‘এসজিডিতেও অগ্রগামী থাকবো’

0
7

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন’বিষয়ক দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্পিকারদের শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে এসডিজি অর্জনের ওপর দক্ষিণ এশীয় স্পিকারদের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন শেষে ‘ঢাকা ঘোষণা’ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, আমরা অতি-দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। শহর এবং গ্রামীণ উভয় অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃসেবার মতো মৌলিক বিষয়ে আমরা অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও ৭ বছর ধরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপর ছিল। গত এক দশকে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ গুণের বেশি বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৮ গুণের কাছাকাছি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের মান অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।
সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ওই অর্জনের পর আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। এভাবেই আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। এই পথযাত্রায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। জাতিসংঘের উচ্চাভিলাষী ২০৩০ এজেন্ডার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি ২০৩০ এজেন্ডা হচ্ছে একটি সম্মিলিত পথপরিক্রমা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী স্পিকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব, সুশাসন, অন্তর্ভুক্তি, অংশগ্রহণ, অধিকার এবং নিরাপত্তা বিষয়ে আপনারা যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আমি সেগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় এসডিজির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন এবং সুস্বাস্থ্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তামাক নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত কনভেনশন এফসিটিসির বাস্তবায়ন। এসডিজির ১৭টি উদ্দেশ্য এবং ১৬৯টি লক্ষ্য পূরণই হবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পূর্বশর্ত। আমি মনে করি এফসিটিসির বাস্তবায়ন বিশেষভাবে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণে অপরিহার্য। প্রথমত, এফসিটিসি ছাড়া এসডিজির তৃতীয় উদ্দেশ্য ‘সুস্থ জীবনযাপন এবং সব বয়সের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা’ সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তামাক একটি বড় বাধা। তিনি বলেন, আমার সরকার জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এফসিটিসি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ২০১৩ সালে ধূমপান এবং তামাকজাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন এবং ২০১৫ সালে সংশ্লিষ্ট বিধি পাস করেছি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন বৈশ্বিক এজেন্ডার সঙ্গে মিল রেখে সম্প্রতি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে তামাক-সম্পর্কিত বিরূপ বিষয়গুলোর সুরাহা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে চাই।
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, মালদ্বীপের মজলিসের স্পিকার আবদুল্লাহ মাসেহ মোহামেদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here