হজের খরচ বাড়ছে

0
16

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): গত দুই বছর স্থিতিশীল থাকার পর এ বছর হজের খরচ বাড়ছে। তবে হজ প্যাকেজ আগের মতো দু’টিই থাকছে। এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১-এ ৬ হাজার টাকা ও প্যাকেজ-২ এর ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার মতো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হজে গমনেচ্ছুদের জন্য ৩০ হাজার টাকায় চার মাস অগ্রিম নিবন্ধনের নিয়ম রেখে ‘হজ ও ওমরাহ নীতিমালা, ২০১৪’ সংশোধন করা হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত হজ প্যাকেজ ও সংশোধিত নীতিমালা অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে (১১ জানুয়ারি) এটি অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।

ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান  বলেন, ‘সোমবার হজ প্যাকেজ মন্ত্রিসভায় উঠবে বলে আশা করছি। এবার দু’টি প্যাকেজই থাকছে। দু’টি প্যাকেজেই খরচ আগের তুলনায় কিছুটা বাড়ছে। এগুলো আমাদের প্রস্তাব। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।’

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি হজযাত্রীদের জন্য এ দু’টি প্যাকেজ বেসরকারি হজযাত্র্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

গত বছর প্যাকেজ-১-এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৪ টাকা। অপরদিকে প্যাকেজ-২-এর মাধ্যমে খরচ হয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, এবার প্যাকেজ-১-এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অপরদিকে প্যাকেজ-২-এ ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর প্যাকেজের খরচ চূড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে খরচ পরিবর্তন হতে পারে।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত (চাঁদ দেখাসাপেক্ষে) হতে পারে। গত বছরের মতো এবারও কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজে যেতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

৩০ হাজার টাকায় চার মাস হজের নিবন্ধন

সংশোধিত হজ ও ওমরাহ নীতিমালায় অনুযায়ী, হজ গমনেচ্ছুরা ৩০ হাজার টাকায় বছরে চার মাস হজের অগ্রিম নিবন্ধন করতে পারবেন। গত ২৪ নভেম্বর ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ২০১৪ সালের হজ ও ওমরাহ নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানোর জন্য সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর অন্তর্ভুক্ত করে ‘হজ ও ওমরাহ নীতিমালা, ২০১৫’ চূড়ান্ত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের হজ শেষ হওয়ার দুই মাস পর থেকে নিবন্ধন শুরু হবে। চলবে চার মাস পর্যন্ত। এ সময়ে হজে যেতে ইচ্ছুক যে কেউ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন, এ জন্য ৫০০ টাকা নিবন্ধন ফিও দিতে হবে। টাকা জমা দিলে একটি নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে।

এরপর সরকার হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে টাকা পরিশোধের সময় বেঁধে দেবে। এ সময়ে অগ্রিম নিবন্ধনের ৩০ হাজার টাকা সমন্বয় করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধ করে হজযাত্রীরা একটি পিলগ্রিম আইডি পাবেন। এ আইডি পেলেই হজে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে।

অগ্রিম নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা যদি কোটার চেয়ে বেশি হয় তবে যিনি আগে নিবন্ধন করেছেন তিনিই আগে হজে যাবেন বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে যারা সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারবেন না তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি) দিয়ে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র, হজ এজেন্সির অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও হজ অফিস থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here