এবার পুলিশ পিটিয়ে বিতর্কে উপমন্ত্রী জয়

0
4

আশুলিয়া (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : আবারো বিতর্কে জড়িয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। এবার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে গেল বছর নভেম্বরে নিজ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম-সচিবের কক্ষ ভাঙচুর করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক এই ফুটবল তারকা।

গতকাল শনিবার (২ এপ্রিল) আশুলিয়া থানার এক এসআইকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় আশুলিয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কেউ মিডিয়ায় কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনাটি পুলিশের পক্ষ থেকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের তৎপরতায় বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়।

সাধারণ ডায়েরিতে (৬৬নং) ওই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, শনিবার (২ এপ্রিল) ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় তার ব্যক্তিগত গাড়ি ( ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-১০৮৩) নিয়ে ঢাকা আসার পথে আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় গাড়ি আইল্যান্ডের ওপর উঠে পড়ে। এসময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার সাহা এগিয়ে গেলে তাকে উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করেন ও শাসান। এসময় উপমন্ত্রী পুলিশের উপপরিদর্শককে (এসআই) বলেন, ‘তুই কেন আমাকে নিরাপত্তা দিতে আসছিস? আমি কি তোর কাছে নিরাপত্তা চাইছি। তুই কি আমার নিরাপত্তা দিবি? তুই কয়টা গুলি করতে পারিস, আর আমি কয়টা গুলি করতে পারি তুই দেখবি?’

তিনি আরো লিখেন, ‘আমি তথাপিও আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথা বললে, উনি আমার অনেক ক্ষতি করে ফেলবেন এবং পেছনে আসলে আমার চাকরি খেয়ে ফেলবেন বলে শাসিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গাড়ি রেখেই নবীনগরের দিকে দৌড় দেন। আমি ও সাভার থানার অফিসার উনার পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেই মোবাইল ফোনে ওসি স্যারকে (আশুলিয়া থানা) বিষয়টি জানাই। ওসি স্যার যে কোনো অবস্থায় উনাকে নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দেন।’

এরপর উপমন্ত্রী মহোদয় নবীনগর ফ্লাইওভারের কাছে গিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী খালেক পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব ১১-৬৮-৪২ এর সুপারভাইজারকে ধাক্কা মেরে বাসে উঠে যান বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। তিনি জিডিতে লেখেন, ‘বিষয়টি ওসি স্যারকে জানালে তিনি বাসে উঠে ভিআইপি নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দেন। আমি সরকারি গাড়ি নিয়ে উনার পিছে পিছে যাওয়া শুরু করি। বিএলআর এর গেইটের সামনে থামামাত্র আমি বাসে উঠতে গেলে উপমন্ত্রী মহোদয় আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।’

পরে উপমন্ত্রী গাবতলী পৌছে বাস থেমে নেমে সিএনজি যোগে মিরপুর মাজার রোডের দিকে চলে যায়। পরে এসআই ময়ল সাহা আশুলিয়া থানায় ফিরে আসেন।

এরপর গণমাধ্যম থেকে মুঠোফোনে এসআই মলয় সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি না করার জন্য অনুরোধ জানান।

এ দিকে আশুলিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাসীনুল কাদীর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। তবে খানার জিডি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। এছাড়া এবিষয় আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

উপমন্ত্রীর গাড়িটি পরে রেকার দিয়ে সরানো হয়। পরে তার চালক এসে গাড়ি নিয়ে যান।

ঘটনার পর গতকাল শনিবার বিকেলে এসআই মলয় কুমার সাহা আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এর আগে যুগ্মসচিবের কক্ষ ভাঙচুর ও ২০১২ সালে টিম কর্মকর্তা হিসেবে মাঠে একবার পিস্তল হাতে ঢুকে সমালোচিত হয়েছিলেন আরিফ খান জয়। অবশ্য সেই অস্ত্রটির লাইসেন্স করা ছিল। তবে বৈধ হোক কিংবা অবৈধ যে কোনও অস্ত্র নিয়ে মাঠে প্রবেশ করা ফিফার দৃষ্টিতে অবৈধ।

এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীও ডেকে তাকে ভর্তসনা দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে এসব কর্মকাণ্ড না করতে সতর্ক করে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here