ঢাকায় নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা শূণ্য : পবা

0
4

স্টাফ রিপোর্টার (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর পানি দূষণে ঢাকা মহানগরীর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হুমকির সম্মুখীন। প্রতিদিন এ মাত্রা বেড়েই চলেছে। নদীর অধিকাংশ স্থানের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা শূণ্যের কোঠায় বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত পবার একটি বিশেষজ্ঞ দল নদীর দূষণ পরীক্ষা ও দখল-ভরাট পর্যবেক্ষণ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরী করেছে। রাজধানীর কলাবাগানে সোমবার (৭ মার্চ) পবা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এ সময় পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পবার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সমন্বয়কারী আতিক মোরশেদ, পল্লীমা গ্রীণের সদস্য সচিব আনিসুল হোসেন তারেক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পবার একটি বিশেষজ্ঞ দল চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ ৪টি নদীর দূষণ পরীক্ষা ও দখল-ভরাট পর্যবেক্ষণ করে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর প্রায় অধিকাংশ স্থানের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা শূণ্যের কোঠায়। নদীর দূষিত পানি ব্যবহারের অনপুযোগী হওয়ায় পানির প্রয়োজন মেটাতে আমরা নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছি। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ১০ ফুট করে নীচে নেমে যাচ্ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ত পানি উজানে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী দূষণমুক্ত ও পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা না হলে এবং বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে পানির অভাবে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এখনই সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া নদীগুলোর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকায় মৎস্য ও জলজ প্রাণীর বিলুপ্তিসহ নদীগুলো মৃত প্রায়। ঢাকা মহানগরী ও আশেপাশের টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ এলাকার পয়: ও গৃহস্থালী বর্জ্য, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের কঠিন বর্জ্য, হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত ট্যানারীসমূহের বর্জ্য, শিল্প কারখানার বর্জ্য বিশেষ করে টেক্সটাইল ডাইয়িং কারখানা, নৌযান নির্মাণ, মেরামত ও রংকরণ, নৌযান থেকে নির্গত তেল এবং নৌযানের বর্জ্য নদী দূষণের অন্যতম কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এদিকে ঢাকা মহানগরীতে পয়বর্জ্যের পরিমাণ ১৪ লাখ ঘনমিটার। এর মধ্যে পয়বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন পাগলা পয়বর্জ্য পরিশোনাগারের মাধ্যমে মাত্র ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করছে। বাকি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত অবস্থায় সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানির গুণগত মানের অবনতিসহ মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি, শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার অনুপযোগী হচ্ছে। আর জীবানুজনিত দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, নতুন পয়বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন, গৃহস্থালী বর্জ্য পানি প্রবাহে ফেলা থেকে বিরত থাকা, ট্যানারিগুলো জরুরীভিত্তিতে স্থানান্তর, বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন ও বর্জ্য পরিশোধন করা, শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোনাগার স্থাপন ও নিয়মিত তা পরিচালনা করা, নৌযানের ডিজাইনে বর্জ্য সংরক্ষণ বা ধারণ করার স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা, বিআইডব্লিউ কর্তৃক নৌযানের বর্জ্য সংগ্রহকরণ ও তা পরিশোধণপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা করা, নৌযানের বর্জ্য ও তেল নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকা, সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here