ফুল ছেঁড়াই কাল হলো আঁখির

0
6

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : গ্রাম থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। গ্রামের কোথাও ফুলের দোকান নেই। রাত পোহালেই ২১শে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মালিগাও এলাকার ভগদগাজি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আঁখিসহ ৪ বান্ধবী শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফুলের দোকান না থাকায় পাশের বাড়ির একটি বাগানে ফুল তুলতে যায় শহীদ মিনারে দেওয়ার জন্য।

ওই বাগানের মালিক নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী দেখে ফেলেন ফুল তুলতে। খুব রাগারাগি করেন আখিঁসহ ৪ বান্ধবীর সঙ্গে। বকা খেয়ে তারা চলে যায় সেখান থেকে। কিছুক্ষণ পর বাগান মালিক নাসিরুল আঁখির বাসায় গিয়ে আরো গালিগালাজ শুরু করেন। গালাগাল শেষে তিনি চলে যাওয়ার পর অভিমানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে আঁখি। সবাইকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। আর কোনো দিন শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হবে না তার। আঁখির আত্মহত্যায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আত্মহত্যা করে আঁখি। সে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মালিগাও এলাকার কাবুলের মেয়ে। ভগদগাজি উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল আঁখি।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, বাগান মালিক নাসিরুল গালিগালাজ করে চলে যাওয়ার পর আঁখি গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের লোকজন আঁখির ঘরে ঢুকতে চাইলে সারা না পেয়ে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে আঁখির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

আখির বাবা কাবুল আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েটি তো শুধু কয়েকটি ফুলই তুলেছিল। তার জন্য এত গালিগালাজ! সে কারণেই আঁখি আমাদের মাঝ থেকে চিরতরে চলে গেল।’

বাগান মালিক নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বাগান করতে অনেক খরচ লাগে। মেয়েগুলো আমাদেরকে না জানিয়ে ফুল তুলেছে। তাই একটু বকাবকি করেছি মাত্র। এতটুকু কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে না।’

স্থানীয় চেয়ারম্যান দবিরুল ইসলাম আঁখির আত্মহত্যার কথা নিশ্চিত করে বলেন, বেশি আবেগের কারণে এমনটি ঘটেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। তার আত্মহত্যার কারণ এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here