হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যার নেপথ্যে

0
3

হবিগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):  হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রদিঘী গ্রামে আটটি পঞ্চায়েত রয়েছে। এরমধ্যে বড়ই গাছ কাটা নিয়ে বাঘাল পঞ্চায়েত ও তালুকদার পঞ্চায়েতের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনায় মাসখানেক পূর্বে দুই পঞ্চায়েতের মধ্যে ঝগড়া হয়।

এরই মধ্যে ৫ দিন আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাড়ির পাশে খেলা করছিল তালুকদার পঞ্চায়েতের শিশুরা। এরমধ্য থেকে উপজেলার সুন্দ্রাদীঘি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সুন্দ্রাদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে সুন্দ্রাদিঘী মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাইল হোসেন (১০) নিখোঁজ হয়।

এরপর থেকে অনেক স্থানে তাদের সন্ধান পেতে খোঁজ-খবর নেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। থানাতেও জানানো হয়। তারপরও কোনো ফল আসছিল না।

যদিও মঙ্গলবার সুন্দ্রাদিঘী গ্রামে গিয়ে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। এ সময় তাদের (নিখোঁজ) সন্ধানে তিনি ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন। অবশেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নিহতদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাদীঘি গ্রামের কুমারপাড়ার পাশের কামাইছড়া নদীর ইছাবিলে বালুর নিচ থেকে নিখোঁজ ৪ শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিতহদের স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা এসব তথ্য জানা গেছে।

গ্রামবাসী জানান, ইছাবিলে বুধবার সকালে এক শ্রমিক বালুর নিচে গর্ত অবস্থায় লাশগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে বাহুবল থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে আসে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ৫ দিন পর নিখোঁজ শিশুদের লাশ পাওয়ার খবরে ছুটে আসেন সিলেটের জিআইজি মিজানুর রহমান, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, সিআইডি, ডিবি, র‌্যাব সদস্যরা।

গ্রামবাসী জানান, গ্রামের আট পঞ্চায়েতের মধ্যে তালুকদার পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাজি মাস্টার আব্দুল খালেক। অপরদিকে বাঘাল পঞ্চায়েতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্দুল আলী বাঘাল চৌকিদার। এ ঘটনার পর থেকে বাঘাল পঞ্চায়েতের নেতৃত্বদানকারী আব্দুল আলী বাঘাল চৌকিদারসহ তার লোকেরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

নিহতের চাচাতো বোন আসফিয়া আক্তার বিলাপ করে বলেন, ওরা আমার ভাইদের মেরে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরে নিয়ে আসুন। বিচার করুন। আমরা র‌্যাবের কাছে তাদের (হত্যাকারীদের) ব্যাপারে বলেছি। এ সময় নিহতদের বাড়ির আশপাশে সিআইডি, ডিবি, র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান করছিল।

হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুলিশের সিলেট বিভাগের ডিআইজি মিজানুর রহমান বলেন, প্রকৃত ঘটনা বের করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। অবশ্যই হত্যাকারীদের বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত মনিরের বাবা আবদাল মিয়া জানান, মাসখানেক আগে বড়ই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আব্দুল হাই বাঘালের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে শুক্রবার তার ছেলেসহ ওই চার শিশুকে বাচ্চু মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যান আব্দুল আলী বাঘাল। টের পেয়ে তিনি ওই দিনই বিষয়টি পুলিশকে জানান। কিন্তু পুলিশ তাদের উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে বাড়ির প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বালুগর্তে চার শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেল। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মদ্দছির মিয়া বলেন, এ হত্যার বিচার চাই। যারাই এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তাদের গ্রেফতার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন শনিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহত জাকারিয়া আহমেদ শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া বাহুবল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু এতে পুলিশ তেমন একটা ভূমিকা নেয়নি।

পরে বুধবার সকালে বাহুবল উপজেলার  সুন্দ্রাদীঘি গ্রামের কুমারপাড়ার পাশের কামাইছড়া নদীর ইছাবিলে বালুর নিচ তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here