আলভী-অরনীর মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

0
4

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে ঘটনার সময় তাদের মা বাসায় ছিলেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

খাদ্যের বিষক্রিয়ায় ওই দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও হত্যার আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকরা। রোববার রাতে আলভী আমান (৬) ও নূসরাত জাহান অরণীকে (১৪) হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে এর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন রামপুরা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সোলায়মান মোল্লা। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, ঘটনার ব্যাপারে শিশুদের বাবা আমান উল্লাহসহ পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারা ঘটনার কারণ জানাতে পারেননি। তবে ঘটনার সময় তাদের মা জেসমিন আক্তার বাসায় ছিলেন। তিনি গ্রাম থেকে ফিরে আসলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এক প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অনেক কিছু ধারণা করা হচ্ছে। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। তাদের শ্বাসরোধে না আঘাতে হত্যা করা হয়েছে, সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, শিশু দুটির শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুই শিশুর গলায় হাতের আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নয়, আঘাতজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশু দুটিকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না বা কোনো বিষক্রিয়া ছিল কি না- সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে কিছু নমুনা মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

দুই ভাই-বোনের মা জেসমিন আক্তার ঘটনার দিন রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসলেও গাড়ি থেকে নামেননি। সন্তানদের লাশ নিতেও আসেননি।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, পিতা আমান উল্লাহ অনেকদিন ধরে পোশাক ব্যবসা করেন। দুই মাস আগে ভাড়ায় ওই বাসায় ওঠেন। মঙ্গলবার দুপুরে ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও কোনো নিকটাত্মীয়কে দেখা যায়নি।

দুপুরের দিকে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। তাদের বাবা-মা কেউ লাশ গ্রহণ করেননি। চাচা আবুল হোসেন তাদের লাশ গ্রহণ করেন। লাশ দুটি জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

অরণী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও আলভী হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল।

সোমবার রামপুরা বাসায় তারা ঘুমিয়ে ছিল। সন্ধ্যার দিকে ঘুম থেকে না উঠলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবার খাওয়ার পর তারা ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পরও তারা ঘুম থেকে উঠছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here