ-বেটা (শহীদ চেয়ারম্যান ও শফিকুল ইসলাম) লুটপাটের মহোৎসব শুরু করে সিদ্ধিরগঞ্জে। নজরুল নিহত হওয়ার পর প্রথম দিকে এলাকার সাধারণ মানুষের একটা সিমপ্যাথি ছিল নজরুলের ও তার পরিবারের প্রতি। বিচারের দাবিতে মানুষ সোচ্চারও হয়েছিল। কিন্তু শহীদ চেয়ারম্যান ও ছেলেদের লুটপাটের কারণে সেই সিমপ্যাথি চলে গেছে। ফলে কেউ আর তাদের সঙ্গে মাঠে নামছে না। উল্টো তাদের লুটপাটের কারণে নুর হোসেনের প্রতি সাধারণ মানুষের সিমপ্যাথি বেড়েছে। যার কারণে সোমবার তার মুক্তির দাবিতে কয়েক হাজার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।
ওদিকে সোমবার সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সমর্থকদের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। যেমনটা ছিল গত ২১ মাস। যদিও মামলার প্রত্যেক তারিখে নজরুলের শ^শুর শহীদুল ইসলামের নেতৃত্ব নজরুলের এলাকার কিছু সংখ্যক মানুষের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here