লাশটি দৃক গ্যালারির কর্মকর্তা ইরফানুলের

0
10

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): তিন লাখ টাকার জন্যেই রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক গ্যালারির কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলামকে (৪৯) খুন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ, সহকর্মী ও নিহতের স্বজনরা। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় থেকে ইরফানুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় অজ্ঞাত থাকলেও রোববার সকালে তার পরিবার সনাক্ত করে।

নিহত ইরফানুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার মৃত মাহবুবুল ইসলামের ছেলে। ছেলে ইফতেখারুল ইসলাম ও স্ত্রী জোহোরা বেগমকে নিয়ে তিনি রাজধানীর জিগাতলা বনশ্বর রোড এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে বিগত ১৮-২০ বছর ধরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

লাশ উদ্ধারকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন  জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় ফিরোজ ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের পকেটে কোনো ধরনের কাগজপত্র, মোবাইল বা পরিচয় সনাক্ত করার মত কিছুই ছিল না। পরণে ছিল হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা পাজামা। তবে গলায় ও গালে জখম ছিল।

তিনি আরও জানান, রোববার সকালে নিহতের পরিবারের লোকজন পরিচয় সনাক্ত করে। ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।

ইরফানুলের বড় ভাই ইমদাদুল ইসলাম  জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে ইরফানুল ইসলাম দৃক গ্যালারিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে হিসাব বিভাগও তদারকি করতেন। ইরফানুলের কোনো শত্রু বা কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না। তাই তারা কাউকে সন্দেহ করতে পারছেন না। তিন লাখ টাকার জন্য এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

দৃক গ্যালারির জেনারেল ম্যানেজার এসএম রেজাউর রহমান জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অফিসের একটি প্রাইভেট কারে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে তিন লাখ আট হাজার টাকা উত্তোলন করে ইরফানুল। অনেক সময় ধরে তিনি গাড়িতে না আসায় চালক নাসির মিয়া ব্যাংকে যান। তবে ভেতরে গিয়ে তাকে না পেয়ে বিষয়টি অফিসে জানান। পরে কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান জানান, নিহতের মাথায়, বুকে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাফতউল্লাহ জানান, পুরো ঘটনাটি তারা তদন্ত করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here