‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বাদ দিলে আন্দোলনের হুমকি হেফাজতের

0
3

চট্টগ্রাম (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): ‘রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্মকে বাদ দেওয়া হলে সাধারণ জনতাকে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারির কথা জানান সংগঠটির নেতারা।

তারা বলেন, আদালত যদি রিটের পক্ষে রায় ঘোষণা করে তাহলে এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আমরা এই রিটের প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করবো।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

আগামী ২৫ মার্চ শুক্রবার সারাদেশে জুম্মার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে করা একটি রিটের শুনানি আগামী ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘এভাবে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেওয়ার জন্য হাইকোর্টে রিট করা উদ্দেশ্যমূলক। আগেও এই নিয়ে একাধিক রিট হয়েছিল। তবে তা খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু এবার কেন এই রিট শুনানির জন্য নেওয়া হলো তা বোধ্যগম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষই চায় ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বজায় থাকুক। নাস্তিকরা এই নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এদের উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ধর্মকে বাদ দিয়ে এই দেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা।’

‘দেশের মানুষকে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে’, বলেন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি থাকবে না সেটা মানুষের মতামতের বিষয়। প্রয়োজনে এই নিয়ে দেশে গণভোটের আয়োজন করা হোক।’

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অর্ন্তভুক্ত। খ্রীষ্টান ধর্মও অনেক দেশে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। সেইসব দেশেতো সংখ্যালঘু কিংবা ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

তারা বলেন, ‘হাইকোর্টের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যদি রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে বাদ দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র হয় তবে এটা ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে সরকারকে বিব্রত করার একটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারকে জনগণের ম্যানডেট বুঝতে হবে, জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। এটা একটা ধর্মীয় ইস্যু, এই ইস্যুতে বাংলাদেশের মুসলমান কোনো ছাড় দেবে না। সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে। নামাজ, রোজা, হজ না করতে পারে, কিন্তু ইসলাম ধর্মের ওপর আঘাত সহ্য করতে পারে না। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও ইসলামকে ধারণ করবে।’

নেতারা বলেন, ‘আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম ও ধর্মপ্রিয় মুসল্লিরা ক্ষমতার ভাগাভাগি হতে চায় না। রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার ধার ধারে না। তারা ইসলাম নিয়ে মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায়। কোনো নাস্তিক-কুলাঙ্গার যদি মুসলমানদের ধর্মীয় রীতি-নীতি বিশ্বাসে আঘাত করতে চায় তবে তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সারাদেশের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে প্রতি মহল্লায়-মহল্লায়, থানা-উপজেলা থেকে প্রতিরোধের দাবানল জ্বলে উঠবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা মহিবুল্যাহ বাবুনগরী, যুগ্মমহাসচিব মাইন উদ্দিন রুহি প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here