না’গঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌযানে ডাকাতি, ১৫ নৌ শ্রমিককে কুপিয়ে জখম

0
5

 নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় শাহ সিমেন্টের বিপরীতে মঙ্গলবার ভোরে এবার নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল তিনটি বাল্ক হেডের অন্তত ১৫ জন শ্রমিককে কুপিয়ে নগদ অর্থ, মোবাইল ও জাহাজের তেলসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়েছে ডাকাতদল।
আহতদের নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নৌ পুলিশের টহল ব্যবস্থা থাকলেও নৌ ডাকাতির ঘটনায় নৌ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত নৌ-শ্রমিকরা হলো সমুদ্র বিলাশ বাল্কহেডের সুকানী মোঃ জাকির খলিফা, ড্রাইভার নাসির আকন্দ, লস্কর মোঃ বেলাল, মোঃ শাকিল, বাবুর্চি মোঃ বিল্লাল, এমভি ইদ্রিস মোল্লা বাল্কহেডের মাষ্টার আলামিন, ড্রাইভার শরীফ উদ্দিন, সুকানী ইমরান, লস্কর ইমরান, লস্কর নাঈম, বাবুর্চি নেছারউদ্দিন, এমভি মাওলার মহাব্বত বাল্ক হেডের সুকানী কবির হোসেন, গ্রীজার সাইদুল, লস্কর বাবুল ও মিজান।
আহত সুকানী মোঃ জাকির খলিফা জানান, রাতের বেলা চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় তারা শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় শাহ সিমেন্টের বিপরীতে নৌযানটি নোঙর করেছিলেন। মঙ্গলবার ভোর ৫ টার দিকে ১০/১৫ জনের ডাকাতদল হামলা চালায়। ডাকাতদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও প্রত্যেকের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। এর মধ্যে দু’জন ছিল মুখোশধারী। তারা আমাদের কুপিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা, ৬টি মোবাইল, ২০০ লিটার জাহাজের তেলসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়েছে।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবজ শিকদার বলেন, শীতলক্ষ্যা মেঘনা ও ধলেশ্বরী এই তিন নদীর মোহনা চর কিশোরগঞ্জ ও চর হোগলা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতেই দীর্ঘদিন ধরে নৌ-চাঁদাবাজরা হামলা চালিয়ে নৌযান শ্রমিকদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছিল। তিন নদীর মোহনাসহ ১২টি পয়েন্টে বালুমহালের ইজারার টোকেন কাটার নামে নৌ-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি দাবিতে এবং নৌ-ডাকাতি ও সন্ত্রাস বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নৌ পুলিশের ডিআইজি বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও গত ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে ৭ দফা দাবিতে আমরা কর্মবিরতি পালন করি। পরে প্রশাসনের আশ^াসে আমরা কর্মবিরতি পালন করি। ওইসময় প্রশাসন নৌযান শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলা হলেও তারা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ও তিতইতলা ঘাটে কয়েকদফা নৌযান শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়া হয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার ভোরে আবারো শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় দুর্ধর্ষ নৌডাকাতির ঘটনা ঘটলো। নৌশ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন নদীর মোহনা চর কিশোরগঞ্জ ও চর হোগলা এলাকায় নৌচাঁদাবাজি রোধে ওই এলাকায় মুক্তারপুর নৌফাঁড়ি পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক একটি টহল টিম মোতায়েনের কথা ছিল। কিন্তু টহল টিম থাকার পরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলো। রাতের বেলায় টহল টিমের নিস্ক্রিয়তার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে নৌযান শ্রমিকরা।
নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোঃ শাহ আলম জানান, নৌযান শ্রমিকদের কুপিয়ে ডাকাতির বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here